© ফাইল ফটো
আলোকচিত্রী শহিদুল আলমের মুক্তির দাবিতে ক্যামেরা হাতে প্রতিবাদ জানিয়েছেন আলোকচিত্রীরা ৷ মঙ্গলবার বিকেল ৪টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে এই প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয় ৷ সমাবেশের শুরুতে ক্যামেরা উচু করে ধরে প্রতিবাদ জানান আলোকচিত্র শিল্পীরা।
এসময় গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকিসহ আলোকচিত্রী নাসির আলী মামুন, ইউসুফ তুষার, মুঈনউদ্দীন আহমেদ, পাঠশালার প্রধান তানভীর মুরাদ তপু, আমিনুজ্জামান, সুদীপ্ত সালামসহ ৫০ জনেরও বেশি সংখ্যক আলোকচিত্রী প্রতিবাদ সমাবেশে অংশ নেন ৷
প্রতিবাদ সমাবেশে রাখা বক্তব্যে আলোকচিত্রী নাসির আলী মামুন বলেন, শহিদুল আলমের নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে আমরা সমবেত হয়েছি। তিনি বাংলাদেশের আলোকচিত্র শিল্পকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়ে গেছেন ৷ তার প্রতিষ্ঠিত দৃক ও পাঠশালা দেশের আলোকচিত্র শিল্পে নবজাগরণ এনেছে ৷ তিনি এই শিল্পের একজন কারিগর ৷
তানজিম ওয়াহাব বলেন, শহিদুল আলম আমাদের শিখিয়েছেন আলোকচিত্রের মাধ্যমে সমাজ পরিবর্তনে ভূমিকা রাখার সুযোগ আছে ৷ তার প্রতিষ্ঠানগুলো দেশের আলোকচিত্রের সংস্কৃতি বদলে দিয়েছে ৷ অনেক মানুষকে তিনি সহযোগিতা করেছেন ৷ আমাদের উপস্থিতিই ওনার অবদান জানান দিচ্ছে ৷ কিন্তু আজকে তার অবদান নিয়ে কথা না বলে আমাদের তার মুক্তি নিয়ে কথা বলতে হচ্ছে ৷ আলোকচিত্রীদের স্বার্থ নিয়ে তিনি প্রতিনিয়ত কথা বলে গেছেন ৷ তিনি কেবল একজন ব্যক্তি নন, তিনি একটা শক্তি ৷ অতি দ্রুত তার নিঃশর্ত মুক্তি চাই ৷'
ইউসুফ তুষার বলেন, 'আমাদের শিক্ষক শহিদুল আলম সত্য কথা বলার কারণে আজকে কারারুদ্ধ ৷ আমরা এখন যেখানে এসে দাঁড়িয়েছি, উনি সবসময় এসব জায়গায় দাঁড়িয়ে কথা বলতেন ৷ আমরা তার এবং সত্য বলার জন্য আরো যারা কারাগারে গিয়েছেন সবার মুক্তি চাই ৷
সমাবেশের সঞ্চালক তাসলিমা আক্তার লিমা বলেন, ৫৭ ধারার মতো নির্যাতনমূলক একটি আইনে শহিদুল আলমকে আটকে রাখা হয়েছে ৷ এখন কেউ অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বললেই নানাভাবে ব্র্যান্ডিং করার চেষ্টা চলছে ৷ শহিদুল আলম জামিনের আবেদন করেছিলেন ৷ সব শর্ত পূরণ করা সত্ত্বেও তাকে জামিন দেওয়া হয়নি ৷