© লোগো
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) জালিয়াতি করে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ী বহিষ্কারের দাবিতে একাট্টা সবাই। এ ব্যাপারে একমত বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে সব ছাত্র সংগঠনের নেতারা, রয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) নেতারাও।
তারা বলছেন, পুরো জাতির গর্ব এবং আদর্শের জায়গা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। ছোটকাল থেকে সবারই স্বপ্ন থাকে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ার। সে স্বপ্ন কজনের ভাগ্যে থাকে? এই গর্বের জায়গায় কেউ যদি জালিয়াতি করে ভর্তি হয়, তাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়ে যায়, কলঙ্কিত হয়ে যায়। আমরা চাই, প্রশাসন দ্রুত এর স্থায়ী বহিষ্কার করে বিশ্ববিদ্যালয়কে কলঙ্কমুক্ত করুক। আর সেটি বাস্তবায়ন না হলে সবাই মিলে আন্দোলনের ডাক দিব। কলঙ্কমুক্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তুলবো।
এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক ও ডাকসুর এজিএস (সহ-সাধারণ সম্পাদক) সাদ্দাম হোসেন দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ভর্তি জালিয়াতের ব্যাপারে ছাত্রলীগ সব সময় সোচ্চার। ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনকে জানিয়েছি, যাতে বিষয়টি দ্রততার সাথে ব্যবস্থা নিতে । যদি দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়া হয় তাহলে ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলব।
কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতা রাশেদ খান দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ভর্তি জালিয়াতের সাথে জড়িত, তাদের বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে বিভিন্ন সময় প্রশাসনকে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। কয়েকদিন আগে ডিন বরাবরও স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছিল। যারা ভর্তি জালিয়াতের সাথে জড়িত তাদেরকে অতি দ্রুত বহিষ্কার করা হোক এবং যারা ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠনের ছত্রছায়ায় এখনো আশ্রয়-প্রশ্রয় পাচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠন ব্যবস্থা নিবে।
অভিযোগ রয়েছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জালিয়াতি করে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের একাংশ ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সম্প্রতি সময়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও সাধারণ শিক্ষার্থীরা সমালোচনা করছেন।
ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রদলের জিএসপ্রার্থী আনিসুর রহমান খন্দকার অনিক দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, যারা ভর্তি জালিয়াতি করছে তারা অবশ্যই অপরাধী। যারা তাকে ভর্তি জালিয়াতের ব্যাপারে সুযোগ করে দিয়েছে, তারা আরও বড় অপরাধী। আমরা ছাত্রদলের পক্ষ থেকে দাবি জানাচ্ছি যারাই ভর্তি জালিয়াতের সাথে জড়িত তাদের দ্রত বিচারের আওতায় আনতে হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের মাস্টার্সের ছাত্র হামিম আহমেদ দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে আমরা গর্ব করি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের স্বপ্ন, সাধনা। কিন্তু যারা ভর্তি জালিয়াতি করে ভর্তি হয়েছে তারা আমাদের সুন্দর স্বপ্নে হাত দিয়েছে। ফলে তারা আমাদের গর্বের ভাবমূর্তি নষ্ট করেছে। আমরা চাই, প্রশাসন যাতে দ্রুত জড়িতদের বিচার করে বিশ্ববিদ্যালয়কে কলঙ্কমুক্ত করবে।
এ ব্যাপারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর অধ্যাপক এ কে এম গোলাম রব্বানী দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ভর্তি জালিয়াতি করে যারা ভর্তি হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। গত সপ্তাহে ৩ জন গ্রেপ্তার হয়েছে হয়েছে, তারাও ভর্তি জালিয়াতের সাথে জড়িত ছিল।
তিনি বলেন, যাদের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ আসছে তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করা হচ্ছে, তদন্ত প্রতিবেদন আমাদের হাতে আসলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষর যে করনীয় আছে সেগুলো বাস্তবায়ন করা হবে। তিনি আরও বলেন, গত বছরে আমরা ১৫ জনকে বহিষ্কার করেছি। বহিষ্কার করা কারও দাবি নয়, এটা মেধাবীদের জায়গা এখানে মেধাবীরাই থাকবে।
প্রসঙ্গত, গত কয়েক বছরে অন্তত অর্ধশত শিক্ষার্থী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ভর্তি জালিয়াতি করে ভর্তি হয়েছেন বলে জানায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এ ঘটনার অনেকের বিরুদ্ধে মামলাও হয়েছে। বর্তমানে এ মামলার তদন্ত করছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডি। শিগগিরই আদালতে এই মামলার চার্জশিট দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মোল্লা নজরুল ইসলাম।
এদিকে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) জালিয়াতি করে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে আজ বুধবার মানববন্ধনের ডাক দিয়েছে সাধারণ শিক্ষার্থীদের একটি অংশ। এতে সবাইকে উপস্থিত থাকার অনুরোধ জানিয়েছে আয়োজকরা। দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হবে।