খাম আদান-প্রদানের ভিডিও ফাঁস, প্রত্যাহার ওসি © বিটিভি থেকে নেওয়া
রাজশাহী মহানগরের চন্দ্রিমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব আলমকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। শনিবার (৬ জুলাই) তাকে রাজশাহী পুলিশ সদর দপ্তরে প্রত্যাহার করা হয়। এর আগে ওসি মাহবুব আলম তার দপ্তরে বসে এক ব্যক্তির সঙ্গে খাম আদান-প্রদান করছেন-এমন একটি ভিডিও ফাঁস হয়েছে। এ নিয়ে নানা আলোচনা চলছে।
ফাঁস হওয়া ভিডিওতে দেখা গেছে, ‘ওসি তার দপ্তরে নিজের চেয়ারে বসে রয়েছেন। টেবিলের অপর দিকে চেয়ারে বসে থাকা এক ব্যক্তি বলছেন, ‘মাহবুব ভাই, ভাই উঠব ভাই।’ জবাবে ওসি বলেন, ‘আচ্ছা।’ তখন ওই ব্যক্তি বলেন, ‘একটু কথা বলে যাই।’ ওসি তার দিকে মনোযোগ দিয়ে বলেন, ‘হুম।’ সামনে বসে থাকা ব্যক্তি বলেন, ‘ভাই, একটা ছোট ইয়ে, খাম দেন।’ ওসি তখন মুচকি হাসেন। এ সময় ওই ব্যক্তি বলেন, ‘মাহবুব ভাই, আপনি আমাকে চেনেন, জানেন, বোঝেন। আমি বিপদে পড়ছি বলেই আপনার কাছে আসছি ভাই। আমি বিপদেই পড়ি।’ তখন তৃতীয় এক কণ্ঠে বলতে শোনা যায়, ‘দাও।’ তবে ভিডিও ধারণের ক্যামেরা ওই তৃতীয় ব্যক্তির হাতেই ছিল।
এরপর ওসি মুচকি হাসতে হাসতে টেবিলের ড্রয়ার খুলে একটি খাম বের করে দেন। তারপর ওসি তৃতীয় ওই ব্যক্তির দিকে তাকিয়ে বলেন, ‘দিলাম ভাই, বুইঝেন। তাকে অবশ্য আগেরটাও আমি হেল্প করছি।’ ওই ব্যক্তি তখন বলেন, ‘আমি জানি, আমি মাহবুব ভাইয়ের কাছে আসলে ভাই কাজ হবে।’ এ সময় ওসি বলেন, ‘না, যথেষ্ঠ হেল্প করছি।’ কথা বলতে বলতে সামনে থাকা ওই ব্যক্তি ভরা খাম টেবিলে এগিয়ে দিলে ওসি সেটি আবার নিয়ে ড্রয়ারে রেখে দেন।
ওই ব্যক্তি বলেন, ‘আমি না পাড়তে এ পর্যন্ত আসলাম। বিশ্বাস করেন! আমি আরেক দিন এসে ডিটেইলস বলব, তখন বুঝবেন ও আমাকে কী পর্যায়ে পেরেশানিতে নিয়ে আসছে। না হলে আমি আপনার কাছে আসতাম না যদি অফিশিয়ালি সলিউশন করতে পারতাম আমি। সে জিএম স্যারের কাছে ৪০ জন লোক নিয়ে গেছে রিমুভ ফরম সার্ভিস করার জন্য আমার বোনের। আমি কী বোঝাব বলেন!’ তখন ওসি বলেন, ‘দুজনেই পানিশমেন্ট হওয়ার সম্ভাবনা আছে।’ জবাবে ওই ব্যক্তি বলেন, ‘ভাই, আমার বোনের যদি পানিশমেন্ট হয় হোক, কিন্তু এই অপরাধ; অন্যায় যে করে, আর যে সহে—দুজনে সমান অপরাধী।’
এ বিষয়ে ওসি মাহাবুবের সঙ্গে কথা হলে তিনি ওই অর্থ নেওয়ার ঘটনা অস্বীকার করে বলেন, ‘আমি ষড়যন্ত্রের শিকার। আমাকে ফাঁসানো হয়েছে। খামের মধ্যে কোন টাকা ছিলো না। কাগজ ছিলো।’
এদিকে ২০২১ সালে এই ওসির বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত আক্রোশের জেরে এক নারী পুলিশ পরিদর্শকের স্বামীকে সাজানো মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর অভিযোগ রয়েছে। এর প্রতিকার চেয়ে ওই বছরের ২৪ মার্চ রাজশাহী মহানগর পুলিশের কমিশনার বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন ওই নারী পুলিশ কর্মকর্তা।
এ বিষয়ে রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) মুখপাত্র জামিরুল ইসলাম বলেন, রাজশাহী পুলিশ সদর দপ্তরে চন্দ্রিমা থানার ওসিকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।