মোকছেদুর রহমান © টিডিসি সম্পাদিত
পাবনার সাবেক ভাঙ্গুড়া উপজেলা কমান্ডার মুক্তিযোদ্ধা মোকছেদুর রহমানের বিরুদ্ধে ২ কোটি টাকা আত্মসাৎ, ভুয়া সনদ তৈরি, মূল গেজেট স্ক্যান করে ভুয়া গেজেট তৈরি করাসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোহাম্মদ, দিদার হোসেন, শাজাহান আলী, সাত্তার খানসহ ৮ জন মুক্তিযোদ্ধা স্বাক্ষরিত লিখিত অভিযোগপত্রে এসব তথ্য উঠে এসেছে। অভিযোগের কপিগুলো ইতোমধ্যে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা, জেলা প্রশাসক ও উপজেলা প্রশাসনের কাছে পাঠানো হয়েছে বলে অভিযোগকারীরা জানিয়েছেন।
অভিযোগপত্রের তথ্য অনুযায়ী, মুক্তিযোদ্ধা মোকছেদুর রহমান মাত্র ১১ বছর বয়সে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের দাবি করেন এবং ২০১৫ সালে কারসাজির মাধ্যমে ১৯৭৩ সালের এসএসসি পাশের সনদ উত্তোলন করেন। তার মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ নিয়ে প্রশ্ন উঠলে তিনি ওই সনদ ব্যবহার করে বিষয়টি ধামাচাপা দেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, স্থানীয় সংসদ সদস্য মকবুল হোসেনের মদদে তিনি বিতর্কিত মুক্তিযোদ্ধা হয়েও উপজেলা কমান্ডারের পদ দখল করেন এবং পরে উৎকোচের বিনিময়ে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা তৈরি শুরু করেন।
অভিযোগকারীদের ভাষ্যমতে, তিনি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রকাশিত ২০১৩ সালের মূল গেজেট স্ক্যান করে ভুয়া গেজেট তৈরি করেন এবং স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের নাম মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেন। তালিকায় উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি লোকমান হোসেন ও দিলপাশার ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অশোক কুমার ঘোষের নাম রয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, মোকছেদুর রহমান মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের ভাড়া বাবদ অর্থ আত্মসাৎ করেছেন এবং প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের যাচাই-বাছাইয়ে উৎকোচ গ্রহণ করেছেন। ২০২২-২৩ অর্থবছরে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বরাদ্দ ৭৫ হাজার টাকা আত্মসাৎ করারও অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া, সরকারি খাসজমি দখল, বিক্রয় এবং রেলওয়ের জমিতে মার্কেট নির্মাণের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে মুক্তিযোদ্ধা মোকছেদুর রহমান দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো মিথ্যা এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তিনি জানান, উপজেলা কমান্ডারের নির্বাচনে গোলাম মোহাম্মদ পরাজিত হওয়ার পর প্রতিহিংসা থেকে এমন অভিযোগ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোছাঃ নাজমুন নাহার বলেন, অভিযোগের কপি হাতে পাওয়া গেলে তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।