ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই ‘টাক’ শিক্ষককে অব্যাহতির সুপারিশ

০১ অক্টোবর ২০১৮, ০২:১৫ PM

চলতি বছর ১০ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সিন্ডিকেট সভা ৭ শিক্ষার্থীকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিভিন্ন মেয়াদে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয়। তাদের অপরাধ ছিল- বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. একেএম রেজাউল করিমকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ‘টাক’ বলাসহ অশোভন আচরণ করা।

বুধবার মনোবিজ্ঞান বিভাগের একাডেমিক কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে অধ্যাপক ড. একেএম রেজাউল করিমকে বিভাগের একাডেমিক কার্যক্রম থেকে সাময়িক অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়। জানানো হয়, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিভাগের চেয়ারম্যানের সঙ্গে গোপন বিষয়ে নিয়ে তিনি আলোচনা করেন এবং তা রেকর্ড করে গণমাধ্যমের কাছে সরবরাহ করেন। এ অভিযোগে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিভাগ কর্তৃপক্ষ ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে উপাচার্য ড. আখতারুজ্জামানের কাছে একটি চিঠিও দিয়েছে। তবে ওই শিক্ষক তার বিরুদ্ধে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। পাশাপাশি ষড়যন্ত্র করে তাকে ফাঁসানো হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্যের কাছে মনোবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. নাসরীন ওয়াদুদের পাঠানো চিঠিতে বলা হয়, গত এক বছর আগে অধ্যাপক ড. এ কে এম রেজাউল করিম মনোবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. নাসরীন ওয়াদুদের কক্ষে প্রবেশ করেন। আর উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে একাডেমিক ও প্রশাসনিক বিভিন্ন গোপন বিষয় নিয়ে চেয়ারম্যানের সঙ্গে আলোচনা করেন। কিন্তু অধ্যাপক ড. এ কে এম রেজাউল করিম গোপনে ওই কথোপকথন রেকর্ড করে রাখেন। পরে রেকর্ডকৃত অডিওটি গণমাধ্যমসহ বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে পাঠান তিনি। একপর্যায়ে অডিওটি বিভাগ কর্তৃপক্ষের কাছে আসলে তা তদন্ত করে দেখা হয়।

চিঠিতে জানানো হয়, অডিও রেকর্ডটি ২৬ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত বিভাগের একাডেমিক কমিটির সভায় উপস্থিত সকলকে শোনানো হয় এবং সভায় এ রেকর্ড সম্পর্কে দীর্ঘ আলোচনা করা হয়। আলোচনার পরে জানা যায় অধ্যাপক রেজাউল করিম গোপনে কথোপকথন রেকর্ড করেছেন । যা তিনি নিজেও স্বীকার করেছেন বলে দাবি করা হয় চিঠিতে।

চিঠিতে আরো বলা হয়, অনুমতি ছাড়াই গোপনে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অধ্যাপক ড. নাসরীন ওয়াদুদের অফিসিয়াল গোপনীয় কথোপকথন রেকর্ড করা- পেশাগত অনৈতিক কার্যকলাপের শামিল । এছাড়া আইসিটি আইন ২০০৬ এর ৫৭ ধারার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। আর এভাবে অধ্যাপক রেজাউল করিম অপেশাগত কার্যকলাপের পরিচয় দিয়েছেন। এ কারণে তার সঙ্গে পেশাগত কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে অনিরাপদ কর্মপরিবেশ তৈরি হয়েছে- বলে অভিযোগ করে একাডেমিক কমিটির সদস্যরা।

এদিকে অভিযুক্ত শিক্ষক অধ্যাপক ড. এ কে এম রেজাউল করিম বলেন, ‘এগুলো সব মিথ্যা কথা। আমি কোনো গোপনীয়তা লঙ্ঘন করিনি।’ তিনি বলেন, একাডেমিক কমিটির কোনো এখতিয়ার নেই আমাকে অব্যাহতি দেওয়ার। তাছাড়া অব্যাহতি দেওয়ার বিষয়টি আমাকে জানানোও হয়নি। আর আমি যে গোপনীয় বিষয় প্রকাশ করেছি তা বিভাগ প্রমাণ করতে পারবে না।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামান বলেন, ‘বিষয়টি আমি দেখব। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

পাসপোর্ট অফিসের ভেতরে-বাইরে দালালদের দৌরাত্ম্য
  • ২৮ আগস্ট ২০২৬
টাকা নিয়ে সংবাদ প্রকাশ না করার অভিযোগ, দুই সাংবাদিক বহিষ্কার
  • ২৮ আগস্ট ২০২৬
ধর্মীয় কটূক্তিমূলক পোস্ট শেয়ার, বুটেক্সে শিক্ষার্থীকে হল থ…
  • ২৮ আগস্ট ২০২৬
‘ভুয়া ফোনকলের’ অভিযোগ নিয়ে যা বললেন এমপি জসিম
  • ২৮ আগস্ট ২০২৬
বাঙলা কলেজের অধ্যক্ষ নিয়োগের এক ঘণ্টা পরই বাতিল
  • ২৮ আগস্ট ২০২৬
নোবিপ্রবিতে ১১ বছরের অনিয়ম-দুর্নীতি তদন্তে কমিটি গঠন
  • ২৭ আগস্ট ২০২৬