আজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বাণিজ্যে বিভাগের ‘গ’ ইউনিটের পরীক্ষার মধ্য দিয়ে শুরু হচ্ছে ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের সম্মান প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা। সকাল ১০টা থেকে শুরু হয়ে ১১টা পর্যন্ত চলবে এই ভর্তিযুদ্ধ। পরীক্ষার হলে মোবাইল ফোনসহ টেলিযোগাযোগ করা যায়- এমন কোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইস/যন্ত্র সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। অন্যান্য অসদুপায় অবলম্বন রোধে সক্রিয় রয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালতও।
জানা গেছে, এবার বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও ক্যাম্পাসের বাইরের মোট ৫৪টি কেন্দ্রে আজকের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। বাইরের কেন্দ্রগুলো হলো- বিশ্ববিদ্যালয়ের লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি ইনস্টিটিউ এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল ও কলেজ। ‘গ’ ইউনিটে এক হাজার ২৫০টি আসনের বিপরীতে ভর্তিচ্ছু আবেদনকারীর সংখ্যা ২৬ হাজার ৯৬০ জন।
এদিকে গত কয়েক বছর ভর্তি পরীক্ষায় ডিজিটাল জালিয়াতির মাধ্যমে চান্স পাওয়া শিক্ষার্থীদের নাম বেরিয়ে আসায় এবার ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে কড়া নজরদারির সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াতুল ইসলাম বলছেন, ‘আমরা পরীক্ষা সংক্রান্ত সব প্রস্তুতি শেষ করেছি। এবার বেশিরভাগ কেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় হওয়ায় তেমন ঝুঁকি নেই। প্রতিবছরের মতো জালিয়াতির বিরুদ্ধে কড়া নজরদারি অব্যাহত থাকবে।’
আর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম গোলাম রব্বানী জানান, ‘ভর্তি জালিয়াতির চেষ্টা করা হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভর্তি হওয়ার পরেও যাদের বিরুদ্ধে প্রমাণ পাওয়া যাবে তাদেরও বহিষ্কার করা হবে। গত বছরের চেয়েও পরীক্ষা কেন্দ্রগুলো এবার কঠোর নজরদারিতে রাখা হবে। কোন প্রকার জালিয়াতি সম্পর্কে তথ্য থাকলে প্রক্টর অফিসে জানানোর জন্য আহ্বান জানান তিনি।
এদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় অনিয়ম ও ডিজিটাল জালিয়াতি রুখতে এই প্রথমবারের মত কঠোর অবস্থানে নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ। গতকাল (বৃহস্পতিবার) সংবাদ সম্মেলন করে শাখার সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন বলেছেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মেধাহীন কেউ যেন জালিয়াতি করে ভর্তি না হতে পারে, সে জন্য সতর্ক থাকবে ছাত্রলীগ। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে, সর্বোচ্চ স্বচ্ছতার সঙ্গে উচ্চপ্রযুক্তি ব্যবহার করে পরীক্ষা কার্যক্রম সম্পন্ন করার আহ্বান জানান।
সংবাদ সম্মেলনে সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস বলেন, ছাত্রলীগের কেউ যদি প্রশ্ন ফাঁস কিংবা ভর্তি জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত থাকে, তা হলে আমরা তা অস্বীকার না করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেব। জালিয়াতির বিরুদ্ধে আমরা ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি মেনে চলব। তিনি জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের পরীক্ষা উপলক্ষে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ২০-৩০টি বুথের মাধ্যমে ভর্তিচ্ছুদের তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করবে। তাদের জন্য সুপেয় পানি এবং কেউ অসুস্থ হলে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থাও করা হবে বলে জানান তিনি।
বহাল তবিয়তে ভর্তি জালিয়াতির হোতা: এদিকে গত বছর বহিষ্কৃত ভর্তি পরীক্ষায় ডিজিটাল জালিয়াতির মাস্টারমাইন্ডখ্যাত সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মহিউদ্দিন রানা এখনও হলে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বহিস্কার হওয়ার পরও রানার হলে অবস্থান করার সন্দেহজনক।
সূত্র বলছে, গত বছর স্থায়ীভাবে বহিষ্কৃত হলেও এখনো বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হলে অবস্থান করছেন ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সম্পাদক ও ভর্তি জালিয়াতির হোতা মহিউদ্দিন রানা। তার বিরুদ্ধে ২০১৭-১৮ বছরের ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতির অভিযোগ প্রমাণিত। ডিজিটাল জালিয়াতির মাস্টারমাইন্ডখ্যাত ছাত্রলীগের এ নেতার হলে থাকা নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যেও ক্ষোভ রয়েছে। যদিও বিষয়টি সম্পর্কে এখনো জানের হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. সৈয়দ হুমায়ন আখতার। প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে আমার কাছে তথ্য নেই। খতিয়ে দেখা হবে।’