সরকারি চাকরিতে বিদ্যমান কোটা পদ্ধতি সংস্কার করে প্রজ্ঞাপন আকারে প্রকাশের দাবিতে ফের উত্তাল হয়ে পড়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। বিক্ষোভ চলছে দেশের অন্যন্য স্থানেও। শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, কোটার বিষয়ে কোনো সুরাহা প্রদান না করেই গতকাল মঙ্গলবার ৪০তম বিসিএসের সার্কুলার প্রকাশ করেছে সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)। মূলত এর প্রেক্ষিতেই তারা আজ আন্দোলনে নেমেছে।
জানা যায়, কোনো ধরণের পূর্বঘোষণা ছাড়াই বুধবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও আশপাশ থেকে আসা হাজারো শিক্ষার্থী কেন্দ্রীয় গ্রন্থগারের সামনে জড়ো হতে থাকে। মুহুর্মুহু স্লোগান তোলেন ‘আর নয় কালক্ষেপণ, দিতে হবে প্রজ্ঞাপন’, ‘শেখ হাসিনার ঘোষণা, বাস্তবায়ন করতে হবে’। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইন্স লাইব্রেরি একটি মিছিল টিএসসি হয়ে শাহবাগস্থ পাবলিক লাইব্রেরি সামনে বিক্ষোভ দেখান। বেশ কিছুক্ষণ অবস্থানের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে জমায়েত হন আন্দোলনকারী।
বিক্ষোভরতরা জানান, শিক্ষার্থীদের প্রাণের দাবি ‘কোটা সংস্কার’ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন চললেও তাতে আমল নেই সরকারের। এতে ক্ষুদ্ধ ও হতাশ ছাত্রসমাজ। যতদ্রুত সম্ভব কোটা সংস্কারের প্রজ্ঞাপন জারি করে তা সদ্য ঘোষিত বিসিএস থেকে কার্যকরের দাবি জানান তারা। মাসুম নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, ৪০তম বিসিএস থেকে নতুন কোটা পদ্ধতি চালু না করলে এই আন্দোলন থামবে না; চলতেই থাকবে। এ সময় তারা সরকারের কাছে তিনটি দাবি জানায়। দাবিগুলো হলো- ৫ দফার অালোকে যৌক্তিক কোটা সংস্কার করে প্রজ্ঞাপন, সকল মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং অান্দোলনে হামলাকারীদের উপযুক্ত বিচারের দাবি।
বুধবার কেন্দ্রীয় গ্রন্থগারের সামনে মুহুর্মুহু স্লোগান ‘আর নয় কালক্ষেপণ, দিতে হবে প্রজ্ঞাপন’,
এর আগে গতকাল মঙ্গলবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রিয় গ্রন্থাগারের সামনে সংবাদ সম্মেলন করে ৪০ তম বিসিএস বিজ্ঞপ্তির আগেই কোটা সংস্কারের প্রজ্ঞাপন জারি করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিল আন্দোলনকারীরা।
সংবাদ সম্মেলনে ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক বিন ইয়ামিন মোল্লা জানিয়েছিলেন, আমরা আশা করি, ছাত্র সমাজকে রাজপথে নেমে প্রজ্ঞাপন আদায়ের দিকে ধাবিত করবেন না। তবে সরকারের অনাগ্রহ ও উদাসিনতা যদি প্রজ্ঞাপন জারি আটকে রাখে তবে ছাত্র সমাজ রাজপথে নেমেই দাবি আদায় করতে বাধ্য হবে। মহান জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর সুস্পষ্ট ঘোষণার দীর্ঘ পাঁচ মাস অতিবাহিত হলেও আজ অবধি কোটা সংস্কারের প্রত্যাশিত প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়ায় ছাত্র সমাজ হতাশ ও বিক্ষুব্ধ বলে তিনি জানান। যদিও তাদের সেই দাবিকে তোয়াক্কা না করেই সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) দুই হাজারের বেশি ক্যাডার নিয়োগ দিতে বিজ্ঞপ্তি জারি করে। 
বুধবার মূলত ৩ দফা দাবি ছিল শিক্ষার্থীদের। এগুলো হলো- ৫ দফার অালোকে যৌক্তিক কোটা সংস্কার করে প্রজ্ঞাপন, সকল মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং অান্দোলনে হামলাকারীদের উপযুক্ত বিচারের দাবি।
প্রসঙ্গত, গত ৮ এপ্রিল থেকে চারদিন ধরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের প্রায় সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন করেন। পরে তাদের সঙ্গে যোগ দেন বেশ কয়েকটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও। এর পরেরদিন (৯এপ্রিল) সচিবালয়ে দেড় ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে বৈঠক করেন আন্দোলনকারীরা। বৈঠক শেষে মন্ত্রী বলেন, আন্দোলনকারীদের সঙ্গে অত্যন্ত সুন্দর আলোচনা হয়েছে। আমরা তাদের (শিক্ষার্থী) বলেছি- ৭ মের মধ্যে সরকার বিদ্যমান কোটার বিষয়টি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করবে। সেই পর্যন্ত আন্দোলন স্থগিত থাকবে। এ সময় সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুনও ৭ মে পর্যন্ত তাদের কর্মসূচি স্থগিতের ঘোষণা দেন।
এ ঘোষণার পর ৯ এপ্রিল রাতে আন্দোলন স্থগিত হয়ে যায়। তবে কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরীর এক বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ১০ এপ্রিল থেকে ফের আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা। তারা কোটা সংস্কারের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে সিদ্ধান্ত আসার দাবি জানান। পরে ১১ এপ্রিল জাতীয় সংসদের অধিবেশনে কোটা পদ্ধতি বাতিল ঘোষণা করে সব চাকরিতে শতভাগ মেধার ভিত্তিতে নিয়োগের ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ ঘোষণার পরেরদিন শিক্ষার্থীরা আন্দোলন স্থগিত ঘোষণা করে।
.jpg)
বুধবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের বিক্ষোভ
সর্বশেষ ১০ মে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. মোজাম্মেল হক খান ‘কোটা সংস্কার বা বাতিলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে গঠিত কমিটির প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে পাঠানো হয়েছে’বলে জানালেও প্রজ্ঞাপন জারির বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানান।