ছাত্রলীগ নেতা আবু তাহের (বামে) আর ডানে তানভীর আজাদ সাকিব। © টিডিসি ফটো
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সলিমুল্লাহ মুসলিম (এসএম) হল শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবু তাহেরকে শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশে সোপর্দ করে ওই হল শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের একাংশ।
একই সঙ্গে তার বন্ধু তানভীর আজাদ সাকিবকে ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগেও পুলিশে সোপর্দ করা হয়। সাকিব বিজয় একাত্তর হলের আবসিক ছাত্র।
রবিবার রাত দুইটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এর আগে রাত ১১টা থেকে দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদ ও মারধর করে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। তারা দুজনই পপুলেশন সাইন্সের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র।
হল শাখা ছাত্রলীগ অন্য নেতা-কর্মীদের অভিযোগ, গ্রুপ রাজনীতিতে ভিন্নমত পোষণ করায় তাহেরকে শিবির ‘ব্লেইম’ দেয়া হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি তাহসান সভাপতি হওয়ার আগে সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগের অনুসরণ করত। নতুন কমিটিতে তিনি কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীকে অনুসরণ করেন।
অন্যদিকে, আবু তাহের আগে হল শাখায় তাহসানের রাজনীতি করত। এখন তিনি ঢাবি শাখার সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসাইনের রাজনীতি করে। কিন্তু তাহসান তাহেরকে সাদ্দামের রাজনীতি ছেড়ে দিয়ে গোলাম রাব্বানীর রাজনীতি করতে বলে।
তাহের হল সভাপতির কথা না শোনায় তাকে শিবিরের অভিযোগ এনে মারধর করে পুলিশে দেয় বলে হল ছাত্রলীগের একটি সূত্রে জানা যায়, এ সময় সাথে থাকা তাহেরের বন্ধু তানভীর আজাদ সাকিবকেও মারধর করে পুলিশে দেয়া হয়।
অন্যদিকে ছাত্রলীগের অন্য একটি সূত্রে জানা যায়, তাহের আগে থেকেই শিবির করত। এটা হলের সভাপতি তাহসান আহমেদ রাসেলও জানত। তার পরেও তিনি তাহেরকে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদ দেন।
জানতে চাইলে তাহসান আহমেদ রাসেল বলেন, তাহের গত মাসের ১০ তারিখে পদত্যাগ পত্র জমা দেয়। তখন আমাদের সন্দেহ হয় যে, সে অন্য কোন সংগঠনের সাথে জড়িত কিনা। পরে খোঁজ নিয়ে জানতে পারি যে, সে চট্টগ্রাম কলেজে শিবির করার সময় তার বিরুদ্ধে মামলা হয়। প্রতি দুই মাস পরপর কোর্টে হাজিরা দিতে সে চট্টগ্রামে যায়। পরে ছাত্রলীগের অন্যান্য নেতাকর্মীরা তাকে রাত ২টার দিকে থানায় দেয়। মারধরের অভিযোগটি অস্বিকার করেন তিনি।
হলের সাংগঠনিক সম্পাদক সানাউল্লাহ সায়েম বলেন, তাহের শিবির করত বলে আমরা জানতে পারি। পরে তাকে পুলিশে দেয়া হয়।
শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসানকে একাধিকবার কল দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এ বিষয়ে ঢাবির প্রক্টর অধ্যাপক ড. একে এম গোলাম রব্বানী বলেন, আমি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আছি। তাদেরকে জিঙ্গাসাবাদ করা হচ্ছে। যদি কোন নিষিদ্ধ সংগঠনের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায় তবে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।