দেশীয় অস্ত্র ও বহিরাগতদের নিয়ে ডাকসু ভিপি নুরুল হক মারামারিতে জড়িয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন জিএস গোলাম রাব্বানী। নুর আহত নাকি নিহত হয়েছেন, ডাজ নট ম্যাটার (নুরের বাঁচা-মরায় কিছু আসে যায় না) বলেও মন্তব্য করেন তিনি। আজ রোববার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু চত্বরে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি। একইসঙ্গে ভিপি নুরকে আর ডাকসুতে ঢুকতে দেবে না বলেও জানান তিনি।
ভিপি নুর নিজের দুর্নীতি ঢাকতে বহিরাগতদের নিয়ে ডাকসুকে ব্যবহার করে অরাজকতা করছেন বলেও অভিযোগ তুলছেন রাব্বানী। এছাড়া ভিপি নুর পদত্যাগের মাধ্যমে ডাকসু শান্ত হবে বলেও জানান তিনি।
এদিকে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে আহত ডাকসু ভিপি নুরুল হককে দেখতে গিয়ে তোপের মুখে পড়েছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলী সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক। রোববার রাত ৮টার দিকে হাসপাতালে নানক প্রবেশের সময় ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের নেতা-কর্মীরা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানায়। এসময় হামলাকারী ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীদের দ্রুত বিচারের দাবি জানায় তারা।
এক পর্যায়ে নানকের সঙ্গে থাকা আওয়ামী লীগ নেতা আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বিক্ষোভকারীদের শান্ত করার চেষ্টা করেন। তিনি বলেন, আমরা নুর সহ আহতদের দেখতে এসেছি। তাদের চিকিৎসার খোঁজ নিব। এছাড়া তোমাদের এই অমানবিকভাবে কারা হামলা চালিয়েছে তাদের খোঁজ নিয়ে চিহ্নিত করা হবে। এই অশুভভাবে কারা হামলা চালিয়েছে?
এসময় বিক্ষোভকারীরা চিৎকার করে বলেন, হামলার ভিডিও গণমাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে। আপনারা দেখেছেন, কারা হামলা চালিয়েছে। তাদের আগে বিচার করুন।
পরে বিক্ষোভকারীদের পাশ কাটিয়ে হাসপাতালে প্রবেশ করেন নানক। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় এবং সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য প্রমুখ।
এছাড়া ছাত্রলীগের হামলায় আহত ডাকসু ভিপি নুরুল হক নুরকে দেখতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গেছেন ডাকসুর সাবেক ভিপি মাহমুদুর রহমান মান্না। রবিবার সন্ধ্যার দিকে নুরকে দেখতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান তিনি। এ সময় নুর ও তার সাথে আহতদের খোঁজ খবর নেন তিনি। পাশাপাশি হামলায় আহতদের প্রতি সমবেদনা জানান।
এর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহ-সভাপতি (ভিপি) নুরুল হক নুর ও তার অনুসারীদের ওপর হামলা চালিয়েছে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের একাংশের নেতাকর্মীরা। এতে নুরসহ কোটা সংস্কার আন্দোলনের অনেক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। ডাকসু ভবনে রুমের লাইট বন্ধ করে হামলার অভিযোগ উঠেছে।
জানা গেছে, ঘটনার সময় ভিপি নুরের কক্ষে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস এবং সাধারণ সম্পাদক ও ডাকসুর এজিএস সাদ্দাম হোসেন। সবাই মিলে মারধর করে নুরুর কক্ষ থেকে পাঁচ জনকে বের করে দেন।
একপর্যায়ে সনজিত ও সাদ্দাম সেখান থেকে বেরিয়ে আসলে অন্য একটি গ্রুপ ডাকসু ভবনে প্রবেশ করেন। একপর্যায়ে তারাও নুরসহ অন্যদেরকে মারধর শুরু করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নুরসহ সবাইকে কক্ষের লাইট অফ করে দিয়ে মারধর করা হয়। আহত হয়ে কয়েকজন সেখানেই পড়ে আছেন। ঘটনার বেশ কিছুক্ষণ পর প্রক্টরিয়াল টিম গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। কয়েকজনকে অ্যাম্বুলেন্স এবং রিকশাযোগে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।