শনিবার সকালে মালামাল গুছিয়ে নেন মজো কোম্পানী © টিডিসি ফটো
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) চৈত্র সংক্রান্তি ও বর্ষবরণ উপলক্ষে আয়োজিত কনসার্ট বাতিল করা হয়েছে। দুইদিন ব্যাপী আজ শনিবার ও আগামীকাল রবিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের মল চত্বরে এই কনসার্ট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। শনিবার বিকালে কোমল পানীয়ের ব্র্যান্ড মোজোর সহযোগিতায় এবং ছাত্রলীগের উদ্যোগে দুইদিন ব্যাপী এই কনসার্টের উদ্বোধন হওয়ার কথা ছিল।
এর আগে ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে শুক্রবার দিবাগত রাত ও শনিবার ভোরে দুই দফায় ওই কনসার্টের জন্য লাগানো বিজ্ঞাপন বুথ, ব্যানার ফেস্টুনে অগ্নিসংযোগ এবং ভাঙচুর করে। ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগে প্রায় ২০-২৫ লাখ টাকার মালামালের ক্ষতি হয়েছে বলে মেজোর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে শনিবার রাতে ডাকসুর সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) ও ঢাবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন বলেন, অনিবার্য কারণবশত পহেলা বৈশাখের কনসার্ট স্থগিত করা হয়েছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে কনসার্টের নতুন তারিখ জানিয়ে দেয়া হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষার্থীকে উৎসব বন্ধু হয়ে বাংলা নতুন বছর উদযাপনে আগতদের পাশে থাকার আহ্বান জানানো হল।
জানা যায়, কোমল পানীয়ের ব্র্যান্ড মোজোর সহযোগিতায় পয়লা বৈশাখকে সামনে রেখে ১৩ ও ১৪ এপ্রিল কনসার্টের আয়োজন করে ছাত্রলীগ। কনসার্টে জেমস, মিলা, ওয়ারফেজ, আর্টসেল ও ফিডব্যাকসহ বেশ কয়েকটি ব্যান্ড আসার কথা ছিল। এই কনসার্টকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের দুটি পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে কোন্দল দেখা দেয়। শোভনের সমর্থকরা অভিযোগ করে, সংগঠনের সভাপতি হওয়া সত্ত্বেও এ আয়োজন সম্পর্কে তাকে কিছুই জানানো হয়নি। এর ফলে শুক্রবার রাতে কনসার্টস্থলে হামলা ও ভাঙচুর করে তার সমর্থকরা।
এর আগে শুক্রবার রাত ১২টা পর্যন্ত শোভন টিএসসিতে ছিলেন। এ সময় তার অনুসারীরা তাঁর সঙ্গে ছিলেন। ১২টার পর যখন শোভন টিএসসি থেকে চলে যান, তখন তাঁর অনুসারীদেরও চলে যেতে বলেন। এরপরেই রাত ১টার দিকে মল চত্বরে হামলা চালানো হয়। এসময় শোভনের অনুসারীরাই হামলার সময় ঘটনাস্থলে ছিলেন বলে একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী নিশ্চিত করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুক্রবার রাত একটার দিকে শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল শাখা ছাত্রলীগের সাবেক নেতা আতিকুর রহমান খান, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আল আমিন রহমান, মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ইউসুফ উদ্দীন খান, কবি জসীমউদ্দীন হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি আরিফ হোসেন, অমর একুশে হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি এহসান উল্লাহ, মুহসীন হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান সানী ও স্যার এফ রহমান হলের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান তুষারের নেতৃত্বে মল চত্বরে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর করা হয়। তারা সবাই ছাত্রলীগ সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভনের অনুসারী।
ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনার পরই মল চত্বর পরিদর্শন ও নিজেদের সমর্থকদের নিয়ে মহড়া দেন ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) ও ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী, ঢাবি ছাত্রলীগের সভাপতি সনজিৎ চন্দ্র দাস ও ডাকসুর সহ সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) ও ঢাবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন। এ সময় ছাত্রলীগ সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন উপস্থিত ছিলেন না।
এ ঘটনার পরপরই শুক্রবার রাত তিনটার দিকে এ এফ রহমান হলে ছাত্রলীগের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভনের সমর্থক সাগর, মেশকাত ও মামুনকে মারধর করা হয়। পরে তাদেরকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আহতদের দাবি, ডাকসু এজিএস সাদ্দাম হোসেনের সমর্থকরা তাদের মারধর করেছেন। তারা আরো দাবি করেছেন, তাদের মারধর করা ছাড়াও শুক্রবার রাতে ছাত্রলীগ সভাপতি শোভন সমর্থক এ এফ রহমান হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান তুষার ও জহুরুল হক হল শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আমির হামজার কক্ষে ভাঙচুর করা হয়।
পরে শনিবার ভোরে দ্বিতীয় দফায় আগুন লাগিয়ে দেয় অজ্ঞাতরা। বাইক নিয়ে এসে পেট্রল ঢেলে ফিল্মি স্টাইলে আগুন দেয় বলে জানা গেছে। পরে তা নিভিয়ে ফেলা্ হয়। এ ঘটনার পরপর শনিবার সকাল থেকে কনসার্ট আয়োজনের স্পন্সর কোমলপানীয় প্রতিষ্ঠান মোজো অনুষ্ঠানের সামগ্রী নিয়ে চলে যায়।