মনোয়ার হোসেন খোকন © সংগৃহীত
গাজীপুর মহানগরের টঙ্গী পশ্চিম থানার দাঁড়াইল এলাকায় জমি-সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে একটি সংখ্যালঘু পরিবারের বাড়িতে সংঘবদ্ধ হামলা, ভাঙচুর ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নারী, শিশুসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগী পরিবার। ঘটনার পর রাতে অভিযান চালিয়ে প্রধান অভিযুক্ত টঙ্গী পশ্চিম থানা তাঁতী দলের সাধারণ সম্পাদক মনোয়ার হোসেন খোকনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সোমবার (৬ জুলাই) সন্ধ্যা ৭টার দিকে দাঁড়াইল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে তারা প্রায় ৪০ শতাংশ জমি ভোগদখলে রেখে চাষাবাদ করে আসছে। ওই জমির ১৬ শতাংশ জাল দলিলের মাধ্যমে বিক্রি করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলে তারা আদালতে মামলা করেন, যা বর্তমানে বিচারাধীন। মামলার পর থেকেই জমি ছেড়ে দেওয়ার জন্য বিভিন্নভাবে চাপ ও হুমকি দেওয়া হচ্ছিল বলেও তাদের অভিযোগ।
পরিবারটির ভাষ্য, কয়েক দিন আগে একটি মোবাইল ফোনের অডিও রেকর্ডিংকে কেন্দ্র করে পরিবারের সদস্য মোহন ও তার স্বজন নিবাসকে মারধর করা হয় এবং একটি মোবাইল ফোন নিয়ে যাওয়া হয়। ওই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই সোমবার সন্ধ্যায় নতুন করে হামলার ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, টঙ্গী পশ্চিম থানা তাঁতী দলের সাধারণ সম্পাদক মনোয়ার হোসেন খোকনের নেতৃত্বে ৭০-৮০ জনের একটি দল দেশি অস্ত্র, লাঠিসোঁটা ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে বাড়িতে হামলা চালায়। হামলাকারীরা বাড়ির প্রধান ফটক ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে দরজা-জানালা, আসবাবসহ বিভিন্ন মালামাল ভাঙচুর করে। এ সময় বাড়িতে থাকা নারী, শিশু ও বৃদ্ধদেরও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ হামলায় মোহন (৪৬), তার স্ত্রী বৃষ্টি, ছেলে বিজয় (১৪), ভাতিজি চায়না (২২)সহ অন্তত ১০ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের আরও অভিযোগ, হামলার সময় আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসতে চাইলে হামলাকারীরা তাদের ভয়ভীতি দেখিয়ে বাধা দেয়। হামলার পর মোহনকে জোরপূর্বক নিয়ে গিয়ে অভিযুক্তদের কাছে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করা হয় বলেও দাবি তাদের। বর্তমানে পরিবারটি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলে জানিয়েছে।
ঘটনার খবর পেয়ে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী পুলিশ কমিশনার এরশাদুর রহমান রাত ১১টার দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আহতদের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। সংখ্যালঘু পরিবারের নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে। জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।
টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান জানান, ঘটনার রাতেই অভিযান চালিয়ে প্রধান অভিযুক্ত টঙ্গী পশ্চিম থানা তাঁতী দলের সাধারণ সম্পাদক মনোয়ার হোসেন খোকনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হামলার ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, জমি-সংক্রান্ত বিরোধ, আদালতে চলমান মামলা এবং হামলার অভিযোগ—সব দিক বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। অভিযোগের আলোকে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে ঘটনার পর দাঁড়াইল এলাকায় উদ্বেগ বিরাজ করছে। ভুক্তভোগী পরিবার হামলাকারীদের দ্রুত বিচার, নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে।