সাদমান ও নাঈম ইসলাম © সংগৃহীত
সিলেট টেস্টের দ্বিতীয় দিনে ফিল্ডিং করতে গিয়ে বাঁ পায়ের গোড়ালিতে চোট পেয়েছেন বাংলাদেশের ওপেনার সাদমান ইসলাম। ব্যথায় কাতর হয়ে স্ট্রেচারে মাঠ ছাড়ার পর তাকে এমআরআই করানোর জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তার চোটের কারণে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে ওপেনিংয়ে নামতে হয়েছে স্পিন বোলিং অলরাউন্ডার নাঈম হাসানকে। তবে ৫ রান করে আউট হয়েছেন তিনি। অন্যদিকে, ওয়েস্ট ইন্ডিজের ৩৫৬ রানের জবাবে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই চাপে পড়েছে বাংলাদেশ।
দ্বিতীয় দিনের প্রথম সেশনে বাউন্ডারি বাঁচাতে গিয়ে বাঁ পায়ের গোড়ালিতে চোট পান সাদমান। ব্যথার কারণে মাঠে থাকতে পারেননি তিনি। পরে স্ট্রেচারে করে তাকে মাঠের বাইরে নেওয়া হয়। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে চোটের ধরন ও মাত্রা জানতে এমআরআই স্ক্যান করানোর জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে তাকে।
দলের ফিজিও বায়েজিদুল ইসলাম খান জানিয়েছেন, সাদমানের বাঁ পায়ের গোড়ালি মচকে গেছে। আপাতত তাকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
বায়েজিদুল বলেন, ‘সাদমানের একটা অ্যাঙ্কেল টুইস্ট হয়েছে। লেফট অ্যাঙ্কেল টুইস্ট হয়েছে। এখন সে পর্যবেক্ষণে আছে। আমরা তাকে এমআরআই স্ক্যান করতে পাঠাব।’
সাদমানের চোটে বাংলাদেশের ব্যাটিং অর্ডারেও পরিবর্তন আনতে হয়েছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম ইনিংস শেষ হওয়ার পর তানজিদ হাসান তামিমের সঙ্গে ওপেনিংয়ে নামেন নাঈম হাসান। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটেও কখনো ওপেন করেননি এই স্পিন বোলিং অলরাউন্ডার। তবে সাদমানের অনুপস্থিতিতে প্রথমবারের মতো টেস্টে ওপেনিংয়ে নামতে হয় তাকে। আগের টেস্টে ক্যারিয়ারের প্রথম ফিফটি পেয়েছিলেন নাঈম। তবে এই ইনিংসে বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। জেইডেন সিলসের বলে স্লিপে ব্র্যান্ডন কিংকে ক্যাচ দিয়ে ৫ রান করে ফেরেন তিনি।
এরপর তিন নম্বরে ব্যাট করতে নামেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। তানজিদ হাসানও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। কেসি গ্রিভসের অফ স্টাম্পের বাইরের ফুল লেংথের বলে উইকেট ছেড়ে বেরিয়ে শট খেলতে গিয়ে পয়েন্টে ক্যাচ দেন তিনি। অভিষিক্ত উইকহ্যাম শূন্যে লাফিয়ে দুই হাত বাড়িয়ে দারুণভাবে ক্যাচটি নেন। ১৬ রান করে ফেরেন তানজিদ।
চা বিরতির আগে ১৭ ওভারে ৩৬ রান তুলতেই ২ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। তখনো ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম ইনিংসের চেয়ে ৩২০ রানে পিছিয়ে ছিল স্বাগতিকেরা। বাংলাদেশের হয়ে নাজমুল ১১ ও তাওহীদ হৃদয় ৪ রানে অপরাজিত ছিলেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে জেইডেন সিলস ১৭ রানে ১টি এবং কেসি গ্রিভস ১ রানে ১টি উইকেট নেন।
এরপর নাজমুল ও হৃদয় মিলে ২৯ রানের জুটি গড়েন। তবে শামার জোসেফের বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। আউট হওয়ার আগে তার ব্যাট থেকে আসে ১৮ রান। এরপর ক্রিজে নামেন মুশফিকুর রহিম।
এর আগে সিলেট টেস্টের প্রথম ইনিংসে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৩৫৬ রানে অলআউট হয়। দ্বিতীয় দিনের শুরুতে শেষ উইকেট জুটিতে জোমেল ওয়ারিক্যান ও জেইডেন সিলস ৩৩ রান যোগ করেন। মেহেদী হাসান মিরাজ এই জুটি ভেঙে দেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে আমির জাঙ্গু ১৩৩ রানের সেঞ্চুরি করেন। এ ছাড়া কেভিন উইকহ্যাম ৬১ ও জাস্টিন গ্রিভস ৫১ রান করেন। রোস্টন চেজের দলকে বড় সংগ্রহ এনে দিতে শেষ দিকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন ওয়ারিক্যান ও সিলস।
বাংলাদেশের হয়ে দুর্দান্ত বোলিং করেছেন হাসান মাহমুদ। টেস্ট ক্যারিয়ারে দ্বিতীয়বারের মতো এক ইনিংসে ৬ উইকেট নিয়েছেন তিনি। ৯০ রান দিয়ে তার শিকার ৬ উইকেট। তাসকিন আহমেদ ৯০ রানে ২টি এবং মেহেদী হাসান মিরাজ ৮২ রানে ২টি উইকেট নেন। তাইজুল ইসলাম ৫৪ ও নাঈম হাসান ৩৭ রান দিয়ে কোনো উইকেট পাননি। দ্বিতীয় দিনের শেষ উইকেট জুটিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটসম্যানরা বাংলাদেশকে ভুগিয়েছেন।