পোলাও নয় খুদ খাওয়ায়, থাকে মেয়াদোত্তীর্ণ মাছ-মাংস

নিম্নমানের খাবারে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে শিক্ষার্থীরা
১২ এপ্রিল ২০১৯, ০৭:৪৪ PM

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় স্যার এ এফ রহমান হল ক্যান্টিনে পরিবেশন করা হচ্ছে মেয়াদোত্তীর্ণ হিমায়িত মাংস ও শুটকি মাছ। একইসঙ্গে অপরিষ্কার ও অস্বাস্থ্যকর শাক-সবজি। নিয়মিত এসব নিম্নমানের খাবার খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ছে হলের আবাসিক শিক্ষার্থীরা। এমনকি শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়ছে। এ নিয়ে বারবার প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়ে আশু সমাধানের পথ দেখছেন না শিক্ষার্থীরা। 

সম্প্রতি দৈনিক সমকালের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী মেয়াদোত্তীর্ণ হিমায়িত মাংস আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান থেকে যারা নিয়মিত মাংস কিনত তাদের মধ্যে রয়েছে ২৬৮টি হোটেল ও রেস্টুরেন্ট। তাছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু হল, মুহসীন হল, এফ রহমান হল ক্যান্টিনেও নিয়মিত আনা হচ্ছে এই মাংস। এসব প্রতিবেদনের পরেও নেই প্রশাসনের তেমন কোন পদক্ষেপ।

অন্যদিকে ক্যান্টিন মালিক বাবুল নিজেকে অনেক ক্ষমতাধর ব্যক্তি মনে করছে বলে অভিযোগ সাধারণ শিক্ষার্থীদের। কোন ছাত্র কিছু বললে বাবুল উল্টো ধমক দেয়। সাত পাঁচ বুঝিয়ে বিষয়টি অন্যদিকে নিয়ে যায়। কেউ যদি খাবারের নিম্নমানের কথা বলে তাহলে বাবুল বলে আপনার মুখে সমস্যা, আপনার মুখে রুচি নাই, খাবার ঠিক আছে। অথচ প্রতিদিন খাবারের বিষয়ে অনেক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে আসছে।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ ক্যান্টিনের মালিক বাবুল অনেক চালাক-চতুর ব্যক্তি। খাবারের তালিকায় একই আইটেম বার বার লিখে রাখে যেন অনেক আইটেম দেখা যায়। যাতে সাধারণ ছাত্ররা মনে করতে পারে খাবারের মেন্যুতে বিভিন্ন আইটেম রয়েছে। এভাবে প্রতিনিয়ত শিক্ষার্থীদের খাবার নিয়ে বিভ্রান্ত হতে হচ্ছে। 

আরও জানা যায়, ক্যান্টিনে সকালের নাস্তা রাতে তৈরি করা হয়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাবুল বলেন, বাংলাদেশের সব হোটেলে সকালের নাস্তা রাতে তৈরি হয়। অথচ রাতে তৈরি হলে খাবারের গুনগত মান নষ্ট হয়। খাবার ঠিকমত ঢেকে না রাখার কারণে খাবারের সাথে অনেক সময় মরা পোকামাকড়ও পাওয়া যায়।

এছাড়া ক্যান্টিনে যে মাছগুলো পরিবেশন করা হয় সেগুলো দেখতে সামুদ্রিক শুটকি মাছের মত। দেখলে বুঝা যায়, অনেক দিনের বরফে থাকা মেয়াদোত্তীর্ণ মাছ। এই মাছগুলোর কোন স্বাদ অবশিষ্ট থাকে না, এমনকি গুনগত মানও নেই।

সুস্থ থাকার জন্য নিয়মিত শাক সবজির গুরুত্ব অপরিসীম। কিন্তু এফ রহমান হলের ক্যান্টিনে শাক-সবজির নামে খাওয়ানো হয় অপরিষ্কার ও অপরিচ্ছন্ন খাবার। যেগুলো অনেকটা বাসি সবজি হওয়ায় রান্না করলে এক ধরণের উদ্ভট গন্ধ ছড়ায়। এগুলো খেয়ে শিক্ষার্থীদের পেটে নানা সমস্যা হচ্ছে। ফলে অসুস্থ হয়ে শিক্ষার্থীদের প্রায় সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টার ও ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে চিকিংসা নিতে হয়। এমনই এক শিক্ষার্থী বলেন, এইসব সবজি খেলে আমার হজম শক্তি নষ্ট হয়ে যায়। আর পেটে নানা সমস্যা হয় যার কারণে খাবার নিয়ে আমি দুশ্চিন্তায় রয়েছি।

