সেই স্টল বসতে দেয়নি প্রশাসন, প্রক্টর বললেন ঢাবি ছাত্রীরা কেন এসব করবে?

২২ এপ্রিল ২০১৯, ১১:০২ PM

মামার অপারেশনের টাকা জোগাড় করতে টিএসসিতে খাবার দোকান দেওয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই ছাত্রীকে আজ বসতে দেয়নি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। শুধু তাই নয়, দোকান বসালে ছাত্রত্ব বাতিল করা হবে এমন হুমকিও দিয়েছেন এক সহকারী প্রক্টর। সোমবার রাতে এমনটাই জানিয়েছেন ফারাজানা সুলতানা নামে ওই ছাত্রী।

দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে তিনি বলেন, আজ তাদের টিএসসিতে বসতে দেওয়া হয়নি। আমরা প্রক্টরের কাছে অনুমতি চেয়েছিলাম; তিনি বলেছিলেন ফোন করে জানাবেন। কিন্তু কিছু জানাননি। এতে তার অনেক খাবার নষ্ট হয়েছে। এর প্রতিকার তিনি চান। ফারজানা আরো বলেন, কাল তাদেরকে নিজের কার্যালয়ে ডেকেছেন প্রক্টর। সেখানেই বিস্তারিত কথা হবে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে প্রক্টর অধ্যাপক ড. একেএম গোলাম রব্বানী দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীরা কেন এসব করবে? তাদের সাহায্য দরকার হলে আমাদের কাছে আসবে। আমরা সেগুলো দেখব।’ এরপর আর কোনো কথা বলেননি তিনি।

এর আগে ফারজানা তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে খাবার দোকান নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের লুকোচুরি নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন। তিনি লিখেন, ‘দিন রাত সমান করে যন্ত্রের মত খেটে গেলাম ক’দিন! বিনিময়ে পেলাম ছাত্র বাতিলের থ্রেট এবং গুণধর প্রক্টরের ক্ষমতার বড়াই দেখা! গতকাল অনেকে কল দিয়ে ছাত্রত্ব বাতিলের থ্রেট নিয়ে আমার সাথে কথা বলতে আসলে প্রশাসনকে ভাল সাজিয়ে বলেছিলাম এসব অভ্যন্তরীণ ব্যাপার নিয়ে আপনাদের ভাবতে হবে না, সবাই পাশে থাকতে চেয়েছে!’

তিনি আরো লিখেছেন, ‘আমি যে কতবড় ভুল করেছি; তা আজ প্রক্টরের সাথে ২০-৩০মিনিট ফোনে আমার বিতর্ক সেশনের মাধ্যমে প্রমাণ পেলাম। এত কথার পরও তিনি আমাকে বলেন, আমি কেন তাদের কাছে সাহায্য চাইনি! কি আজব। আমি বললাম আমি ঢাবির স্টুডেন্ট; আপনি বলে দিয়ে সেবা নেয়াবেন। কিন্তু কত মানুষ ভয়াবহ অসুখে আছে তাহলে তাদেরও কি আপনি বলে দেন? এত লিংক লাগবে কেন? সাধারণ মানুষ হিসেবে কেমন সেবা পাই সেটা দেখতে চেয়েছিলাম, কারও কাছে হাত পাততে যাই নি! এরপরও তিনি অনেক প্রশ্ন করলে বলেছি আমি খাবার বিক্রি করায় ঢাবির কি মান সম্মান কমে গেছে? তিনি নাকি সব স্টুডেন্টের খোঁজ রাখেন, হাস্যকর সব কথা! বলেছি তাহলে গতবছর ১০জন শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করলে আপনি কোথায় ছিলেন?

যাই হোক আমার মানুষের কাছে হাত পাতার উদ্দেশ্য থাকলে সরাসরি সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে খুঁজতাম। আমরা প্রত্যেকটা পেশাকে সম্মান আজও করতে শিখিনি। এত কাঠখোড় পুড়িয়েও তিনি আমাকে স্টল দেয়ার অনুমতি কিছুতেই দেননি। আমি বলেছি দয়া করে এক ঘণ্টার মধ্যে আমাকে অনুমতি যদি দিতেন, আজকেই শেষ। আমার খাবার নষ্ট হয়ে যাচ্ছে! আমি অপেক্ষা করছি খাবার নিচে এনে।আপনি অনুমতি না দিলে খাবার ফেলে দিয়ে ৪দিন পর আজ ঘুমিয়ে পড়ব। তাও তিনি এখন পর্যন্ত একটা কল ও দেননি।

১৭ কেজি সামুদ্রিক বেলে (কেজি ৪২০) নষ্ট, ১৫০-২০০ ডিম গরমে গেইটের কাছে রেখে নষ্ট হয়েছে। আর ক্যান্টিনে আজ খাবার দিব না বলায় আপুরাও তেমন জানত না। আমি অনুমতির জন্য কাহিনী করতেই শেষ!

আমি কারও কাছে হাত না পেতে ক’দিনের বন্ধে টিএসসিতে খাবারের স্টল দিয়ে দুনিয়ার খারাপ কিছু করেছি হয়ত! না জানি কত হলের লবণ-ঝাল পরিমাপ ছাড়া পোকা-মাকড়ের নির্যাসযুক্ত বার বিক্রি হয়নি দুদিন! এসব না খেলে ঢাবির শিক্ষার্থীরা মেধাবী হবে না বলে হয়ত অনুমতি পাইনি।’

আরো খবর:জীবনের গল্প: বাবার সম্মান রক্ষায় এএসপি দিদার নূর

জটিল রোগে আক্রান্ত হয়েও সফল ফ্রিল্যান্সার ফাহিমুল

বিআরটিসিতে মাসিক ভাতাসহ ইন্টার্নশিপের সুযোগ, আবেদন ২০ সেপ্ট…
  • ২৬ আগস্ট ২০২৬
কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে গোসলে নেমে পর্যটকের মৃত্যু, নিখোঁজ ১
  • ২৬ আগস্ট ২০২৬
রেকর্ডগড়া বোলিংয়ের পুরস্কার পেলেন স্টার্ক-শরিফুল
  • ২৬ আগস্ট ২০২৬
ঢাকায় ভিসা আবেদন কেন্দ্র চালু করতে যাচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়া
  • ২৬ আগস্ট ২০২৬
মাদকের ভয়াল থাবা : ভবিষ্যত প্রজন্মের ওপর একটি গভীর ক্ষতচিহ্ন
  • ২৬ আগস্ট ২০২৬
বদলি আবেদনে ভাটা, পাঁচ কারণ জানালেন শিক্ষকরা
  • ২৬ আগস্ট ২০২৬