© ফাইল ফটো
বিগত বছরের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে এবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষে ‘ঘ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় নেয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রগুলোতে বিশেষ নজরদারির পাশাপাশি বাইরের প্রতিটি কেন্দ্র বসানো হবে মেটাল ডিটেক্টর। আর নজরদারির জন্য কেন্দ্রগুলোতে থাকবে ‘ঘ’ ইউনিটের সমন্বয়ক সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন মনোনীত প্রতিনিধি।
আজ সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত ঢাবি ক্যাম্পাসের ৫০টি ও ঢাকা শহরের ৩১টি স্কুল-কলেজসহ মোট ৮১টি কেন্দ্রে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। পরীক্ষাটি সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের লক্ষ্যে ইতোমধ্যেই হলে মোবাইল ফোন বা টেলিযোগাযোগ করা যায় এরূপ কোনো ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস/যন্ত্র সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করেছেন কর্তৃপক্ষ। পরীক্ষা চলাকালে সময়ে কাজ করবে ভ্রাম্যমাণ আদালতের কয়েকটি টিম ।
এর আগে গত বছর ‘ঘ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় আগের রাতেই প্রশ্ন ফাঁস হয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠে। এরপর বিভিন্ন সময় জালিয়াতি করে ভর্তি হওয়া ও ভর্তি জালিয়াতির সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৫ শিক্ষার্থীর ছাত্রত্ব বাতিল করা হয়। গণমাধ্যম ও গোয়েন্দা তথ্যে বেরিয়ে আসে আরও কয়েকজনের নাম। যাদের বিরুদ্ধে এখনও অনুসন্ধ্যান অব্যাহত আছে।
ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়ে প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম গোলাম রব্বানী বলেন, এ বছর ‘ঘ’ ইউনিটে প্রায় ৯৬ হাজারের মত শিক্ষার্থী অংশ নেবে। আমাদের সকল ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। এ ইউনিটে পরিক্ষার্থী সংখ্যা বেশি হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রগুলোর পাশাপাশি বাইরের বিভিন্ন কেন্দ্রেও পরিক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। প্রশ্ন ফাঁস বা ভর্তি জালিয়াত ঠেকাতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর অবস্থান নেয়া হয়েছে। বাইরের কেন্দ্রগুলোতে ঝুঁকি বেশি হওয়ায় এবারের বিশেষ ব্যবস্থা হিসেবে বাইরের প্রত্যেকটি কেন্দ্রে মেটাল ডিটেক্টর বসানো হবে। তার পাশাপাশি প্রত্যেকটি কেন্দ্রে থাকবে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সমন্বয়ে গঠিত ডিন প্রতিনিধি।
‘ঘ’ ইউনিটের সমন্বয়ক ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম বলেন, ‘ঘ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে আমাদের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি, প্রো-ভিসি থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে আছে। ভর্তি পরীক্ষাকে সামনে রেখে কেউ যদি কোন ধরনের অপরাধ সংগঠিত করার চেষ্টা করে তাহলে বিশ্ববিদ্যালয় সর্বোচ্চ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসের সবগুলো কেন্দ্রের পাশাপাশি বাইরের কেন্দ্র হিসেবে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল ও কলেজ, শেখ বোরহানুদ্দীন পোস্ট গ্রাজুয়েট কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ, লালবাগ সরকারি মডেল স্কুল ও কলেজ, আজিমপুর সরকারি গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ভিকারুন্নেসা নুন স্কুল ও কলেজ (আজিমপুর শাখা) ইডেন মহিলা কলেজ, গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজ, নীলক্ষেত হাই স্কুল, ঢাকা কলেজ, সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজ, গভর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি হাইস্কুল, ঢাকা সিটি কলেজ, আইডিয়াল কলেজ, নিউ মডেল ডিগ্রি কলেজ, ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজ, মোহাম্মদপুর কেন্দ্রীয় কলেজ, লালমাটিয়া মহিলা কলেজ, লালমাটিয়া উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়, শেরে বাংলানগর গভর্নমেন্ট বয়েজ হাই স্কুল, শেরে বাংলানগর গভর্নমেন্ট গার্লস হাই স্কুল, সরকারি তিতুমীর কলেজ, সিদ্ধেশ্বরী কলেজ, সিদ্ধেশ্বরী গার্লস কলেজ, ভিকারুন্নেসা নুন স্কুল ও কলেজ (কলেজ শাখা), ভিকারুন্নেসা নুন স্কুল ও কলেজ (স্কুল শাখা), হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজ, উইল্স লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং সেন্ট্রাল উইমেন্স কলেজে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।