এমপি মজিবর রহমান সারওয়ারের ছোট ভাই মোশারফ হোসেন © সংগৃহীত
বরিশাল-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বাস মালিক গ্রুপের সভাপতি মোশারফ হোসেনকে থানায় ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত প্রায় ৫ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় তাকে।
পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নথুল্লাবাদ বাস টার্মিনাল পরিচালনা ও জেলা বাস মালিক গ্রুপের নেতৃত্ব নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নানা আলোচনা রয়েছে। সম্প্রতি বাস ও মাহিন্দ্রা শ্রমিকদের বিরোধের জেরে গত ২৫ ও ২৬ আগস্ট বরিশালসহ দেশের বিভিন্ন রুটে বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে সাধারণ যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়েন।
সূত্র আরও জানায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর মোশারফ নগরের নথুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের নিয়ন্ত্রণ নেন। তিনি টার্মিনালের দণ্ডমুন্ডের কর্তা হিসাবে আবির্ভূত হন। একই সময়ে সরোয়ারের ছোট ভাই অহেদুর রহমান জেলা টেম্পো মালিক সমিতির সভাপতি এবং জেলা ট্রাক মালিক সমিতির সভাপতি হয়েছেন সরোয়ারের শ্যালক সৈয়দ সাইদুল ইসলাম মামুন। ফলে বরিশালে পরিবহন সেক্টরের বড় অংশ সরোয়ার পরিবারের নিয়ন্ত্রণে। বিএনপির কোনো পদে না থেকেও স্বজনরা সরোয়ারের পরিচয়ে পরিবহন সেক্টর নিয়ন্ত্রণ করছে- এ নিয়ে স্থানীয় বিএনপিতে চাপা ক্ষোভও রয়েছে।
পুলিশের আরেকটি দায়িত্বশীল সূত্রের দাবি, টার্মিনালে একক আধিপত্য বিস্তার, সংগঠনের আর্থিক অনিয়ম এবং বিভিন্ন পর্যায়ে চাঁদাবাজির অভিযোগ নিয়ে মোশাররফের কাছে তথ্য জানতে চাওয়া হয়েছে। এর আগেও একই অভিযোগে গত ফেব্রুয়ারি মাসে তাঁকে সেনাবাহিনী বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে উদ্ধার করে জিজ্ঞাসাবাদ করে বলে জানা যায়।
এ বিষয়ে মোশাররফ হোসেন বলেন, তিনি শুক্রবার বিকেল থেকে অনেক রাত পর্যন্ত কোতোয়ালী থানায় ছিলেন। আছরসহ পরবর্তী সব নামাজ থানায় আদায় করেছেন। সম্প্রতি টেম্পো শ্রমিক ও বাস শ্রমিকদের মধ্যে সংঘর্ষ এবং এর জেরে সাময়িক বাস ধর্মঘট- এসব বিষয়ে নিয়ে পুলিশের সঙ্গে আলোচনা হয়। ভাই-ভাই নিয়ন্ত্রিত সংগঠনের মধ্যে (মোশারফ-অহেদ) আর যেন বিরোধ না হয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সে আহ্বান জানানো হয়েছে।
গতকাল শুক্রবার বিকেলে বরিশাল মহানগর পুলিশ মোশারফকে কোতোয়ালি মডেল থানায় ডেকে নেয়। সেখানে পুলিশ কর্মকর্তারা নথুল্লাবাদ বাস টার্মিনাল কীভাবে পরিচালিত হয়, আগে কীভাবে পরিচালিত হয়েছে এবং বর্তমানে কীভাবে চলছে—এসব বিষয়ে তার কাছে জানতে চান। পরে রাত ১১টার দিকে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
বাস মালিক গ্রুপের এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, পুলিশ মোশাররফের কাছে নথুল্লাবাদ বাস টার্মিনালকেন্দ্রিক চাঁদাবাজির বিষয়ে জানতে চেয়েছে। আগে কীভাবে চাঁদা তোলা হতো, এখন কীভাবে তোলা হয় এবং এর ভাগ কারা পায়—এসব বিষয়েও জানতে চাওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন উল ইসলাম বলেন, মোশারফকে আটক কিংবা ও মুচলেকায় মুক্তির কোনো ঘটনা হয়নি। কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের সার্বিক বিষয় সম্পর্কে তার কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল। আমরা মনে করি, বাস টার্মিনাল পরিচালনারও একটি নিয়ম থাকা দরকার। তিনি বিকেল থেকে থানায় ছিলেন এবং রাত ১১টার আগে চলে যান।