স্কয়ারে স্বাধীনের বিল নিয়ে আসলে কী হয়েছিল?

২৭ জুলাই ২০১৯, ০৮:২১ PM

ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে শুক্রবার রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে মৃত্যু বরণ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফিরোজ কবীর স্বাধীন। হাসপাতালে ভর্তির পর ২২ ঘণ্টারও কম সময়ে বিল এসেছে ১ লাখ ৮৬ হাজার ৪৭৪ টাকা। এতে চিকিৎসা ছাড়াও অনেক বেশি বিল করা হয়েছে বলে দাবি তার সহপাঠি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের। কিন্তু এ বিষয়ে কোন তথ্য দিতে রাজি নয় স্কয়ার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।  

ফিরোজের বড় ভাই মো. ফজলুল করীম বিস্ময় প্রকাশ করে গণমাধ্যমকে বলেন, ‘কেবল কয়েক ঘণ্টার ব্যাপার, ১ দিনও পার হয়নি। এর ভেতরে কী করে এত টাকা খরচ হলো, সেটাই আমরা বুঝতে পারছি না।’ হাসপাতালগুলো রোগীদের অসহায়ত্ব নিয়ে ব্যবসা করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

স্বাধীনের হাসপাতালের বিল থেকে দেখা যায়, ওষুধ বাবদ ধরা হয়েছে ৩২ হাজার ৩২১ টাকা ৫১ পয়সা, ল্যাবরেটরি চার্জ ৭৩ হাজার ৮৩৬ টাকা, মেডিক্যাল হসপিটাল সাপ্লাইতে বিল হয়েছে ১০ হাজার ২১৯ টাকা এবং বাকি টাকা অন্যান্য কয়েকটি খাতে ধরা হয়েছে।

নিহত ফিরোজের দুলাভাই হুমায়ুন কবীর বলেন, ‘২০ থেকে ২১ ঘণ্টা ছিল সে সেখানে (স্কয়ার হাসপাতাল), এর ভেতরে এত টাকা কী করে হলো, সেটাই আমরা বুঝতে পারছি না। যদিও তারা প্রথমে আমাদের বলেছিল, আইসিইউতে বিল আসতে পারে ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকার মতো। সেই হিসাবে আমরা প্রথমেই ডিপোজিট করেছিলাম ৫৭ হাজার টাকা। কিন্তু এত টাকা বিলের হিসাব আমরা এখন মেলাতে পারছি না।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফিরোজের সহপাঠী মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘এত টাকা বিল কী করে হলো, সেটা আপনারা সাংবাদিকরা বের করেন। খুব বেশি ওষুধ ওকে দেওয়া হয়নি বলেই পরে দেখেছি। তাদের সব বিল হয়েছে সার্ভিস চার্জের নামে, আর এক্সেসিভলি চার্জ করেছে তারা। ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ে কী এমন ওষুধ আর চিকিৎসা তাকে দেওয়া হয়েছে, সেটাও আমরা জানতে চাই।’

বিলের বিষয়ে জানতে চাইলে স্কয়ার হাসপাতালের রিসিপশনে (অভ্যর্থনা ডেস্ক) গিয়ে কথা বলতে চাইলে তারা বলেন, এ বিষয়ে তারা বলতে পারবেন না, তৃতীয় তলায় গিয়ে বিলিং সেকশনে কথা বলতে হবে। সে অনুযায়ী বিলিং সেকশনে গিয়ে কথা বলতে চাইলে তারা প্রথমে বলেন, তারা তো হাসপাতাল থেকে কোনও ডকুমেন্টস দেবেন না।

ডকুমেন্টস লাগবে না, কী করে এত টাকা বিল হলো সেটা জানতে এসেছি বলা হলে এক কর্মকর্তা বলেন, ‘বিলের ব্যাপারটা আমরা দেখি না, এটা রিসিপশনের কাজ।’

সেখান থেকে আবার রিসিপশনে ফেরত পাঠানো হলে তারা এই প্রতিবেদককে আবার নার্স ম্যানেজার শেফালী সাহার কাছে যেতে বলেন। প্রতিবেদকের খাতায় লেখা বিলের টাকার হিসাব দেখে তিনি বলেন, ‘আপনার খাতার লিখিত ডকুমেন্টস তো আমি দেখবো না।’ পরে তাকে স্কয়ার হাসপাতালের বিলের কপি দেখালে তিনি বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে আপনাকে কিছু বলতে পারবো না।’

শুক্রবার (২৬ জুলাই) স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ১০টার দিকে মারা যান ফিরোজ। এর আগের দিন বৃহস্পতিবার (২৫ জুলাই) রাতে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে স্কয়ারে আনা হয়েছিল। ফজলুল করীম বলেন, তারা দুই ভাই, দুই বোন। তিনি সবার বড়। মাঝে দুই বোনের পরে সবার ছোট ছিল ফিরোজ।

ডিএমপির ২ উপকমিশনারসহ ৯ পুলিশ কর্মকর্তার বদলি
  • ২৬ আগস্ট ২০২৬
বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে ২ দিন ধরে অনশনে প্রেমিকা
  • ২৬ আগস্ট ২০২৬
মিমি হত্যার রহস্য উদঘাটন করল পিবিআই, উঠে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য
  • ২৬ আগস্ট ২০২৬
কুয়েটে ভর্তি পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা, অনুষ্ঠিত হবে ৩ শহরে
  • ২৫ আগস্ট ২০২৬
রংপুরের সেই কমিশনারের বদলি আরও দুই সপ্তাহ আগেই হয়েছে: পুলি…
  • ২৫ আগস্ট ২০২৬
কু্বির আবাসিক হলে রাতভর শিক্ষার্থীকে র‍্যাগিংয়ের অভিযোগ
  • ২৫ আগস্ট ২০২৬