ডাকসু ও হল সংসদের অভিষেক আজ; মাইলফলক বলছেন শিক্ষার্থীরা

২৩ মার্চ ২০১৯, ১২:০১ AM
ডাকসু ভবন

ডাকসু ভবন © ফাইল ফটো

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নবনির্বাচিত কমিটির প্রথম কার্যকারী সভা ও অভিষেক অনুষ্ঠান আজ। বেলা ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) উপাচার্য অফিস সংলগ্ন আবদুল মতিন চৌধুরী ভার্চুয়াল ক্লাসরুমে ডাকসুর সভাপতি অধ্যাপক ড. মোঃ আখতারুজ্জামান ও কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াতুল ইসলামসহ ডাকসুর নবনির্বাচিত প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে এ অনুষ্ঠান শুরু হবে বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে হল ছাত্র সংসদে নবনির্বাচিত কমিটির প্রথম সভা ও অভিষেক অনুষ্ঠান হবে স্ব স্ব হল ছাত্র সংসদে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা বলছেন, ডাকসুর মাধ্যমে নেতৃত্বের বিকাশ ঘটে৷ কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্যি যে, দীর্ঘ ২৮ বছর যাবৎ এটি বন্ধ ছিল। তাই ডাকসুর রুদ্ধ দুয়ার উন্মুক্ত হোক, এটাই ছিল তাদের চাওয়া-পাওয়া। যদিও বিতর্কিত  নির্বাচনের মাধ্যমে ২৮ বছর পর ডাকসুর দুয়ার উন্মুক্ত হচ্ছে আজ। তারপরও এটাকে মাইলফলক হিসেবে দেখছেন তারা। অন্যদিকে, এটাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতারা

অন্যদিকে, কোটা সংস্কার আন্দোলনের প্ল্যাটফর্ম ‘বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের’ যুগ্ম আহবায়ক নুরুল হক নূর ডাকসুর সহ-সভাপতি (ভিপি) পদে দায়িত্ব নিবেন কিনা; সে ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট কোন বক্তব্য না দেওয়ায় ধোঁয়াশা দেখা দেয়। যদিও সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছিল, সাধারণ শিক্ষার্থীরা চাইলে তিনি দায়িত্ব নিবেন। কিন্তু দায়িত্ব গ্রহণের একদিন আগে শুক্রবার বিকেলে সংবাদ সম্মেলন করে আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব গ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

সংবাদ সম্মেলনে নুরুল হক নূর বলেন, শিক্ষার্থীদের চাওয়া-পাওয়াকে প্রাধান্য দিয়ে আগামীকাল অনুষ্ঠেয় ডাকসুর কার্যকরী সভায় আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করব। পুনর্নির্বাচনের দাবিসহ শিক্ষার্থীদের অন্য যেসব সমস্যা রয়েছে, সেগুলো সমাধান করতে আমাদের নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রাম চলবে। পুনর্নির্বাচনের চাওয়া আমাদের বরাবরের মতোই রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনিয়ম এবং ডাকসু নির্বাচনের অনিয়মের বিরুদ্ধে আন্দোলনকে আরও বেগবান করার জন্য আমরা দায়িত্ব নিচ্ছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের যেসব অঙ্গসংগঠন বা কথা বলার জায়গা রয়েছে, সেসব জায়গায় অনিয়ম নিয়ে কথা বলতেই আমরা দায়িত্ব নিচ্ছি।

ডাকসুর ২৫টি পদের মধ্যে বাকি ২৩টি পদেই ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন ছাত্রলীগের প্যানেল জয় পেয়েছে।

এদিকে, ডাকসুর প্রথম কার্যকারী সভা ও অভিষেক অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের প্যানেলের পক্ষ থেকে নানা পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। প্রথম কার্যকারী সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ডাকসুর আজীবন সদস্য করার প্রস্তাব করবেন বলে জানা যায়। এছাড়া তারা বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে তাদের দেওয়া ইশতেহার বাস্তবায়নের কাজও করবেন। 

এ ব্যাপারে ডাকসুর সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) ও ঢাবি শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসাইন বলেন, আমরা সবাই দায়িত্বগ্রহণ করব। আমরা যে ইশতেহার দিয়েছি তাও বাস্তবায়ন করব।

ছাত্রলীগের প্যানেল থেকে সদস্য পদে নির্বাচিত রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, প্রথম কার্যকারী সভা ও অভিষেক অনুষ্ঠানের বিষয়টি আমাদের অফিসিয়ালি জানানো হয়েছে। এতে আমরা অংশগ্রহণের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি।

