এমপি আবদুল আজিজের বড় ছেলে নূরুজ্জামান (বাঁয়ে) ও নিহত ছাত্রদল নেতা শাকিল ইসলাম © সংগৃহীত
নাটোরের গুরুদাসপুর পৌর ছাত্রদলের সদস্য সচিব শাকিল ইসলাম হত্যার ঘটনায় নাটোর-৪ (গুরুদাসপুর-বড়াইগ্রাম) আসনের সংসদ সদস্য আজিজুর রহমান আজিজের ছেলে নুরুজ্জামান মিন্টুকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাতে ঢাকায় শাকিলের মৃত্যুর পরেই তাকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়।
পুলিশ জানায়, সোমবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে নাটোর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি দল মিন্টুকে তার নিজ বাসা থেকে হেফাজতে নেয়। পরে রাত ১টা ৪০ মিনিটের দিকে তাকে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টবর) বেলা ১টায় এই প্রতিবেদন লেখার সময় নূরুজ্জামান নাটোর ডিবি কার্যালয়ে ছিলেন। তিনি গুরুদাসপুর উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক। তার ছোট ভাই মাহমুদুজ্জামান গুরুদাসপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সহসাধারণ সম্পাদক।।
নাটোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইফতে খায়ের আলম জানান, শাকিল হত্যা মামলায় নুরুজ্জামান মিন্টুকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তবে এ ঘটনায় তার সংশ্লিষ্টতা সম্পর্কে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না। এ বিষয়ে বিস্তারিত পরে জানানো হবে।
ছাত্রদলের একাধিক সূত্র বলছে, এমপির দুই ছেলের পৃথক অনুসারী ও সমর্থক গোষ্ঠী আছে। দুই ভাইয়ের অনুসারীদের মধ্যে দ্বন্দ্ব আছে। নিহত শাকিল এমপির ছোট ছেলে মাহমুদুজ্জামানের অনুসারী ছিলেন
এর আগে, গত ১৪ অক্টোবর রাত সাড়ে ১০টার দিকে স্থানীয় চাঁচকৈড় বাজার থেকে ফেরার পথে দুর্বৃত্তদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত হন ছাত্রদল নেতা শাকিল ইসলাম। স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সেখান থেকে তাকে রাজশাহী ও পরে ঢাকার বাংলাদেশ মেডিকেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। ১২ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর গতকাল রাত সোয়া আটটার দিকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহত শাকিল গুরুদাসপুর পৌর সদরের চাঁচকৈড় কাচারিপাড়া মহল্লার রবিউল করিম মিস্ত্রির ছেলে এবং নাটোরের গুরুদাসপুর পৌর ছাত্রদলের সদস্য সচিব। হামলার পর শাকিলের বাবা রবিউল করিম ১৯ অক্টোবর অজ্ঞাতপরিচয় ৮-১০ জনকে আসামি করে গুরুদাসপুর থানায় মামলা করেন।
গুরুদাসপুর থানার ওসি আব্দুল হান্নান বলেন, ১৯ অক্টোবর শাকিলের বাবা রবিউল করিম থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় অজ্ঞাত ৮-১০ জনকে আসামি করা হয়েছে। আসামিদের শনাক্ত করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে এখনই কিছু বলা যাচ্ছে না। দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার করা হবে।
এর আগে, গত ২০ এপ্রিল ছাত্রদল নেতা শাকিল তার ফেসবুক আইডি থেকে নিরাপত্তাহীনতার কথা জানিয়ে একটি পোস্ট দিয়েছিলেন। সেখানে তিনি লেখেন, ‘আমি আমার জীবন নিয়ে সংশয় আছি খুবই। আমাকে মারার জন্য এক বড় ভাই বিভিন্ন চক্র ও গ্রুপের সঙ্গে যোগাযোগ করতেছে। যারা আমাকে মারতে পারবে, তাদের নাকি অনেকগুলো টাকা দেওয়া হবে। এই বিষয়ে আমি ওসির সঙ্গে কথা বলে থানায় একটা ডাইরি (সাধারণ ডায়েরি) করেছি এবং তাদের নাম উল্লেখ করা আছে। আমার যদি কিছু হয়ে যায়, তাহলে এই ডাইরি (জিডি) অনুযায়ী মামলা করে দেবেন।’
এই পোস্টের বিষয়ে নাটোর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক নজরুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি বিস্তারিত কিছু বলেননি। তবে সবকিছু মাথায় রেখে তদন্ত চলছে বলে তিনি জানান।