তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ
আদালতের প্রতীকী ছবি © সংগৃহীত
কামরাঙ্গীরচরের আশ্রাফাবাদে এক তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের দায়ে চারজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। পাশাপাশি আসামিদের প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
আজ রবিবার (ফেব্রুয়ারি) ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪ এর বিচারক মুন্সী মো. মশিয়ার রহমান এ রায় দেন। দণ্ডিত আসামিরা হলেন- শহিদুল ইসলাম, সাইফুল ইসলাম, নিজাম এবং মনির হোসেন ওরফে সেন্টু।
সংশ্লিষ্ট আদালতের প্রসিকিউটর এরশাদ আলম (জর্জ) সাজার এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, আসামিদের স্থাবর/অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করে অর্থদণ্ডের টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দিতে ঢাকার জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আসামিদের মধ্যে সাইফুল ইসলাম পলাতক রয়েছে। তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে ট্রাইব্যুনাল। বাকি তিন আসামি আদালতে হাজির ছিলো। রায় শেষে সাজা পরোয়ানা দিয়ে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, ২০০৯ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টার দিকে ওই তরুণী বান্ধবীর সঙ্গে কামরাঙ্গীরচরের আশ্রাফাবাদে ময়দার মিলের পার্শ্বে নৌকা ঘাটে বেড়াতে যায়। একপর্যায়ে বান্ধবী তাকে রেখে বাসায় চলে যায়। বান্ধবী চলে যাওয়ার পর পৌনে ৭টার দিকে আসামিরা জোরপূর্বক তাকে একটি নৌকায় উঠিয়ে বুড়িগঙ্গা নদীর মাঝখানে নিয়ে যায়। মাঝিকে নদীতে ফেলে দিয়ে নৌকার মধ্যে আসামিরা পালাক্রমে ওই তরুণীকে ধর্ষণ করে।
পরে ভুক্তভোগীকে একটি বাড়িতে রুমের মধ্যে তালাবদ্ধ করে রাখে আসামিরা। খবর পেয়ে ওই তরুণীর বাবা-মা তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করে। পরে ভুক্তভোগী বাদী হয়ে নিজে থানায় মামলা করেন।
মামলাটি তদন্ত করে ২০১০ সালের ৩১ অক্টোবর কামরাঙ্গীরচর থানার এসআই শফিকুল ইসলাম শিকদার আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। পরে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়। মামলার বিচার চলাকালে ট্রাইব্যুনাল আটজনের সাক্ষ্যগ্রহণ করে।