রেয়ার আল সামির © সংগৃহীত
ইন্টারেক্টিভ কেয়ারের প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও রেয়ার আল সামিরকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে আটক করা হয়েছে। অর্থ আত্মসাৎ ও মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগ ওঠার পর দেশ ত্যাগের চেষ্টাকালে তাকে আটক করা হয়।
আজ মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) আদাবর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবং ইমিগ্রেশন পুলিশ বিমানবন্দর থেকে আল সামিরের আটকের বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।
বিনিয়োগকারীদের অভিযোগ, সামির বিনিয়োগকৃত অর্থ এবং মুনাফা ফেরত দেননি। এমনকি যারা টাকা বিনিয়োগ করেছেন, তাদের ফোন ধরাও বন্ধ করে দিয়েছিলেন তিনি। একাধিক বিনিয়োগকারীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পাওনা টাকার পরিমাণ কমপক্ষে ১০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে।
ইন্টারেক্টিভ কেয়ারের একজন বিনিয়োগকারী ও ব্যবসায়ী বলেন, আমাদের এখন কোনো উপায় নেই। সামি অনেক মানুষের কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন। তবে কাউকেই টাকা ফেরত দেয়নি বা মুনাফাও দেয়নি। এই মুহূর্তে আমার সন্দেহ হচ্ছে যে এর পেছনে মানি লন্ডারিং জড়িত থাকতে পারে।
ইন্টারেক্টিভ কেয়ারের বেশ কয়েকজন বর্তমান ও প্রাক্তন কর্মী জানান, তাদের কয়েক মাসের বেতন বকেয়া রয়েছে। সেগুলোও পরিশোধ করা হয়নি। ফলে কেউ কেউ এখন আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও ভাবছেন।
তবে আল এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আল সামির। গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, ‘অভিযোগগুলো সত্যি নয়। এখানে কোনো মানি লন্ডারিংয়ের বিষয় নেই। এটা আমি কখনও করিনি। সবাই এক বা দুই মাসের মধ্যে তাদের টাকা ফেরত পেয়ে যাবেন।’
২০২০ সালে কোভিড-১৯ মহামারীর সময় অনলাইন শিক্ষার চাহিদা বাড়লে রেয়ার আল সামির এবং জামিলা বুপাশা খুশবু যৌথভাবে ঢাকা-ভিত্তিক এডটেক স্টার্টআপ ইন্টারেক্টিভ কেয়ারের প্রতিষ্ঠা করেন। প্ল্যাটফর্মটি ক্যারিয়ার-কেন্দ্রিক কোর্সের ওপর ভিত্তি করে তাদের মডেল তৈরি করেছিল, যেখানে রেকর্ড করা লেসন, লাইভ ক্লাস এবং মেন্টরশিপের সমন্বয়ে কর্মসংস্থানের ওপর জোর দেওয়া হতো। সোশ্যাল মিডিয়া-ভিত্তিক প্রচারণার মাধ্যমে এটি দ্রুত প্রসারিত হয় এবং ডিজিটাল মার্কেটিং, ওয়েব ডেভেলপমেন্ট এবং ল্যাঙ্গুয়েজ টেস্ট প্রিপারেশনের মতো প্রোগ্রাম অফার করে।
এর প্রবৃদ্ধির কৌশলের অংশ হিসেবে একটি ক্রাউডফান্ডিং-শৈলীর বিনিয়োগ মডেল অন্তর্ভুক্ত ছিল, যার মাধ্যমে ব্যক্তিদের রিটার্নের আশায় প্ল্যাটফর্মে বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়া হতো।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইন্টারেক্টিভ কেয়ারের স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে প্রাথমিক পর্যায়ের বিনিয়োগ আকর্ষণ করেছিল। ২০২৩ সালে এটি ‘অ্যাকসেলারেটিং এশিয়া’ প্রোগ্রাম থেকে ১ লাখ ডলার বিনিয়োগ পেয়েছিল, যেখানে সেই ব্যাচে এটিই ছিল একমাত্র বাংলাদেশী স্টার্টআপ।