বয়স আনুমানিক ৬৫ বছর। বাড়ি ঝিনাইদহে। থাকতেন ফরিদপুরের মধুখালীতে। করোনা উপসর্গ নিয়ে শনিবার ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান তিনি। সেখানেই করোনা পরীক্ষা জন্য নমুনা সংগ্রহ করা হয়। সবকিছু ঠিকই ছিল, তবে বিপত্তি ঘটে গ্রামের বাড়িতে লাশ নিয়ে যাওয়ার ঘটনায়। লাশের খবর এলাকাবাসী উধাও হয়ে যাওয়া বিপত্তিতে পড়ে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন।
পুলিশ জানায়, হাসপাতালের আনুষ্ঠানিকতা শেষে গ্রামের ঠিকানায় অ্যাম্বুলেন্স করে লাশ নিয়ে রওয়ানা হন মৃতের ভাই। যা ফরিদপুর সদর থানার ওসি ঝিনাইদহ সদর থানার ওসিকে ফোন করে জানান। খবর পেয়ে প্রস্তুতি নেয় পুলিশও।
পুলিশের তথ্য, পরিবারের পক্ষ থেকে মৃত ব্যক্তির লাশ ঝিনাইদহের খাজুরা গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করতে চাওয়ায় বিকেল সোয়া ৫টার দিকে অ্যাম্বুলেন্সটি সদর থানা এলাকায় পৌঁছায়। এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, সদর সার্কেল, ঝিনাইদহ এবং সদর থানার ওসি মিলে লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্সটি নিয়ে খাজুরা গ্রামের উদ্দেশে রওয়ানা হন। খবর পেয়ে সেখানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাও উপস্থিত হন। বিকেল পৌনে ৫টার দিকে লাশ নিয়ে খাজুরা গ্রামে পৌঁছায় পুলিশ।
জানা যায়, করোনা সন্দেহে মৃত ব্যক্তির লাশ আনার সঙ্গে সঙ্গেই খাজুরা গ্রামের লোকজন উধাও হয়ে যায়। অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, গাড়ি থেকে লাশ নামানোর লোক পর্যন্ত খুঁজে পাওয়া যায়। পাওয়া যায় না খাটিয়াও। পরে অবশ্য প্রায় পৌনে এক কিলোমিটার দূরের একটি মসজিদ থেকে খাটিয়াও দু’জন লোক আনে পুলিশ। এরপর পুলিশ মৃত ব্যক্তির ভাইয়ের সাথে মিলে লাশটি খাটিয়াতে নামায়। কাঁধে করে কবরস্থানের অদূরে একটি মাঠে নিয়ে যায়। জানাজা পড়ানোর জন্য উপযুক্ত কাউকে না পেয়ে ইউএনও নিজেই জানাজা পড়ান। পরে মৃতের ভাই ও অন্যান্য লোকের সহায়তায় লাশটি কবরস্থানে বহন করে নিয়ে যায় পুলিশ।
পুলিশ জানায়, কবরস্থান ছিল বাঁশ গাছের নিচে। কবর খুঁড়তে খুড়তেই সন্ধ্যা নেমে আসে। মোবাইল ফোনের টর্চের আলোতে চলে করর খোঁড়ার কাজ। কিন্তু কবর খোঁড়া যখন শেষের দিকে তখন শুরু হয় প্রচণ্ড ঝড়-বৃষ্টি। আর সেই ঝড় বৃষ্টি উপেক্ষা করেই মৃত ব্যক্তির দাফন কাজ সম্পন্ন করে পুলিশ। তবে শেষ পর্যন্ত এলাকাবাসীর কয়েকজন সেখানে উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে।