র্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন জানিয়েছেন, মাহমুদ হাসান ওরফে গুনবী চলতি বছরের মে মাসের প্রথম দিকে গ্রেফতার এড়াতে আত্মগোপনে চলে যান। শুক্রবার বিকেলে কারওয়ান বাজার র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।
খন্দকার আল মঈন জানান, তিনি কুমিল্লা থেকে পার্বত্য চট্টগ্রামের খাগড়াছড়ি জেলার দুগর্ম এলাকায় আত্মগোপন করেন। জুনের শেষের দিকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি পুনরায় স্থান পরিবর্তন করে বান্দরবানে অবস্থান নেন। সেখানে ২-৩ দিন অবস্থান করেন।
এরপর কয়েকবার তিনি অবস্থান পরিবর্তন করে দেশ ত্যাগের পরিকল্পনা করেন বলে জানান খন্দকার মঈন।
এর আগে, গতকাল বৃহস্পতিবার (১৫ জুলাই) রাতে র্যাব সদর দফতরের গোয়েন্দা শাখা এবং র্যাব-৪ এর অভিযানে রাজধানীর শাহ আলী থানার বেড়িবাঁধ সংলগ্ন এলাকা থেকে গুনবীকে গ্রেফতার করা হয়। অভিযানে উদ্ধার করা হয় উগ্রবাদী বই ও লিফলেট।
পড়ুন: তরুণদের জঙ্গিবাদে জড়াচ্ছিলেন ধর্মীয় বক্তা গুনবী: র্যাব
মঈন জানান, গুনবী প্রথমে হুজির সঙ্গে যুক্ত ছিল। পরবর্তীতে জসিম উদ্দিন রহমানির সঙ্গে তার পরিচয় সূত্রে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। ওই ঘনিষ্ঠতার সূত্রে সে আনসার আল বাংলা টিমের (আনসার আল ইসলাম) সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়। জসিম উদ্দিন রাহমানি গ্রেফতারের পর গুনবি উগ্রবাদীত্ব প্রচারক হিসেবে নিজেকে অধিষ্ঠিত করে।
এদিকে, সম্প্রতি আলোচিত ধর্মীয় বক্তা আবু ত্ব-হা মুহাম্মদ আদনান বেশ কয়েকদিন নিখোঁজ ছিলেন। তাকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ মাঠ পর্যায় থেকেও উদ্ধারের দাবি জানানো হয়েছিল। পরে গত ১৮ জুন দুপুরে তার শ্বশুরের বাসায় তাকে পাওয়া যায়।
আদনানের উদ্ধারের বিষয়ে রংপুর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) জানিয়েছে, তিনি ব্যক্তিগত কারণে আত্মগোপনে ছিলেন। আদনান ঢাকা থেকে ফিরে তার সঙ্গীদের নিয়ে বন্ধু সিয়ামের বাসায় ছিলেন। তারা একটি ব্যক্তিগত কারণে স্বেচ্ছায় আত্মগোপনে ছিলেন। তারা ওই রাতেই ঢাকা থেকে ফিরেছে অন্য কোথাও অবস্থান করেনি।