সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা) মো. শফিকুল ইসলাম © সংগৃহীত
চলমান ফুটবল বিশ্বকাপে বড় পর্দায় খেলা উপভোগের সময় যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে প্রদর্শনীর স্থানগুলোতে পুলিশের বিশেষ নজরদারি থাকবে বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। আজ শুক্রবার (৩ জুলাই) বিকেলে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এই তথ্য জানান ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা) মো. শফিকুল ইসলাম।
বিশ্বকাপে ব্রাজিল বনাম জাপানের ম্যাচ দেখার সময় তুচ্ছ ঘটনার জেরে রাজধানীতে ঘটে যাওয়া একটি হত্যাকাণ্ড এবং এর আসামিদের গ্রেপ্তারের বিষয় জানাতেই মূলত এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
ডিবি প্রধান শফিকুল ইসলাম জানান, রাজধানীর যেসব স্থানে বড় পর্দায় খেলা দেখানো হচ্ছে, সেখানকার স্থানীয় থানা–পুলিশ আয়োজকদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করবে। পাশাপাশি ডিবি পুলিশের পক্ষ থেকেও বিশেষ টিম মোতায়েন থাকবে, যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটতে না পারে।
এর আগে ডিবির এই অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার জানান, রাজধানীর আদাবর থানা এলাকায় সংঘটিত ওই হত্যা মামলায় চার আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—রিপন (২৭), নিরব (২৫), মজনু মিয়া (৬০) ও মো. মিজানুর রহমান (৪০)। গত বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) রাত সাড়ে ৯টার দিকে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার সাহেবনগর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি সুইচ গিয়ার চাকুও উদ্ধার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাতে ডিবি জানায়, গত ২৯ জুন রাতে বিশ্বকাপ ফুটবলের ব্রাজিল-জাপান ম্যাচ দেখা এবং বাঁশি বাজানোকে কেন্দ্র করে স্থানীয় দুটি পক্ষের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। ওই বিরোধের জেরে গত ১ জুলাই রাতে আদাবরের নবোদয় কাঁচাবাজার সংলগ্ন ডি-ব্লকের ১ নম্বর সড়কে একটি সালিস বৈঠক বসে। বৈঠকের শেষ পর্যায়ে দুই পক্ষ আবারও সংঘর্ষে জড়ালে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে নবোদয় হাউজিং ইউনিট বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. আবুল বাশার (৪৫) ও মো. সাদ্দাম হোসেন (৩৫) গুরুতর আহত হন। তাদের উদ্ধার করে প্রথমে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত সাড়ে ১১টার দিকে আবুল বাশারের মৃত্যু হয়। আহত সাদ্দাম বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ডিবি-তেজগাঁও বিভাগ জানিয়েছে, ঘটনার পর এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ, গোয়েন্দা তথ্য এবং আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করে ঈশ্বরগঞ্জে অভিযান চালানো হয়। গ্রেপ্তার চার আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।