এদিকে ক্যান্টিন মালিক বাবুল হলের সিনিয়র শিক্ষার্থীদের হাত করে নিয়েছেন। যাতে হলের সাধারণ ছাত্রদের অভিযোগের মুখে পড়লে তিনি বেঁচে যেতে পারেন। সিনিয়রদের সাথে ভাল সম্পর্ক থাকার কারণে সাধারণ ছাত্ররা তাকে কিছু বলতেও পারে না। নিরবে সহ্য করে সকল দুঃখ-বেদনা।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে হলের আবাসিক ছাত্র তালুকদার মোহাম্মদ ফোরকান বলেন, মেয়াদোত্তীর্ণ মাংস খাওয়ানোয় অতি শীঘ্রই যথোপযুক্ত বিচার দাবি করছি। যেহেতু অন্যায়টি আমাদের সকলেরই সাথে করা হয়েছে, কারো উচিত নয় তাকে পার পাইয়ে দেয়া। বিচার হতে হবে অবশ্যই খোলামেলা ও সবার সামনে প্রকাশ্যে।

হলের আরেক শিক্ষার্থী মোহাম্মদ জিসান বলেন, বাবুলের ক্যান্টিন নিয়ে অভিযোগের শেষ নাই। গরুর মাংস থেকে শুরু করে ডাল পর্যন্ত। পানি আর ডালের মধ্যে পার্থক্য খুঁজতে আপনার খুবই কষ্ট হবে। কিন্তু এই অবস্থার স্থায়িত্ব আমরা আর চাচ্ছি না। আমি সহ আরো অনেক সিনিয়র শিক্ষার্থী বারবার সতর্ক করেছি। কিন্তু কারো হাতছানিতে তার দৌরাত্ম্য দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমার মনে হয় তাকে দিয়ে আর ক্যান্টিন চালানো সম্ভব হবে না। কারণ সে পরিবর্তনের মানসিকতা রাখে না। তাই আমি হল সংসদসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনে যারা দায়িত্ব আছেন। তাদের বিনীতভাবে অনুরোধ জানাচ্ছি, বিষয়টি দেখার জন্য।

হলের আবাসিক শিক্ষার্থী আহম্মেদ রাজিব বলেন, আজকে মোরগ পোলাও খেয়ে এসে আমার পেটে সমস্যা হচ্ছে। আমরা এইসব খাবার খেয়ে আর থাকতে পারছি না। আমরা অতিষ্ট হয়ে পড়েছি। আমরা এর থেকে মুক্তি চাই।

এ ব্যাপারে হল সংসদের সহ-সভাপতি(ভিপি) আব্দুল আলীম খান বলেন, আমরা বিষটা দেখছি। আমরা হল সংসদের পক্ষ থেকে সপ্তাহে সাত দিনের মেন্যু করে দিয়েছি। সেটা বোর্ডে সাঁটানো থাকবে। আজকে রাতেই পূর্নাঙ্গভাবে সেটা হয়ে যাবে। পাশে একটা অভিযোগ বক্স আছে, মেন্যু কিংবা রান্নার অসংগতি হলে অবশ্যই আপনারা সেটা অভিযোগ বক্সে লিখবেন। আমরা অবশ্যই ব্যবস্থা নিবো। প্রয়োজনে ম্যানেজার আমরা পরিবর্তন করবো। আপনারা পাশে থাকেন, পরিবর্তন আসবেই।

সার্বিক বিষয়ে ক্যান্টিন মালিক বাবুল বলেন, আমি ভুল করেছি। আজকে থেকে সব কিছু ঠিক হয়ে যাবে। আমি সব কিছু পরিবর্তন করে দিয়েছি। আমি মাছ মাংস কমিয়ে দিয়েছি সবজি বাড়িয়ে দিয়েছি।

বাংলাদেশ-চীন মেলবন্ধনকে শক্তিশালী করবে এডুকেশন এক্সচেঞ্জ: ম…
  • ২৬ আগস্ট ২০২৬
নওগাঁয় মাদক সেবনের দায়ে ৫ জনকে কারাদণ্ড 
  • ২৬ আগস্ট ২০২৬
গোবিপ্রবিতে ৪০টির বেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের অংশগ্রহণে হতে যাচ্ছে…
  • ২৬ আগস্ট ২০২৬
রাজধানীতে সরকারি পিআইসিইউ মাত্র ৪৩, হাসপাতালে হাসপাতালে ঘুর…
  • ২৬ আগস্ট ২০২৬
গুম দিবসে সংসদ অভিমুখে কর্মসূচির ঘোষণা করল ১১ দলীয় জোট
  • ২৬ আগস্ট ২০২৬
বিদেশে উচ্চশিক্ষায় চলমান ৪ স্কলারশিপ, করুন আবেদন
  • ২৬ আগস্ট ২০২৬