শিক্ষাঙ্গন থেকে মাদক-সন্ত্রাস নির্মূলের সূত্র জানালেন ছাত্র নেতারা

© টিডিসি ফটো

দেশের কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ মাদকাসক্ত। এসব মাদকাসক্ত শিক্ষার্থীদের নিয়ে বিভিন্ন সময় খবর প্রকাশ হতে দেখা যায়। অনেকে আবার মাদকের সঙ্গে সন্ত্রাস-দুর্নীতির মত বিষয়গুলোর সঙ্গেও জড়িয়ে পড়েন। এসব অভিযোগে কেউ কেউ কারাবরণ করেন। অনেকে জরিমানা গোনেন। শিক্ষাঙ্গন থেকে এসব মাদক-সন্ত্রাস-দুর্নীতি নির্মূলের সূত্র জানিয়েছেন ছাত্র নেতারা।

কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে নেতৃত্বে থাকা ছাত্র নেতারা মনে করছেন, অনেক সংগঠনের নেতাদেরকেও আমরা এসব অভিযোগে অভিযুক্ত হতে দেখি। তবে এসব অপরাধ নির্মূলে শিগগিরই ব্যবস্থা নিতে হবে। এ ব্যাপারে সকলকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। বিশেষ করে সাধারণ শিক্ষার্থীদের এগিয়ে আসতে হবে।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া বলেন, সৃষ্টিলগ্ন থেকে শুরু করে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ শিক্ষা, শান্তি, প্রগতির প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে শিক্ষার প্রসার শান্তি প্রতিষ্ঠা প্রগতিশীলতার চর্চা করে আসছে। দেশের সকল রাজনৈতিক ও সামাজিক সংকট নিরসনে সর্বাজ্ঞে ভূমিকা পালন করে আসছে এই সংগঠনটি।

তিনি বলেন, ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণসহ যুদ্ধপরবর্তী স্বাধীন দেশ বিনির্মাণে ছাত্রলীগের ভূমিকা উদাহরণস্বরূপ। দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার অবাধ, সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরি করে সর্বমহলে গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ।

শিক্ষাঙ্গনকে অপরাধ মুক্ত করার পদ্ধতি জানিয়ে কিবরিয়া বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সন্ত্রাস নির্মূলে ছাত্র সংগঠনগুলোর ভূমিকা অত্যন্ত জরুরী। নিজ দলীয় স্বার্থের চাইতে ছাত্র সংগঠনগুলোকে শিক্ষার্থীবান্ধব সিদ্ধান্ত নিতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে মাদকের অবাধ বিচরণ নিয়ন্ত্রণে মাদকের অবৈধ পাচার বন্ধ করতে হবে। চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীদের কঠোর আইনের আওতায় আনতে হবে।

বাংলাদেশ ছাত্রমৈত্রীর রাজশাহী মহানগরীর সভাপতি ওহিদুর রহমান ওহি বলেন, শিক্ষাঙ্গনে মাদকমুক্ত করতে হলে সাধারণ শিক্ষার্থীদেরকে সচেতন হতে হবে। শিক্ষার্থীদের পরিবারকে সচেতন হতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্রিয়া ব্যবস্থা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অংশ নেয়ার গ্রহণে আগ্রহী করে তুলতে হবে। শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে মাদক-দুর্নীতির বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।

বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন রাজশাহী মহানগরীর সাধারণ সম্পাদক জিন্নাত আরা সুমু বলেন, শিক্ষাঙ্গনকে মাদকমুক্ত করার জন্য প্রয়োজনীয় কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত। মাদক নির্মূল করতে মাদকের সহজপ্রাপ্যতা প্রথমে দূরীকরণ করতে হবে। রাষ্ট্র তথা শিক্ষাঙ্গনে মাদকজাত দ্রব্য যেন কোনভাবেই না আসতে পারে তার জন্য কঠোর আইন প্রয়োগ করতে হবে।

