প্রধান আসামি রিয়াজ উদ্দিন আরফাত গ্রেপ্তার © সৌজন্যে প্রাপ্ত
কক্সবাজারে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও প্রলোভন দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের হওয়া একটি মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। গতকাল ৬ জুন দিবাগত রাত ১০টার দিকে কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন সদর কোম্পানির একটি চৌকস আভিযানিক দল অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে। দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর বিশেষ অভিযানে তাকে আটক করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত রিয়াজ উদ্দিন আরফাত (২৪) কক্সবাজার পৌরসভার ঝিলংজার ঝিরঝিরি পাড়ার চন্দ্রিমা মাঠ এলাকার বাসিন্দা। তিনি স্থানীয়ভাবে আইয়ুব বাবুর্চির ছেলে বলে পরিচিত। ভুক্তভোগী একই এলাকার একটি বিদ্যালয়ের ছাত্রী।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী কিশোরী কক্সবাজার সদর এলাকার একটি স্থানীয় বিদ্যালয়ের ছাত্রী। প্রতিদিনের মতো স্কুলে যাওয়া-আসার পথে তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে। একপর্যায়ে নানা ধরনের প্রলোভন দেখানো এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে অভিযুক্ত ব্যক্তি ভুক্তভোগীর উপর একাধিকবার যৌন নির্যাতন চালায়।
পরিবারের সদস্যরা প্রথমদিকে বিষয়টি সম্পর্কে কিছুই জানতেন না। তবে সময়ের সঙ্গে মেয়েটির শারীরিক পরিবর্তন তাদের নজরে এলে উদ্বিগ্ন হয়ে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসক জানান, ওই কিশোরী প্রায় ২৮ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা। এ তথ্য জানার পর পরিবারের সদস্যরা হতবাক হয়ে পড়েন এবং বিষয়টি নিয়ে মেয়ের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার বিস্তারিত জানতে পারেন।
পরবর্তীতে ভুক্তভোগীর পরিবার বাদী হয়ে কক্সবাজার সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা রুজুর পরপরই অভিযুক্ত রিয়াজ উদ্দিন আরফাত আত্মগোপনে চলে যায়। ফলে তাকে আটকের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপরতা শুরু করে।
র্যাব-১৫ জানায়, মামলাটিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে তারা ছায়াতদন্ত শুরু করে এবং সম্ভাব্য অবস্থান শনাক্ত করতে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করে। বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি অভিযুক্তের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা হয়। একপর্যায়ে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তার অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া গেলে গ্রেফতারের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়।
তদন্তের ধারাবাহিকতায় গত ৬ জুন দিবাগত রাত ১০টার দিকে কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন সদর কোম্পানির একটি চৌকস আভিযানিক দল কক্সবাজার সদর থানাধীন কলাতলী রোড এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযান চলাকালে 'আলগনি হোটেল' সংলগ্ন এলাকা থেকে মামলার এজাহারভুক্ত প্রধান আসামি রিয়াজ উদ্দিন আরফাতকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হন তাঁরা।
র্যাব সূত্রে আরও জানা যায়, গ্রেফতারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে অভিযুক্তকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কক্সবাজার সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। মামলার তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে অন্য কোনো ব্যক্তি জড়িত আছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এদিকে নাবালিকা শিক্ষার্থীর সঙ্গে ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা, অভিভাবক এবং সচেতন মহলের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তারা এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে শিশু ও কিশোরীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আরও কার্যকর সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তারা।