পাচার হওয়া ২৮ শিশু-কিশোর © সংগৃহীত
ভারতে পাচারের শিকার হয়ে বিভিন্ন মেয়াদে কারাভোগ শেষে বিশেষ ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে ২৮ জন শিশু-কিশোর ও কিশোরী দেশে ফিরেছে। মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে ভারতীয় ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ তাদের বেনাপোল ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করে। এ সময় শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফজলে ওয়াহিদ ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিয়াজ মাখদুম উপস্থিত ছিলেন। ফেরত আসাদের মধ্যে ১১ জন কিশোর-কিশোরী ও ১৭ জন শিশু রয়েছে। তাদের বয়স ৮ থেকে ১৩ বছরের মধ্যে।
ফেরত আসারা হলো- কুড়িগ্রাম জেলার উকিল আমিনের মেয়ে আরজিনা খাতুন, মোহাম্মাদ আলীর মেয়ে হাওয়া মনি, জিহাদুল ইসলামের মেয়ে সুমা খাতুন, সোহেল আলীর ছেলে আব্দুল মোতালেব, জিহাদুলের ছেলে রুহুল মিয়া, মোফাজ্জেল হোসেনের ছেলে নুরনবী; রংপুর জেলার জোতিন চন্দ্রর মেয়ে চায়না চন্দ্র, বুলবুল চন্দ্রর ছেলে গভীর চন্দ্র ও বন্ধন চন্দ্র; পিরোজপুর জেলার শাহিন তালুকদারের ছেলে সাব্বির তালুকদার; সাতক্ষীরা জেলার জিয়ারুল ইসলাম দুখুর ছেলে তামিম হোসেন, আলিম বিশ্বাসের ছেলে আলামিন বিশ্বাস; যশোর জেলার মনজুর হোসেনের ছেলে হোসিফা হোসেন; বাগেরহাট জেলার অশোক মন্ডলের ছেলে হৃদয় মন্ডল, নাসির মোল্যার মেয়ে রাকিবুল মোল্যা, ইছানুর মন্ডলের ছেলে রিহান মন্ডল, সাজ্জাদ মুন্সির ছেলে আব্দুল আলী মুন্সি; যশোর জেলার মনজুর হাসানের ছেলে মোশাদ হাসান; নড়াইল জেলার আলমগীর হোসেনের ছেলে শামছুল হোসেন; বাগেরহাট জেলার আফজাল মোড়লের ছেলে ওসমান মোড়ল; যশোর জেলার সাইদুল ইসলামের মেয়ে সাবনুর খাতুন; নাটোর জেলার হানিফ মন্ডলের মেয়ে নাজনিন; কুমিল্লা জেলার জয়নাল আবেদীনের মেয়ে আয়শা আক্তার; খুলনা জেলার উত্তম দাশের ছেলে জয় দাস, হালালুর রহমানের ছেলে নাহিদ হোসেন, উত্তম কুমারের মেয়ে পুষ্পিতা; বাগেরহাট জেলার মিলন গাজীর মেয়ে তানজিলা; ময়মনসিংহ জেলার আব্দুল হাকিমের ছেলে রাসেল মিয়া।
বেনাপোল ইমিগ্রেশনের ওসি সাখাওয়াত হোসেন বলেন, এরা বিভিন্ন সীমান্ত পথে কেউ বাবা-মায়ের সঙ্গে আবার কেউ দালালের মাধ্যমে ভারতে যায়। সেখানে গিয়ে পুলিশ তাদের আটক করে এবং আদালতের মাধ্যমে জেলে পাঠায়। পরবর্তীতে সেখানকার বেসরকারি সংস্থাগুলো আদালতের মাধ্যমে তাদের ছাড়িয়ে নিজ নিজ শেল্টার হোমে রাখে। ইমিগ্রেশন কার্যক্রম শেষে তাদের বেনাপোল পোর্ট থানা-এ হস্তান্তর করা হয়েছে।
বেনাপোল পোর্ট থানার উপ-পরিদর্শক খায়রুল ইসলাম জানান, আনুষ্ঠানিকতা শেষে ভারত থেকে ফেরত আসা ২৮ জন শিশু-কিশোর ও কিশোরীকে বেসরকারি তিনটি এনজিও সংস্থার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
যশোর রাইটসের এরিয়া কো-অর্ডিনেটর তৌফিক আহমেদ বলেন, ভারতে আটক হওয়ার পর দুই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে চিঠি চালাচালির এক পর্যায়ে তারা বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে দেশে ফেরে। ফেরত আসাদের জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার ও মহিলা আইনজীবী সমিতিসহ আমরা তিনটি সংস্থা যশোরে নিজেদের শেল্টার হোমে রাখব। কেউ আইনি সহায়তা চাইলে তাকে সহায়তা দেওয়া হবে। পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে পর্যায়ক্রমে তাদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।