বিয়ের প্রলোভনে নবম শ্রেণির ছাত্রীকে অপহরণ, যুবকের ১৪ বছরের কারাদণ্ড © টিডিসি ছবি
ফেনীতে নবম শ্রেণি পড়ুয়া এক স্কুল শিক্ষার্থীকে অপহরণের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় মো. শাকিল হোসেন (২৭) নামে এক যুবকের ১৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।
আজ বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) ফেনীর নারী ও শিশু দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এএনএম মোরশেদ খান এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় শাকিল পলাতক ছিল। সে লক্ষীপুর জেলার রামগঞ্জের বেপারী বাড়ির আবদুল মান্নানের ছেলে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর শাহাব উদ্দিন আহাম্মদ জানান, রায়ে আসামি শাকিলের ১৪ বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। অনাদায়ে তাকে আরও দুই মাস কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। গত ২ সেপ্টেম্বর যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে এ মামলার রায় ঘোষণা করা হয়। রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে শাহাব উদ্দিন আহম্মদ বলেন, এ রায়ের ফলে সমাজে নারীর প্রতি অবিচার ও সহিংসতা কমবে।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯ সালের ১৬ জুন কোচিংয়ের যাওয়ার জন্য ঘর থেকে বের হয়ে দাগনভূঞার পৌরসভার আলাইয়ারপুর এলাকার বদরুন্নেসা উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণি পড়ুয়া এক শিক্ষার্থী। পরে সে বাড়ি না ফেরার তার মা থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করেন। বিষয়টি তদন্তের দায়িত্ব পান দাগনভূঞা থানার তৎকালীন উপপরিদর্শক (এসআই) মনোয়ার হোসেন। ওই বছরের ২২ জুন লক্ষীপুরের রামগঞ্জ থানার পাশে মেয়েটির নানার বাড়ির পার্শ্ববর্তী মো. শাকিল হোসেনের ঘর থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় শাকিলকে গ্রেপ্তার করে দাগনভূঞা থানায় এনে অপহরণ মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। একই বছরের ৯ সেপ্টেম্বর অপহরণের অভিযোগের প্রমাণ পাওয়ায় শাকিল হোসেনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট জমা দেন তদন্তকারী কর্মকর্তা।
সূত্র আরও জানায়, ২০২০ সালের ১ জানুয়ারি ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের তৎকালীন বিচারক মামুনুর রশিদ শাকিলের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করে সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করেন। এ মামলায় ৮জন সাক্ষ্য দিয়েছেন। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে এ মামলার রায় ঘোষণা করা হয়।
এ প্রসঙ্গে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দাগনভূঞা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মনোয়ার হোসেন জানান, ওই স্কুল শিক্ষার্থীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে অপহরণ করে শাকিল। এজন্য লক্ষীপুরে মেয়েটির নানার বাড়ির পাশে নিজ বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখান থেকে মেয়েটিকে উদ্ধার ও শাকিলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে আদালতের নির্দেশে মেয়েটিকে অভিভাবকদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।