দীর্ঘ ২৮ বছর পর ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া এবং এর দায়িত্বভার গ্রহণ করাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য এক গৌরবময় বিষয় বলে মনে করেছেন বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতারা। তারা নির্বাচনের বিষয়ে বিভিন্ন অভিযোগ আনলেও দায়িত্ব গ্রহণের বিষয়টি ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন।

এ বিষয়ে জাতীয়তবাদী ছাত্রদলের ঢাবি শাখার সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক নাসির উদ্দিন বলেন, আমরা এটাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য ইতিবাচক হিসেবে দেখছি। কিন্তু যে নির্বাচন হয়েছে সেটা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য কলঙ্কময় হয়ে থাকবে। আমরা চাইব, দায়িত্বশীল প্রতিনিধিরা সাধারণ ছাত্রদের জন্য কাজ করবেন।

বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের ঢাবি শাখার সাধারণ সম্পাদক নাসির আব্দুল্লাহ বলেন, নির্বাচনে কি হয়েছে তা সবাই জানে। আমরা এই নির্বাচন বর্জন করেছিলাম। দীর্ঘ ২৮ বছরের অচল থাকা ডাকসু কার্যকর করার জন্য আমরাই সবচেয়ে বেশি আন্দোলন করেছিলাম। তাই নির্বাচনের পর দায়িত্ব গ্রহণকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছি। আমরা নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাছে বিশ্বিবদ্যালয়ের সকল অনিয়মের বিরুদ্ধে সোচ্চার হোক এটা চাই।

বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যবিজ্ঞান ও গ্রন্থাগার ব্যবস্থাপনা বিভাগের স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থী রাহাত সিদ্দিকী বলেন, ডাকসু ও হল ছাত্র সংসদের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও প্রতিভার বিকাশ ঘটে৷ কিন্তু সেটা ২৮ বছর ধরে রুদ্ধ হয়ে আছে। এজন্য ডাকসু না থাকায় সাধারণ ছাত্ররা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ ২৮ বছর পর ডাকসু চালু হচ্ছে। তাই সাধারণ শিক্ষার্থীদের নানা সমস্যা এবং যৌক্তিক দাবি আদায়ের এ প্ল্যাটফর্মকে আমরা স্বাগত জানায়।

প্রসঙ্গত, দীর্ঘ ২৮ বছর পর গত ১১ মার্চ ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে অনিয়ম এবং কারচুপির অভিযোগ এনে বর্জন করে ছাত্রলীগ ছাড়া বাকি প্যানেল এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। নির্বাচনে ডাকসুর ২৫টি পদের মধ্যে ২৩টিতে জয়ী হয় ছাত্রলীগের প্যানেল। এছাড়াও ১৮টি হল সংসদের ১২টিতে জয়ী হয় সংগঠনটির প্যানেলে দাঁড়ানো নেতারা। বাকি হলগুলোর ভিপি, জিএসসহ বেশ কিছু পদে জয়ী হয় স্বতন্ত্ররা।

আর ডাকসুর সহ-সভাপতিসহ (ভিপি) দুটি পদে সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের নেতারা জয়ী হয়। পরে পুনঃতফসিলের দাবিতে বর্জনকারীরা আন্দোলন করে। যদিও এই আন্দোলনের কোন প্রভাব পড়েনি। এরই মধ্যে ২৩ মার্চ শনিবার ডাকসু ও হল ছাত্র সংসদের  প্রথম কার্যকারী সভা ও অভিষেক অনুষ্ঠিত হবে বলে ঘোষণা দেয় প্রশাসন।

জোট থেকে এনসিপির বের হওয়া নিয়ে যা বললেন জামায়াত আমির
  • ২৭ আগস্ট ২০২৬
নেপালে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধ্বস, নিহত বেড়ে ১৫০
  • ২৭ আগস্ট ২০২৬
নেপালে ভয়াবহ বন্যায় শোক জানালেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
  • ২৬ আগস্ট ২০২৬
লোডশেডিংয়ে অতিষ্ট হয়ে উপাচার্য বাসভবন অভিমুখে সিকৃবি শিক্…
  • ২৬ আগস্ট ২০২৬
স্কলারশিপে স্নাতকোত্তর-পিএইচডির সুযোগ জাপানে, করুন আবেদন
  • ২৬ আগস্ট ২০২৬
২৭ লাখ টাকায় নির্মিত টয়লেট, ব্যবহার করা যায়নি এক দিনও
  • ২৬ আগস্ট ২০২৬