আজিজুর রহমান মুসাব্বির © সংগৃহীত
রাজধানীর পশ্চিম তেজতুরি বাজার এলাকায় ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান মুসাব্বিরকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৮ ডিসেম্বর) তেজগাঁও থানায় নিহতের স্ত্রী সুরাইয়া বেগম বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। তবে এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে আরও একজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। দোষীদের শনাক্তে একাধিক টিম কাজ করছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
জানা গেছে, ব্যক্তিগত জীবনে মুছাব্বির দুই মেয়ে ও এক ছেলের জনক ছিলেন। তার হত্যা মামলায় অজ্ঞাত ৫ জনকে আসামী করা হয়েছে।
ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) ইবনে মিজান বলেন, মুসাব্বিরের শরীরে দুইটি গুলি লাগে। তার সঙ্গে থাকা আবু সুফিয়ানের শরীরে লাগে একটি গুলি। তিনি বলেন, মুসাব্বিরের কনুইতে একটি এবং পেটে একটি গুলি লাগে। এই হামলায় কারওয়ান বাজার ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সুফিয়ান বেপারি মাসুদও গুলিবিদ্ধ হন। আবু সুফিয়ানের পেটে একটি গুলি লাগে। পাঁজরে গুলি লাগা অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, বর্তমানে তিনি ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন আছেন। ঘটনাস্থল থেকে আলামত হিসেবে ৭.৬৫ বুলেটের তিনটি খোসা উদ্ধার করা হয়েছে।
তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) ফজলুল করিম বলেন, আশপাশের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ চলছে। পলাতক দুজনকে শনাক্তে কাজ চলছে। নিহত মুসাব্বির ওই এলাকায় থাকতেন না। তিনি থাকতেন অন্য এলাকায়। তার স্ত্রী জানিয়েছেন, তিনি মাঝেমধ্যে তেজতুরী বাজার এলাকায় যেতেন। ঘটনার পর আশপাশের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পুলিশ এখন পর্যন্ত দুজন দুর্বৃত্তকে দৌড়ে পালাতে দেখেছে। আরও সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। ওই দুজনকে শনাক্তে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে।
তেজগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কৈশন্য মারমা বলেন,পুলিশ ইতিমধ্যেই জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত কার্যক্রম জোরদার করেছে। তিনি জানান, নিহত মুছাব্বীরের মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে বাদ জোহর নয়াপল্টনস্থ বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে তার জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।
জানা গেছে, সেখান থেকে তার বাসভবন কাওরান বাজারে বাদ আছর দ্বিতীয় জানাজার শেষে আজিমপুর কবরস্থানে দাফন করার কথা রয়েছে। এর আগে ঢাকা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের লেকচারার ডা. আয়েশা পারভিন মুছাব্বিরের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করেন।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সময় এআইটিভিইটি সেন্টারের সামনে অন্ধকার গলিতে ওঁৎ পেতে থাকা দুই দুর্বৃত্ত তাদের গুলি করে। পরে দুর্বৃত্তরা মূল সড়কের দিকে দৌঁড়ে পালিয়ে যায় যায়। আহত মুসাব্বির ও আবু সুফিয়ান আহত অবস্থায় আবার গলির ভেতরে ঢুকে কিছুদূর গিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। ঘটনাস্থল থেকে ঘটনাস্থল থেকে আলামত হিসেবে ৭.৬৫ বুলেটের তিনটি খোসা উদ্ধার করা হয়েছে।
মুসাব্বিরকে হত্যার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তোরের দাবিতে আগামী শনিবার (১০ জানুয়ারি) ঢাকাসহ সারাদেশে বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে স্বেচ্ছাসেবক দল। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচে মুসাব্বিরের জানাজার নামাজের আগে এই কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
প্রসঙ্গত, বুধবার (৭ জানুয়ারি) রাত সোয়া ৮টার দিকে বাসায় ফেরার সময় কারওয়ান বাজারের স্টার কাবাবের পেছনের একটি গলিতে মুসাব্বিরকে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এ সময় কারওয়ান বাজার ভ্যান সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. আবু সুফিয়ান মাসুদও গুলিবিদ্ধ হন। সেখান থেকে পান্থপথের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে সেখানেই চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।