জঙ্গল সলিমপুরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ৪ হাজার সদস্যের চিরুনি অভিযান

০৯ মার্চ ২০২৬, ০১:৪২ PM
যৌথ বাহিনীর বাহিনীর আটক কয়েকজন

যৌথ বাহিনীর বাহিনীর আটক কয়েকজন © সংগৃহীত

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে সন্ত্রাসী গ্রেপ্তার ও অস্ত্র উদ্ধারে বড় ধরনের অভিযান শুরু করেছে যৌথ বাহিনী। সোমবার (৯ মার্চ) ভোর থেকে শুরু হওয়া এ অভিযানে শুরু করা হয়। সেনাবাহিনী, র‍্যাব, পুলিশের প্রায় চার হাজার সদস্যের যৌথ অংশগ্রহণে অভিযানে বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

অভিযানের খবর পেয়ে ওই এলাকার নিয়ন্ত্রণ কর্তা শীর্ষ সন্ত্রাসী ও র‌্যাব কর্মকর্তা হত্যা মামলার অন্যতম আসামি মো. ইয়াছিন অভিযানের খবর পেয়ে বোরকা পরে পালিয়ে গেছে বলে জানা গেছে।

বিষয়টি চট্টগ্রাম জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গণমাধ্যম) মো. রাসেল নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, যৌথ বাহিনীর চার হাজার সদস্য অভিযানে রয়েছেন। অভিযানের বিস্তারিত পরে জানানো হবে। এই প্রতিবেদন লেখা দুপুর ১টা পর্যন্ত অভিযান চলমান।

জানা গেছে, আজ সকাল থেকে জঙ্গল সলিমপুরের চারপাশ ঘিরে ফেলে যৌথ বাহিনী। এলাকায় প্রবেশপথে বসানো হয়েছে তল্লাশিচৌকি, যাতে অভিযান শুরুর পর কেউ পালিয়ে যেতে না পারে। বিভিন্ন দলে ভাগ হয়ে অভিযানে অংশ নিচ্ছেন যৌথ বাহিনীর সদস্যরা।

গত ১৯ জানুয়ারি জঙ্গল সলিমপুরে অভিযান চালানোর সময় সন্ত্রাসী হামলায় নিহত হন র‍্যাব-৭-এর উপসহকারী পরিচালক (নায়েব সুবেদার) মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া। এরপর সেখানে সমন্বিত অভিযান চালানোর বিষয়টি সামনে আসে। তবে জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে থাকায় ওই সময় আর অভিযান চালানো হয়নি। এ ঘটনায় সীতাকুণ্ড থানায় মামলা করে র‍্যাব। এতে প্রধান আসামি করা হয় মোহাম্মদ ইয়াসিনকে। মামলায় ইয়াসিন, নুরুল হক ভান্ডারীসহ ২৯ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয় আরও ২০০ জনকে।

চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থেকে দুই কিলোমিটার পশ্চিমে এশিয়ান উইমেন ইউনিভার্সিটি। এর বিপরীতে লিংক রোডের উত্তর পাশে ৩ হাজার ১০০ একর জায়গায় জঙ্গল সলিমপুরের অবস্থান। সীতাকুণ্ড উপজেলায় হলেও নগরের কাছেই এই এলাকা। এলাকাটির পূর্ব দিকে রয়েছে হাটহাজারী উপজেলা এবং দক্ষিণে বায়েজিদ বোস্তামী থানা।

জানা গেছে, জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় দুটি সন্ত্রাসী পক্ষ রয়েছে। একটি পক্ষের নেতৃত্বে রয়েছেন মোহাম্মদ ইয়াসিন ও অপরপক্ষে রোকন উদ্দিন। ইয়াসিন বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সীতাকুণ্ডের সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগের নেতা এস এম আল মামুনের অনুসারী ছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে ইয়াসিন নিজেকে বিএনপি নেতা আসলাম চৌধুরীর অনুসারী দাবি করে আসছেন। তবে র‍্যাব কর্মকর্তা নিহত হওয়ার পর গণমাধ্যমে বিবৃতি দিয়ে আসলাম চৌধুরী বলেন, জঙ্গল সলিমপুরে তার কোনো অনুসারী নেই। ঘটনার সঙ্গে বিএনপির কেউ জড়িত নন।

জঙ্গল সলিমপুর দুর্গম পাহাড়ি এলাকা হওয়ায় এটি হয়ে উঠেছে সন্ত্রাসীদের নিরাপদ আস্তানা। চার দশক ধরে সরকারি পাহাড় কেটে গড়ে উঠেছে কয়েক হাজার অবৈধ বসতি। এখনো পাহাড় কেটে চলছে প্লট-বাণিজ্য। আর এই বাণিজ্য ও দখল টিকিয়ে রাখতে এলাকাটিতে গড়ে তোলা হয়েছে সন্ত্রাসী বাহিনী। এলাকাটির সার্বক্ষণিক সশস্ত্র পাহারায় থাকে এসব সন্ত্রাসী। গত বছরের অক্টোবরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে একজন নিহত হন। পরদিন সেখানে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সন্ত্রাসীদের হামলা ও মারধরের শিকার হন দুই সাংবাদিক।

ইরাকে আমিরাতের কনস্যুলেটে ড্রোন হামলা
  • ১০ মার্চ ২০২৬
জ্বালানি সাশ্রয়ে পাকিস্তানে স্কুল বন্ধ, হোম অফিস ও সাপ্তাহি…
  • ১০ মার্চ ২০২৬
পুতিনের সঙ্গে এক ঘণ্টা ফোনালাপ ট্রাম্পের, কী কথা হলো?
  • ১০ মার্চ ২০২৬
সম্পত্তির লোভে দুই ছেলের মারধরে নিহত বাবা
  • ১০ মার্চ ২০২৬
মাদ্রাসায় অগ্নিকাণ্ড, তারাবির নামাজে থাকায় প্রাণে বাঁচল শত…
  • ১০ মার্চ ২০২৬
জমি নিয়ে বিরোধে হামলা, তিন সন্তানসহ হাসপাতালে ভর্তি অন্ধ ব্…
  • ১০ মার্চ ২০২৬
close