তানজিদ হাসান তামিম © টিডিসি ছবি
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ইতিহাস গড়ে প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি তুলে নেওয়ার পর সাজঘরে ফিরলেন তানজিদ হাসান তামিম। তিন অঙ্ক ছোঁয়ার পর বেশি সময় টিকতে পারেননি বাঁহাতি এই ওপেনার। নাথান লায়নের বলে বড় শট খেলতে গিয়ে লং-অফে মিচেল স্টার্কের দুর্দান্ত ক্যাচে ১০১ রানে থামেন তিনি।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দেশের বাইরে নিজের প্রথম টেস্ট খেলতে নেমেই অসাধারণ ব্যাটিং করেছেন তানজিদ। ৮টি চার ও ১টি ছক্কার সাহায্যে ১৯৭ বলে ১০১ রান করেন তিনি। তাঁর বিদায়ে ভাঙে তৃতীয় উইকেটে নাজমুল হোসেন শান্তর সঙ্গে গড়া ৯৩ রানের জুটি।
তানজিদের আউটের পর ৬৬ ওভার শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়িয়েছে ৩ উইকেটে ২৩৪ রান। অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসের ১৯৮ রানের জবাবে বাংলাদেশের লিড এখন ৩৫ রান। ৫০ রানে অপরাজিত আছেন অধিনায়ক শান্ত। নতুন ব্যাটার হিসেবে ক্রিজে এসেছেন মুশফিকুর রহিম।
অফ স্টাম্পের বাইরে ফুল লেংথের বল পেয়েছিলেন তানজিদ। বোলারের পাশ দিয়ে ড্রাইভ করে বলটি লং-অফের দিকে পাঠাতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু শটটি সীমানা পার করার বদলে মিচেল স্টার্কের হাতে চলে যায়। দুর্দান্ত ক্যাচ নিয়ে তানজিদের ইনিংসের সমাপ্তি নিশ্চিত করেন স্টার্ক।
এর আগে নাথান লায়নের বলে বড় শট খেলে তানজিদ নিজের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন। ১৮৬ বলে তিন অঙ্ক ছোঁয়ার পর শেষ পর্যন্ত ১৯৭ বল খেলে ১০১ রান করেন তিনি।
এই সেঞ্চুরি তানজিদের ক্যারিয়ারে যেমন বিশেষ, বাংলাদেশের ক্রিকেটেও তেমনি ঐতিহাসিক। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্টে বাংলাদেশের কোনো ব্যাটারের এটিই প্রথম সেঞ্চুরি। একই সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের কোনো ব্যাটারের এটি দ্বিতীয় টেস্ট সেঞ্চুরি।
এর আগে ২০০৬ সালের ফতুল্লা টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ১৩৮ রানের ইনিংস খেলেছিলেন শাহরিয়ার নাফীস। তবে সেটি ছিল বাংলাদেশের মাটিতে। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে গিয়ে প্রথমবারের মতো তিন অঙ্কের দেখা পেলেন তানজিদ।
তানজিদের এই সেঞ্চুরি এসেছে ক্যারিয়ারের মাত্র দ্বিতীয় টেস্টেই। গত মে মাসে পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট অভিষেক হয়েছিল তাঁর। নিজের দ্বিতীয় ম্যাচেই অস্ট্রেলিয়ার মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে বিদেশের মাটিতে সেঞ্চুরি করে নিজের সামর্থ্যের বড় প্রমাণ দিলেন এই বাঁহাতি ওপেনার।
তানজিদের আগে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তও তুলে নিয়েছেন ফিফটি। ৫টি চারের সাহায্যে ৭৪ বলে অর্ধশতক পূর্ণ করেন তিনি। এটি টেস্ট ক্রিকেটে শান্তর সপ্তম ফিফটি।
তানজিদের বিদায়ের পরও বাংলাদেশ ভালো অবস্থানে রয়েছে। শান্তর সঙ্গে এখন মুশফিকুর রহিমের জুটি গড়ার পালা। অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসের চেয়ে ইতিমধ্যে ৩৫ রান এগিয়ে গেছে বাংলাদেশ।