© প্রতীকি ছবি
প্রথম প্রেমিককে ছেড়ে নতুন প্রেম। কিন্তু দ্বিতীয় প্রেম চলতে চলতে ফিরে আসেন পুরনো প্রেমিকও। এদিকে প্রেমের এক পর্যায়ে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন প্রেমিকা। বিয়ে করেন দ্বিতীয়জনকেই।
কিন্তু নবজাতকের বাবা হিসেবে স্ত্রীর প্রথম প্রেমিককে সন্দেহ স্বামীর। ভেতরে ভেতরে ক্ষোভ। পরিকল্পনা করে স্ত্রীর প্রেমিককে বুড়িগঙ্গার তীরে নিয়ে খুনের পর ভাসিয়ে দেন লাশ। একটি নিখোঁজ সাধারণ ডায়েরির তদন্তে বেরিয়ে আসে এমনই চাঞ্চল্যকর এক ঘটনা।
অজ্ঞাত লাশ হিসেবে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে থাকা রিমনের লাশ দেখাতে স্বজনদের নিয়ে যায় পুলিশ। খুনের ষোলো দিন পর শনাক্ত হন রিমন।
সূত্র মতে জানা যায়, ঢাকার কামরাঙ্গীরচরে অনলাইন ফুড ডেলিভারির ব্যবসায়ী জহিরুল ইসলাম রিমনের প্রতিষ্ঠানে প্রায় দু’বছর আগে কাজে যোগ দেন মিম। দ্রুতই গড়ে ওঠে দু’জনের প্রেম। ব্যবসায় সহায়তার জন্য প্রেমিককে বিশ হাজার টাকা ধার দেন প্রেমিকা। এর সাত মাস পর ভেঙে যায় দু’জনের সম্পর্ক।
এরপর মোটর মেকানিক শুভর সঙ্গে পরিচয় থেকে আবার প্রেম হয় মিমের। ক’দিন বাদে ফিরে আসে পুরনো প্রেমিক রিমন। ত্রিভুজ প্রেমের এক পর্যায়ে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন মিম। কিছুদিন পর বিয়ে করেন দ্বিতীয় প্রেমিক শুভকে। তখন প্রথম প্রেমিক রিমনের সঙ্গেও তার অটুট সম্পর্ক। ছয় মাস আগে জন্ম নেয় নবজাতক। মিমের অন্য সম্পর্ক জেনে যাওয়ায় সন্তানের বাবা হিসেবে স্ত্রীর প্রথম প্রেমিককে সন্দেহ শুভর।
শুভ ও রিমনের মধ্যে দেনা-পাওনার ভালো সম্পর্ক গড়ে ওঠে। মাঝে মাঝে তারা একসঙ্গে ঘোরাঘুরিও করেন। কিন্তু স্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্ক চালিয়ে যাওয়ায় রিমনকে হত্যার পথ খুঁজতে থাকেন শুভ।
জানা যায়, ৭ মার্চ কামরাঙ্গীরচর থেকে রিমনকে সিএনজি অটোরিকশায় তুলে কেরানীগঞ্জের আঁটিবাজারের দিকে রওনা দেন শুভ। পথে ইয়ামিন নামে আরেকজনকে তুলে নেন নিজের সুরক্ষার জন্য। তারপর তিনজন মিলে চলে যান বুড়িগঙ্গার তীরে। স্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে রিমনের সঙ্গে কথা বলেন শুভ। ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চান রিমন। তখনই কোমরে লুকিয়ে রাখা হাতুড়ি বের করে পিটিয়ে স্ত্রীর প্রেমিককে খুন করে মরদেহ নদীতে ভাসিয়ে দেন শুভ। চব্বিশ ঘণ্টারও বেশি সময় পর শৈলমাছি ঘাটের কাছে ভেসে ওঠে মরদেহ। উদ্ধারের পর সাভার থানায় মামলা করে নৌ পুলিশ।
পরদিন কামরাঙ্গীরচর থানায় নিখোঁজ সাধারণ ডায়েরি করেন রিমনের স্বজন। রিমনের সঙ্গে থাকা মোবাইল উদ্ধারের সূত্রে শুভকে ধরে পুলিশ। বেরিয়ে আসে খুনের তথ্য।
ঢাকা মহানগর পুলিশের লালবাগ বিভাগের উপ কমিশনার বিপ্লব বিজয় তালুকদার বলেন, ‘তাকে (শুভ) জিজ্ঞাসাবাদ করতে করতে এক সময় সে বলে রিমনকে সে মেরে ফেলেছে। তার বউয়ের সাথে রিমনের সম্পর্ক ছিল। এটা সে সহ্য করতে পারেনি। তার বউও স্বীকার করেছে রিমনের সাথে তার সম্পর্ক ছিল এবং তারা একসাথে ব্যবসাও করতো।’
বিপ্লব বিজয় তালুকদার বলেন, ‘জানা যায় মামলায় রজু হয়েছে যে- মামলার ভিকটিমকে নদীতে পাওয়া গেছে। আমরা খোঁজ নিয়ে জানতে পারি মরদেহটি সোহরাওয়ার্দী মেডিকেলের মর্গে রাখা আছে।’রিমন হত্যা মামলায় শুভ ছাড়া অন্য কেউ জড়িত আছে কি না তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।