বহিষ্কৃত দুই ইউপি চেয়ারম্যান মদন কুমার প্রামাণিক ও মেহেদী হাচিনা পারভীন নিলুফা © সংগৃহীত
রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলায় ভিজিএফ কর্মসূচির চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগে দুই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়।
সোমবার (১৩ জুলাই) মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. আব্দুর রহমান স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।
বরখাস্ত হওয়া চেয়ারম্যানরা হলেন—রতনদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মেহেদী হাচিনা পারভীন নিলুফা এবং মদাপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মদন কুমার প্রামাণিক।
মদাপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মদন কুমার প্রামাণিক— মা, শিশু ও কৈশোরকালীন স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ রাজবাড়ী জেলার শ্রেষ্ঠ চেয়ারম্যানের সম্মাননা পেয়েছিলেন।
প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে ভিজিএফ কর্মসূচির চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হয়। পরে তদন্তে এই দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার প্রমাণিত হওয়ায়, জনস্বার্থ পরিপন্থী ও আইন বহির্ভূত কার্যক্রমের অভিযোগে স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯-এর ৩৪(৪) ধারার (খ) ও (ঘ) উপধারা অনুযায়ী দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। এরই প্রেক্ষিতে, একই আইনের ৩৪(১) ধারা মোতাবেক চেয়ারম্যান পদ থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।
তবে এই শাস্তির পর থেকেই এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও গুঞ্জন তৈরি হয়েছে, কারণ মূল দায়িত্বে থাকা তদারকি কর্মকর্তা ও ইউপি সচিবরা রয়ে গেছেন বহাল তবিয়তে।
বরখাস্ত হওয়া দুই চেয়ারম্যানই তাদের বিরুদ্ধে আনা সমস্ত অভিযোগ জোরালোভাবে অস্বীকার করেছেন এবং একে "উদোর পিন্ডি বুধোর ঘাড়ে" চাপানোর মতো ঘটনা বলে দাবি করেছেন।
রতনদিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মেহেদী হাচিনা পারভীন নিলুফা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, মামার মৃত্যুর কারণে চাল বিতরণের সময় তিনি কাউন্সিলে উপস্থিত থাকতে পারেননি। তার অনুপস্থিতিতে সরকারি তদারকি কর্মকর্তা আফরোজা চৌধুরী এবং ইউনিয়ন পরিষদের সচিব রবিউল ইসলাম উপস্থিত থেকে চাল বিতরণ করেন। এমনকি বিতরণকালে ৬৯টি জাল কার্ডও উদ্ধার করা হয়। নিলুফার প্রশ্ন—প্রকৃত জড়িতদের প্রমাণ পাওয়ার পরও কেন তাকে অপরাধী বানিয়ে এই জুলুম করা হলো?
মদাপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মদন কুমার প্রামাণিক জানান, ঘটনার দিন ধর্মীয় পূজার কারণে তিনি উপোস ছিলেন। তাই তদারকি কর্মকর্তা আতাহার আলী এবং সচিব ফরহাদের নিকট চালের সমস্ত দায়িত্ব বুঝিয়ে দিয়ে তিনি বাড়িতে চলে যান। তার দাবি, যদি কোনো অনিয়ম হয়ে থাকে তবে তা ওই কর্মকর্তা ও সচিবই করেছেন। অথচ প্রকৃত দায়ীদের আড়াল করে তাকে বলির পাঁঠা বানানো হয়েছে, যা অত্যন্ত অমানবিক।
চেয়ারম্যানরা বরখাস্ত হলেও অনিয়মের সময় সরাসরি মাঠে উপস্থিত থাকা দুই তদারকি কর্মকর্তা ও ২দুই সচিবের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় স্থানীয় জনগণের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মেজবাহ উদ্দিন বলেন। চাল বিতরণে অনিয়মের বিষয়টি লিখিতভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছিল। এর প্রেক্ষিতে মন্ত্রণালয় দুই চেয়ারম্যানকে সাময়িকভাবে বরখাস্তের আদেশ জারি করেছে।