নাহিদ হত্যা: মাথা ন্যাড়া করে পঞ্চগড়ে আত্মগোপনে ছিলেন কাইয়ুম

কাইয়ুম ও ইমন
সংঘর্ষের সময় লাঠি হাতে ঘটনাস্থলে থাকা কাইয়ুম ও অস্ত্রধারী ইমন  © ফাইল ছবি

রাজধানীর নিউমার্কেটে  ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ী-দোকানকর্মীদের সংঘর্ষের সময় নাহিদ হোসেনকে আগে মাথায় আঘাত করেন ঢাকা কলেজের ছাত্রলীগের কর্মী কাইয়ুম। তাকে আটক করেছে ঢাকা মহানগর গোয়ন্দা পুলিশ। তিনি মাথা ন্যাড়া করে পরিচয় গোপন করে পঞ্চগড়ের একটি উপজেলায় আত্মগোপনে ছিলেন। দুই দিন আগে সেখান থেকেই তাঁকে আটক করা হয়েছে।

এ ছাড়া নাহিদ হত্যাকাণ্ডে মূল অভিযুক্ত ছাত্রলীগ কর্মী ইমন বাশারকেও আটক করা হয়েছে। তিনি নাহিদকে মাটিতে পড়ে থাকা  কুপিয়েছিলেন। ঘটনার এক দিন পর ঢাকা কলেজ থেকে তাকে আটক করা হয়। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একাধিক সূত্র গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

তবে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো কথা বলতে রাজি হননি কেউ। কর্মকর্তারা বলেছেন, আটককৃতদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই চলছে। সংবাদ সম্মেলন করে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।

গত ১৮ এপ্রিল রাতে রাজধানীর নিউমার্কেটে সংঘর্ষ হয়। এর জেরে ১৯ এপ্রিল দিনভর সংঘর্ষ হয়। এতে মারা যান দুজন। এর মধ্যে একজন কুরিয়ার সার্ভিসের কর্মী নাহিদ হোসেন। অন্যজন দোকানকর্মী মোহাম্মদ মোরসালিন। নিউমার্কেটে সংঘর্ষের ঘটনায় পাঁচটি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে দুটি হত্যা মামলা। এসব মামলায় আসামি ১ হাজার ৮০০ জন।

আরো পড়ুন: নিউমার্কেটে আসলে কী ঘটেছিল, জানা যাবে আজ

এদিকে সংঘর্ষের ঘটনায় যাঁরা হেলমেট পরে মাঠে ছিলেন, তাঁরা সবাই সন্ত্রাসী বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। তাঁদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তার অভিযান চালাচ্ছে একাধিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তবে হল বন্ধ ও আত্মগোপনে যাওয়ায় শনাক্ত অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে সময় লাগছে।

বুধবার (২৭ এপ্রিল) ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে ডিবির যুগ্ম কমিশনার মাহবুব আলম বলেন, ‘হামলাকারীদের রাজনৈতিক পরিচয় নেই, ছাত্রলীগেরও কেউ না। কেউ যদি নিজে থেকে পরিচয় দেয়, তাহলে ভিন্ন কথা। সংঘর্ষে যাঁরা হেলমেট পরে নেমেছিলেন, তাঁরা সবাই সন্ত্রাসী। শনাক্ত করে সবাইকে গ্রেপ্তার করা হবে।’


x