ধুনটে আ.লীগ নেতার গুদাম থেকে জব্দ ৫১ বস্তা চাল

আ.লীগ নেতার গুদাম থেকে জব্দ ৫১ বস্তা চাল জব্দ
আ.লীগ নেতার গুদাম থেকে জব্দ ৫১ বস্তা চাল জব্দ  © সংগৃহীত

আওয়ামী লীগ নেতার গুদাম থেকে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ১০ টাকা কেজির ৫১ বস্তা চাল জব্দ করা হয়েছে। সোমবার বেলা তিনটার দিকে বগুড়ার ধুনট উপজেলায় এ ঘটনা ঘটে। সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবদুল্লাহ আল রনী অভিযান চালিয়ে এসব চাল জব্দ করেন। সেই সঙ্গে চাল উত্তোলনের ২৩০টি কার্ড উদ্ধার করা হয়েছে।

গুদামমালিক ওই আওয়ামী লীগ নেতা হলেন নবাব আলী। তিনি উপজেলার নিমগাছি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক। অভিযান চালানো দল জানায়, উদ্ধার ৫১ বস্তা চাল (১০২ মন) খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল তাঁর গুদামে রেখে গেছেন নিমগাছি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক আবদুল হাদি। আবদুল হাদি নিমগাছি ইউনিয়ন বেড়েরবাড়ি এলাকার সুবিধাভোগী ৭১০ জন কার্ডধারীর কাছে চাল বিক্রির জন্য সরকারনির্ধারিত ডিলার (বিক্রয়কর্মী)। নবাব আলী সম্পর্কে তাঁর মামা হন।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সূত্রে জানা গেছে, সরকারি খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় ধুনট উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের দরিদ্র মানুষের মধ্যে ১০ টাকা করে চাল বিক্রির জন্য ২০ জন ডিলার (বিক্রয়কর্মী) সরকারিভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে নিমগাছি ইউনিয়ন বেড়েরবাড়ি এলাকার সুবিধাভোগী ৭১০ জন কার্ডধারীর কাছে চাল বিক্রির জন্য আবদুল হাদিকে নিয়োগ দেওয়া হয়। তিনি ২০ সেপ্টেম্বর ৭১০টি কার্ডের বিপরীতে ধুনট খাদ্যগুদাম থেকে ২১ হাজার ৩০ কেজি চাল উত্তোলন করেন।

অভিযোগ উঠেছে, সোমবার সকাল থেকে ডিলার আবদুল হাদি ওই কার্ডধারীদের কাছে চালগুলো বিক্রি না করে কার্ডগুলো জমা রেখে প্রত্যেককে ৬০০ টাকা করে দিয়ে বিদায় করে দিয়েছেন। পরে তিনি এসব চাল তাঁর মামা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক নবাব আলীর গুদামে বিক্রির জন্য জমা করেন। এ খবর পেয়ে দুপুরে সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবদুল্লাহ আল রনী বগুড়া র‍্যাব-১২-এর সহযোগিতায় অভিযান চালিয়ে ওই গুদাম থেকে ২ মণ ওজনের ৫১ বস্তা (১০২ মণ) চাল জব্দ করেন। সেই সঙ্গে ডিলারের হেফাজতে থাকা সুবিধাভোগীদের কাছ থেকে জমা নেওয়া ২৩০টি কার্ড উদ্ধার করেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এলাকার ১০-১২ জন কার্ডধারী জানান, তিন মাস পরপর কর্মসূচির ডিলার ৩০০ টাকা করে জমা নিয়ে ৩০ কেজি করে চাল দেওয়ার কথা। কিন্তু তাঁদের ওই চাল না দিয়ে ৬০০ টাকা করে দিয়ে বিদায় করেছেন ডিলার হাদি। পরে ডিলার ওই সব চাল নবাব আলীর কাছে বেশি দামে বিক্রি করেন।

ধুনট উপজেলা খাদ্য পরিদর্শক আমিনুল ইসলাম জানান, তদন্তে প্রমাণিত হলে ডিলারের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ডিলার আবদুল হাদি দাবি করেন, কর্মসূচির আওতার কার্ডধারীরা নিজেরা এসে উত্তোলন করে চালগুলো বাড়িতে নিয়ে গেছেন। কার্ডগুলো পুরোনো হওয়ায় পরিবর্তনের জন্য তাঁরা তাঁর কাছে রেখে গেছেন। তাঁদেরকে চালের পরিবর্তে কোনো টাকা দেওয়ার কথা তিনি অস্বীকার করেন।

গুদামমালিক নিমগাছি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক নবাব আলী দাবি করেন, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির কার্ডধারীদের কাছ থেকে কোনো চাল কেনেননি তিনি। প্রশাসন মিথ্যা অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁর নিজস্ব চালকলে রাখা চাল জব্দ করেছে।

ধুনট উপজেলা খাদ্য পরিদর্শক আমিনুল ইসলাম জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে গুদাম থেকে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ৫১ বস্তা চাল জব্দ করা হয়েছে। তদন্তে প্রমাণিত হলে ডিলারের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবদুল্লাহ আল রনী জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে নবাব আলীর তিন ভাই ট্রেডার্স নামের একটি চালকলের গুদাম থেকে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ১০২ মণ চাল জব্দ করা হয়েছে। এ ছাড়া ডিলারের কাছ থেকে ২৩০টি কার্ড জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।


মন্তব্য