ঊর্মি হিরা ও বুলেট বৈরাগী © সংগৃহীত
চট্টগ্রাম থেকে কুমিল্লায় ফেরার পথে ৪১তম বিসিএস (নন-ক্যাডার) কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী (৩৫) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে সাফল্য পেয়েছে র্যাব। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে এখন পর্যন্ত চারজনকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
রবিবার (২৬ এপ্রিল) সন্ধ্যায় র্যাব-১১-এর সিপিসি-২ কুমিল্লার কোম্পানি কমান্ডার মেজর সাদমান ইবনে আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, এই হত্যাকাণ্ডে একাধিক ব্যক্তি জড়িত এবং আটকদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান এখনও অব্যাহত রয়েছে। তবে তদন্তের স্বার্থে এবং অপরাধীরা যেন সতর্ক হতে না পারে, সেজন্য এখনই আটকদের পরিচয় প্রকাশ করা হচ্ছে না।’
র্যাবের সুত্রে জানা গেছে, এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত তথ্য সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় কুমিল্লার শাকতলায় র্যাব কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জানানো হবে।

বুলেট বৈরাগী গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার ডুমুরিয়া গ্রামের বাবুপাড়া এলাকার বাসিন্দা সুশীল বৈরাগীর ছেলে। তিনি ৪১তম বিসিএস নন–ক্যাডার পদে কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট বিভাগে যোগদান করেন। এরপর সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা হিসেবে কুমিল্লার বিবিরবাজার স্থলবন্দরে কর্মরত ছিলেন। বিবিরবাজার থেকেই ১ এপ্রিল চট্টগ্রামে গিয়েছিলেন ৪৪তম বনিয়াদি প্রশিক্ষণে। চাকরির সুবাদে তিনি কুমিল্লা নগরের রাজগঞ্জ পানপট্টি এলাকার একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন। নিহত বুলেট তাঁর মা–বাবার একমাত্র সন্তান।
গত ১ এপ্রিল তিনি ৪৪তম বুনিয়াদি প্রশিক্ষণে অংশ নিতে চট্টগ্রামে যান। প্রশিক্ষণ শেষে শুক্রবার রাত ১১টার দিকে অলঙ্কার মোড় থেকে বাসে করে কুমিল্লার উদ্দেশে রওনা হন তিনি। সবশেষ রাত ১টা ২৫ মিনিটে পরিবারের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান যে কুমিল্লার টমছমব্রিজ চৌরাস্তার মোড়ে পৌঁছেছেন। এরপর থেকেই তাঁর ফোন বন্ধ হয়ে যায় এবং পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়।
পরদিন শনিবার সকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কোটবাড়ী এলাকার একটি হোটেলের পাশ থেকে তার রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে তার মা নীলিমা বৈরাগী এবং স্ত্রী উর্মি হীরা এখন শোকাতুর। নিহতের মা অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে সদর দক্ষিণ মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন। জেলা পুলিশের একাধিক টিমও এই মামলার ছায়া তদন্তে যুক্ত রয়েছে।
নিহত বুলেটের স্ত্রী উর্মি হীরা বলেন, ‘আমি শুধু আমার স্বামীর রক্তাক্ত শরীর দেখেছি। অনেকে অনেক কথা বলছেন। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট কী আসবে, তদন্ত কী বলবে—এসবের বাইরে আমার একটাই প্রশ্ন, আমার স্বামীর সঙ্গে আসলে কী ঘটেছিল? আমি শুধু সেটার উত্তর চাই।’