স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে ওসমানী মেডিকেলের চিঠি
সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল © সংগৃহীত
হাসপাতালটি অনুমোদিত ৯০০ শয্যার চিকিৎসাকেন্দ্র হিসেবে, কিন্তু জনবলকাঠামো ৫০০ শয্যার। আর হাসপাতালে প্রতিদিন ভর্তি থাকেন তিন থেকে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার রোগী। এ ছাড়া বহির্বিভাগে দৈনিক সেবা নেন আরও ৪ থেকে সাড়ে ৪ হাজার। সিলেটের এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিত্র এটি। এ অবস্থায় দৈনন্দিন চিকিৎসাসেবায় মারাত্মক সংকট দেখা দিয়েছে। সমস্যা সমাধানে দ্রুত প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানিয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে দেওয়া চিঠিতে এমন তথ্য জানিয়েছেন হাসপাতাল পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ওমর রাশেদ মুনির।
আজ শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল বরাবর এই চিঠি পাঠানো হয়। গত বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্যমন্ত্রীর হাসপাতাল পরিদর্শন ও মতবিনিময় সভার আলোচনার আলোকে এই চিঠি দেওয়া হয়েছে বলে এতে উল্লেখ করা হয়েছে। এদিকে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ৫০০ শয্যার জনবলের মধ্যে প্রায়শ ২৫ শতাংশই পদ শূন্য থাকে।
চিঠিতে জানানো হয়, জুলাই ২০২৬-এর তথ্য অনুযায়ী হাসপাতালে শয্যা দখলের হার দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৩১ শতাংশে। অর্থাৎ, ধারণক্ষমতার তিন গুণেরও বেশি রোগী প্রতিদিন এখানে চিকিৎসা গ্রহণ করছেন। অতিরিক্ত রোগীর চাপে একদিকে যেমন চিকিৎসাসেবার গুণগত মান ক্ষুণ্ন হচ্ছে, অন্যদিকে চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর মারাত্মক মানসিক ও শারীরিক চাপ তৈরি হচ্ছে।
হাসপাতালের মূল দাবি ও প্রস্তাবনার মধ্যে রয়েছে জনবল বৃদ্ধি ও অর্গানোগ্রাম পুনঃসংগঠন, ইন্টার্ন চিকিৎসকদের নিরাপত্তা ও ভাতা বৃদ্ধি, নিরাপত্তা জোরদার এবং মেডিকেল যন্ত্রপাতি ও অবকাঠামো উন্নয়ন।
চিঠিতে ৩ হাজার শয্যার উপযোগী নতুন অর্গানোগ্রাম তৈরি এবং পর্যায়ক্রমে তা বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয়েছে। প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে হাসপাতালটিকে ১৪০০ শয্যায় উন্নীতকরণের প্রস্তাব ইতোমধ্যে মন্ত্রণালয়ে প্রেরিত হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে এতে। একই সাথে ইন্টার্ন ও মিডলেভেল চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, কর্মপরিবেশ উন্নয়ন ও পে-স্কেলের সাথে সামঞ্জস্য রেখে ভাতা বৃদ্ধি, স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইন বাস্তবায়ন এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের বিরুদ্ধে প্রমাণবিহীন প্রচারণা বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানানো হয়েছে।
হাসপাতালে বিশৃঙ্খলা এড়াতে ও সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে আনসার সদস্য সংখ্যা ৮০ থেকে বাড়িয়ে ৩০০ জনে উন্নীত করা এবং ক্যাম্পাসের পুলিশ বক্সে সদস্য সংখ্যা ৫০-এ উন্নীত করার অনুরোধ করা হয়েছে চিঠিতে। এ ছাড়া দ্রুততম সময়ে ক্যান্সার, কিডনি ও হার্ট সেন্টারের অবশিষ্ট ৫ শতাংশ কাজ সম্পন্ন করে পূর্ণাঙ্গ সেবা চালু (৩ মাসের মধ্যে) এবং জাইকা অর্থায়িত ইমেজিং ডায়াগনস্টিক ভবনের নির্মাণকাজ সম্পন্ন করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। একই সাথে অপারেশন থিয়েটার, নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) ও ডায়ালিসিস ইউনিটে ১০০টি নতুন হেভি-ডিউটি এসি স্থাপনের প্রস্তাব করা হয়েছে।