তিনি বলেন, একইসঙ্গে সুস্থ সাংস্কৃতিক পরিবেশ গঠন করা, শিক্ষার্থীদের পাঠদানের পাশাপাশি সাহিত্য সংস্কৃতি চর্চার ব্যবস্থা রাখতে হবে। যেন প্রতিটা শিক্ষার্থীর মেধা-মনন বিকশিত হওয়ার সুযোগ পায়। এসব বিষয়গুলো নিশ্চিত করতে পারলে শিক্ষাঙ্গনকে মাদক-সন্ত্রাসমুক্ত করা সম্ভব।

রাজশাহী মহানগর ছাত্রদলের সাধারন সম্পাদক মো. রফিকুল ইসলাম রবি বলেন, সংগঠনটির প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে শুরু করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল শিক্ষা, ঐক্য, প্রগতি ছাত্রদলের মূলনীতি প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে শিক্ষার প্রসারে সংগঠনটি কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের রাষ্ট্রের শিক্ষা কাঠামো থকে শুরু সর্বত্র দূর্নীতিগ্রস্থ। এমতাবস্থায় শিক্ষাঙ্গনকে দূর্নীতি মুক্ত করতে হলে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্র সংসদ প্রতিষ্ঠা করতে হবে। সারাদেশে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ বন্ধ করতে হবে।

বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থার সমালোচনা করে রবি বলেন, শিক্ষা কারো ব্যক্তিগত পণ্য নয়। বর্তমানে শিক্ষাব্যবস্থা পণ্যে পরিণত হয়েছে। শিক্ষা আমাদের মৌলিক অধিকার। সকলের জন্য সমান শিক্ষার সুযোগ করে দেয়ার জন্য শিক্ষাখাত থেকে দুর্নীতি, টেন্ডারবাজি নিরসনে কঠোর আইন প্রয়োগ করতে হবে।

বাংলাদেশে মাদকাসক্ত মানুষের সংখ্যা কত, এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই। তবে জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের কয়েকজন চিকিৎসক ১৯ হাজার মাদকাসক্ত রোগীর মধ্যে এক জরিপ চালিয়ে এমন একটি অনুমানে পৌঁছেছেন যে এ দেশে মোট মাদকাসক্তের সংখ্যা ৫৬ লাখের বেশি হতে পারে।

কিন্তু ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের ফরেনসিক ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের এক গবেষণা জরিপের সূত্রে প্রথম আলোয় এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল, সংখ্যাটি ৬৬ লাখ। বিভিন্ন গবেষণা জরিপে বলা হয়েছে, মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের প্রতি ১০ জনের একজন চিকিৎসার বিভিন্ন নিরাময় কেন্দ্রের শরণাপন্ন হয়। এ হিসাব থেকে বলা যেতে পারে, এ দেশে পাঁচ থেকে সাড়ে ছয় লাখ মাদকাসক্ত মানুষের চিকিৎসা প্রয়োজন।

এ বিষয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. জামাল উদ্দিন আহমেদ বলেছেন, নানা সীমাবদ্ধতা থাকায় মাদকের আগ্রাসন একার পক্ষে নির্মূল করা সম্ভব নয়। তবে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অন্য ইউনিটের পক্ষ থেকে আমাদের সহায়তা করলে মাদক নির্মূল করা সম্ভব হবে।

ডা. কামরুলের হাসপাতালে চাঁদাবাজি, যুবদল নেতা মঈন গ্রেপ্তার
  • ১৩ এপ্রিল ২০২৬
আজ যে দামে বিক্রি হচ্ছে সোনা
  • ১৩ এপ্রিল ২০২৬
বায়ুদূষণে আজ শীর্ষে দিল্লি—দ্বিতীয় লাহোর, ঢাকা কত?
  • ১৩ এপ্রিল ২০২৬
একাদশ-দ্বাদশের পাঠ্যপুস্তকের পাণ্ডুলিপি মূল্যায়নকারী নেবে এ…
  • ১৩ এপ্রিল ২০২৬
এআই ব্রাউজার ‘অ্যাটলাস’: গুগল ক্রোমের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ?
  • ১৩ এপ্রিল ২০২৬
দুপুরের মধ্যে এক অঞ্চলে ঝড়-বৃষ্টির আভাস
  • ১৩ এপ্রিল ২০২৬