ঢাবি ‘ঘ’ ইউনিটের শীর্ষ ৭০ ভাগই নিজ ইউনিটে ফেল করেছিলেন!

১৭ অক্টোবর ২০১৮, ০১:৫৫ PM
জিহাদ হাসান আাকাশের `গ' এবং ‘ঘ’  ইউনিটে ভর্তি পরীক্ষার নম্বরপত্র।

জিহাদ হাসান আাকাশের `গ' এবং ‘ঘ’ ইউনিটে ভর্তি পরীক্ষার নম্বরপত্র। © টিডিসি ফটো

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের ‘ঘ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে  মঙ্গলবার। এতে প্রথম হয়েছেন জিহাদ হাসান আকাশ নামের এক শিক্ষার্থী। ভর্তি পরীক্ষায় ১২০ নম্বরের মধ্যে ১১৪.৩০ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন তিনি।

পরিসংখ্যান ঘেটে দেখে গেছে, ২০ বছরের ইতিহাসে এটি ‘ঘ’ ইউনিটে পাওয়া সর্বোচ্চ নম্বর। রেকর্ডসংখ্যক নম্বর পেয়ে ‘ঘ’ ইউনিটে মেধাতালিকার শীর্ষে থাকলেও নিজ বিভাগের (ব্যবসায় শিক্ষা) অধীনে ‘গ’ ইউনিটের পরীক্ষায় ফেল করেছেন আকাশ। তিনি এ বছর রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেছেন।

এছাড়া এ বছর ‘ঘ’ ইউনিটের পরীক্ষায় মেধাতালিকায় শীর্ষ পর্যায়ে থাকা ৭০ শতাংশের বেশি শিক্ষার্থী তাদের নিজ নিজ বিভাগের ভর্তি পরীক্ষায় ফেল করেছেন বলে জানা গেছে। অথচ তারাই ‘ঘ’ ইউনিটের পরীক্ষায় দেখিয়েছেন চোখ ধাধানো সাফল্য। ইউনিটভিত্তিক পরীক্ষার্থীদের ফলাফলের এই তারতম্য প্রশ্নপত্র ফাঁসের কারণে হয়েছে বলে মনে করছেন অনেকে।

জানা গেছে, ‘ঘ’ ইউনিটে প্রথম হওয়া জিহাদ নিজের ব্যবসায় শিক্ষা শাখার ‘গ’ ইউনিটের পরীক্ষায় ৩৪.৩২ নম্বর পেয়ে ফেল করেছেন। তিনি বাংলায় পেয়েছিলেন ১০.৮, ইংরেজিতে ২.৪০, হিসাব বিজ্ঞানে ৫.২৮, ব্যবসায় নীতিতে ৬.৭২ এবং ফিন্যান্সে ৯.৮৪ নম্বর। অথচ এই শিক্ষার্থী ‘ঘ’  ইউনিটে পেয়েছেন ১১৪ .৩০ নম্বর। যেখানে বাংলায় ৩০ এর মধ্যে ৩০, ইংরেজিতে ৩০ এর মধ্যে ২৭.৩০, সাধারণ জ্ঞান বাংলাদেশ বিষয়বলিতে ২৮.৩০ এবং আন্তর্জাতিকে পেয়েছেন ২৫.৫০ নম্বর।

এদিকে তাসনিম বিন আলম নামের এক শিক্ষার্থী বিজ্ঞান শাখার ‘ক’ ইউনিটের পরীক্ষায় ১২০ নম্বরের মধ্যে ৪৩.৭৫ পেয়ে ফেল করেছিলেন। কিন্তু সেই তিনিই ‘ঘ’ ইউনিটের পরীক্ষায় ১২০ নম্বরের মধ্যে ১০৯.৫০ পেয়ে সম্মিলিত মেধা তালিকার বিজ্ঞান শাখায় প্রথম স্থান অধিকার করেছেন।

এ বিষয়ে ‘ঘ’ ইউনিট পরীক্ষার প্রধান সমন্বয়কারী সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক সাদেকা হালিম বলেন, যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ এবং যাদেরকে সন্দেহভাজন বলে মনে হবে সাক্ষাৎকারে আমরা তাদের সবাইকে যাচাই-বাছাই করব। অস্বাভাবিক কোনো কিছু পেলে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। জিজ্ঞাসাবাদের পর পরীক্ষায় অবৈধ উপায় অবলম্বনের প্রমাণ পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামান বলেন, ‘জালিয়াতি চিহ্নিত হওয়া মাত্রই ভর্তি বাতিলসহ ওই শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে দেশের প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জালিয়াতি করে রেহাই পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। ’

উল্লেখ্য, গত শুক্রবার অনুষ্ঠিত হওয়া ‘ঘ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ ওঠে। অভিযোগের ভিত্তিতে গোপন অভিযান চালিয়ে পুলিশ ৬ জনকে গ্রেফতার করেছে। অন্যদিকে এই অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তারপরও ‘ঘ’ ইউনিটের ফলাফল প্রকাশ করায় তৈরি হয়েছে বিতর্ক। ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে শিক্ষার্থীদের মধ্যে। এই ইউনিটে এবার ২৬.২১ শতাংশ শিক্ষার্থী পাশ করেছে যা অন্যান্যবারের তুলনায় দ্বিগুন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ক্ষেত্রে বিজ্ঞান বিভাগ ‘ক’, ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ ‘গ’ এবং মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থীরা ‘খ’ ইউনিট থেকে পরীক্ষায় অংশ নেন। এছাড়া সব বিভাগের শিক্ষার্থীরা বিভাগ পরিবতনকারী ‘ঘ’ ইউনিট থেকে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেন। 

বাঙলা কলেজের অধ্যক্ষ নিয়োগের এক ঘণ্টা পরই বাতিল
  • ২৮ আগস্ট ২০২৬
নোবিপ্রবিতে ১১ বছরের অনিয়ম-দুর্নীতি তদন্তে কমিটি গঠন
  • ২৭ আগস্ট ২০২৬
রাত ২টা ৪০ মিনিটে বোনের নম্বারে ফোন করল কে?
  • ২৭ আগস্ট ২০২৬
ইউজিসির ফেইক অফিস আদেশ ছড়িয়ে বললেন, খালাস পেয়েছেন— কত বড় ব…
  • ২৭ আগস্ট ২০২৬
‘অন্যায়ের চিত্র’ কার্যালয়ে ‘অধ্যক্ষের’ কারখানা, বানানো হচ্ছ…
  • ২৭ আগস্ট ২০২৬
হবু স্ত্রীর খোঁজে পরপর ২ দিন বাসার সামনে গিয়েছিলেন অদিত, তখ…
  • ২৭ আগস্ট ২০২৬