ইশা ছাত্র আন্দোলেনের মানববন্ধন © টিডিসি ফটো
শ্রীলংকায় দুটি গির্জায় বোমা হামলাসহ সকল ধরনের নৃশংস হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শাখা। আজ মঙ্গলবার রাজু ভাস্কর্যের সামনে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এ মানববন্ধন পালন করা হয়। মানববন্ধনে উক্ত সংগঠনের বিভিন্ন নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
মানববন্ধনে সংগঠনের ঢাবি শাখার সাধারন সম্পাদক মাহমুদুল হাসান বলেন, আমরা জানি না হামলাটি কে করেছে। এই হামলাটি খ্রীষ্টানদের উপর করা হয়েছে। কালকে আমার উপর হতে পারে। আজকে মুসলিমদের উপর হামলা হচ্ছে, হিন্দুদের উপর হামলা হচ্ছে। কেন এই হামলা হচ্ছে। আমরা কোথায় আছি। আমাদের মানসিকতা বিলুপ্ত হয়ে গেছে। আপনি মানুষ হয়ে কী করে অন্য মায়ের বুক খালি করেন। আপনি কী করে একটি সন্তানকে পিতৃ হারা করেন। এই বোধটুকু আপনার মধ্যে হয় না। আপনি নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করছেন। আপনি সাধারন মানুষকে হত্যা করে কী পাবে।যে আপনাকে টাকা দিয়ে কাজ করেছে আপনাকে বুঝতে হবে সে আপনার ভাল চায় না। আমরা একটি সাম্যের বিশ্ব চাই, আমরা কাঁদে কাঁদ মিলিয়ে চলতে চাই। কারো উপর হামলা নয়। আমরা চাই এই বিশ্ব পনিণত হবে একটি মানবিক বিশ্বে।
মানববন্ধনে ইমাম হোসেন নামে একজন বলেন, আমরা জানি, খ্রীস্টানদের উপর হামলা করা হয়েছে।এটা মোটেই কাম্য নয়। এই নৃশংস হামলায় শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, হামলাটি তৌহিদ জামাত করেছে। তৌহিদ জামাত একটি উগ্রপ্রন্থী সংগঠন। যারা উগ্রপ্রন্থী তারা কোন ধর্মের হতে পারে না। তারা ইসলাম ধর্মের হতে পারে না। তাদের কে শাস্তির আওতায় আনতে হবে। যারা সন্ত্রাসী তাদের কোন জাত নাই,ধর্ম নাই, বিবেক নাই।
এদিকে বার্তা সংস্থা এএফপির বরাতদিয়ে জানা যায়, শ্রীলংকায় ভয়াবহ সিরিজ বোমা হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩১০ জনে দাঁড়িয়েছে। হামলায় গুরুতর আহতদের মধ্যে অনেকেই সোমবার রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
শ্রীলংকা পুলিশের এক মুখপাত্র রোয়ান গুনাসেকেরা আজ বলেন, রবিবারের ভয়াবহ সিরিজ বোমা হামলায় ৫০০ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে এ পর্যন্ত ৪০ জনকে আটক করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, রবিবার সকালে দ্বীপরাষ্ট্রটিতে একের পর এক বোমা হামলার ঘটনা ঘটে। দেশটির রাজধানী কলম্বো এবং শহরতলির তিনটি গির্জা ও দেশের বড় তিনটি হোটেলে এ হামলা হয়। পরে আরও দুটি স্থানে হামলা হয়।
ওই দিন ছিল খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের অন্যতম বড় উৎসব ইস্টার সানডে। হামলার সময় তিন গির্জায় ইস্টার সানডের প্রার্থনা চলছিল।