© টিডিসি ফটো
স্বাধীনতা অর্জনের আগে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো পরিচালিত হতো পাকিস্তান সরকারের তৈরি করা আইনে। দেশ স্বাধীনের পর ১৯৭৩ সালে তৎকালীন সরকার দেশের প্রধান চারটি বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনার জন্য নতুন আইন করেন। যা ৭৩’র অাদেশ নামে পরিচিত। ইংরেজিতে লিখা এই আইনটি দেশের প্রধান চারটি বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনার গাইড লাইনও বটে। তবে বিভিন্ন সময় এ আইনটির বিভিন্ন ধারা নিয়ে সংশয় বা দ্বিধা দেখা দিয়েছে প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের মধ্যে। ভবিষ্যতে যাতে আর কোনো সমস্যা না হয় সেজন্য ২০১০ সালে আইনটির বাংলা অনুবাদের উদ্যোগ নেয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। সময় দেয়া হয় ছয় মাসের। কিন্তু গত আট বছরেও ৭৩’র অাদেশের অনুবাদ কাজ শেষ করতে পারেনি সংশ্লিষ্ট বিভাগ।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনার গাইড লাইন বলা হয় ১৯৭৩’ অাদেশ। যদিও গত দুই দশক ধরে শিক্ষক নিয়োগ, উপাচার্য নিয়োগ এবং কর্মকর্তা -কর্মচারী নিয়োগ ও পদোন্নতিতে বারবার লঙ্ঘন হচ্ছে এ আদেশ। নিজেদের সুবিধা মতো এই আইনকে নানা ভাবে ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ করেছেন বিভিন্ন সময় প্রশাসনের দায়িত্বে থাকা কর্তা ব্যক্তিরা। তৈরি করে চলছেন নানা বিতর্কও।
তবে ২০১০ সালে আইনটি বাংলায় অনুবাদের জন্য চিঠি দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে একই বছরের ১৩ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেটে বিষয়টির অনুমোদন হয় এবং এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য তৎকালীন সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান (বর্তমান উপাচার্য) এবং অ্যাডভোকেট এ এফ এম মেজবাহ উদ্দিনকে অনুরোধ করা হয়। এজন্য ৬ মাসে কাজটি শেষে করার নির্দেশ দেয়া হয়। অনুবাদের কাজ সম্পন্ন করার জন্য প্রথমে দায়িত্ব দেয়া হয় বাংলা একাডেমিকে। ২০১১ সালে রেজিস্ট্রার দফতর থেকে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক বরাবর অর্থ ছাড়ও করা হয়। সে সময় এ কাজের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বাংলা একাডেমিকে ৪ লাখ ৫৩ হাজার ৭৩২ টাকা প্রদান করে।
কিন্তু কাঙ্খিত গতিতে কাজ না এগুতে থাকলে ২০১১ সালের ৩ অক্টোবর পুনরায় বিষয়টি সিন্ডিকেটে উত্থাপন করা হয়।বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সে সময় বাংলা একাডেমির ভাষা ও সাহিত্য উপ-বিভাগকে এ অাদেশটির অনুবাদের কাজ তদারকির করার দায়িত্ব দেয়। বাংলা একাডেমি অধ্যাদেশের প্রথম খন্ড অনুবাদ করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করলে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব পুনঃমূল্যায়নে তাতে নানা অসংগতি লক্ষ্য করা যায়। ফলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সেটি পুনরায় সংশোধন ও সম্পূর্ণ করার দায়িত্ব প্রদান করে বাংলা বিভাগের (বর্তমান চেয়ারম্যান) অধ্যাপক ড. ভীষ্মদেব চৌধুরী ও আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. রহমত উল্লাহকে।
জানতে চাইলে ড. মো. রহমতুল্লাহ বলেন, অনুবাদের কাজ শেষ করে ২ মাস আগেই জমা দিয়ে দেয়া হয়েছে। এখন কি অবস্থায় আছে তা জানতে রেজিস্টার অফিসে খোঁজ নিতে পারো।
তবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বলছে ভিন্ন কথা। তারা এখন পর্যন্ত অনুবাদের অনুলিপি পাননি বলে জানান রেজিস্ট্রার মো. এনামুজ্জামান। তিনি বলেন, আদেশ অনুবাদের কাজ বিশ্ববিদ্যালয়ের দু’জন অধ্যাপককে দেয়া হয়েছে। তারা এখনও কাজ শেষ করে জমা দেননি। তাই অনুবাদের কপি বের করা সম্ভব হয়নি।
তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক কর্মকর্তা জানান, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃৃপক্ষের পাশাপাশি অনুবাদের দায়িত্বে যারা আছেন তাদেরও দুর্বলতা রয়েছে। তিন খন্ডে আদেশটি অনুবাদ হওয়ার কথা। এখন পর্যন্ত এক খন্ড অনুবাদ হয়েছে। যে কারণে কাজটি আটকে আছে।
অগ্রগতির বিষয়ে জানতে চাইলে নিজেদের সীমাবদ্ধতার কথা জানান অনুবাদের দায়িত্বে থাকা বাংলা একাডেমির ড. ভীষ্মদেব চৌধুরী। তিনি বলেন, এটা আমার একাডেমিক কাজের বাইরের কাজ। কাজটি করতে হচ্ছে অবসর সময়ে। এ কাজের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আলাদা করে ছুটি দেয়া হয়নি। আমি একটা বিভাগের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছি এর বাইরেও আমার ব্যক্তিগত কাজ আছে। এটা বিশাল কাজ। আরও তো কিছু সময় লাগবে বলে জানান তিনি।