ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্রের সেট © টিডিসি ফটো
গতবছর ১৪ শিক্ষার্থী ও জালিয়াত চক্রের ছাত্রত্ব বাতিলের পর এ বছর ফের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষে ‘ঘ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ উঠেছে। আজ পরীক্ষা শুরু হওয়ার ৩০ মিনিট আগেই দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাস প্রতিনিধির হাতে ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্রের এক সেট পৌঁছায়। এই প্রশ্নের উত্তর দাগানো ছিল। অনুষ্ঠিত পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের সাথে ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্রের অনেকাংশেই মিল পাওয়া গেছে।
অন্যদিকে ৯টা ১৭ মিনিটে অপর এক পরীক্ষার্থীর মোবাইলে উত্তরসহ প্রশ্নপত্র পাওয়া যায়। বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গণমাধ্যম কর্মী সহকারী প্রক্টর সোহেল রানাকে অবহিত করেন। পরীক্ষা শেষ দেখা যায়, ওই পরীক্ষার্থীর মেসেঞ্জারে পাওয়া প্রশ্নপত্রের সাথে পরীক্ষা কেন্দ্রের প্রশ্নপত্রের হুবহু মিল রয়েছে। তা সত্ত্বেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে বলে দাবি করেন। প্রশ্নফাঁসের যে অভিযোগ তা যাচাই বাচাই করার পর সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে তিনি জানান।
এর আগে বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম গোলাম রব্বানী বলেন, 'ঘ' ইউনিটের সমন্বয়ক অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম কোনো প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে সব প্রস্তুতি নিয়েছেন। কারো বিরুদ্ধে কোনো ধরনের অপরাধের অভিযোগ পাওয়া গেলে তিনি সর্বোচ্চ শাস্তির ব্যবস্থা নেবেন বলে আমাদের আশ্বাস দিয়েছেন।
'ঘ' ইউনিটের সমন্বয়ক অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, আমাদের কাছে এধরনের কোন অভিযোগ আসেনি। আমরা যতটুকু জানি পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে শেষ হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত বছর তথা ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষে এই ইউনিটে প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনা ঘটেছিল। অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনা তদন্ত করে বিশ্ববিদ্যালয় ও সংশ্লিষ্ট অনুষদ। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রশ্নফাঁস ও জালিয়াতির দায়ে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৪ শিক্ষার্থীর ছাত্রত্ব বাতিল করা হয়।
শুক্রবার সকাল ১০ টাকা থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসসহ আশপাশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এবছর 'ঘ' ইউনিটে প্রায় ৯৬ হাজার পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছে। যা অন্যান্য ইউনিটের চেয়ে প্রায় দেড়গুন বেশি।