অস্ট্রেলিয়াকে সিরিজ হারিয়ে ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ

১১ জুন ২০২৬, ০৯:১৪ PM
মিরপুরে রচিত হলো এক নতুন ইতিহাস

মিরপুরে রচিত হলো এক নতুন ইতিহাস © সংগৃহীত

চার দশকের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে মিরপুরে রচিত হলো এক নতুন ইতিহাস। বাংলাদেশের ওয়ানডে ক্রিকেটের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়াকে সিরিজ হারিয়ে নতুন অধ্যায় লিখল টাইগাররা। সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে দারুণ এক জয় তুলে নিয়ে এই ঐতিহাসিক কীর্তি গড়ল মিরাজের নেতৃত্বাধীন দল।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) মিরপুরে বৃষ্টি-বিঘ্নিত ম্যাচে ৪২ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৮৭ রান সংগ্রহ করেছে অস্ট্রেলিয়া। তবে ডিএলএস মেথডে ওভার কমে ৪১ ওভারে স্বাগতিকদের লক্ষ্য দাঁড়ায় ১৯২ রান। জবাবে ব্যাটারদের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে ৩৬ বল ও ৫ উইকেট হাতে রেখেই জয়ের বন্দরে নোঙর করে টাইগাররা৷ এই জয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই ২-০ ব্যবধানে ওয়ানডে সিরিজ জিতল বাংলাদেশ৷ 

লক্ষ্য তাড়ায় তানজিদ হাসান তামিম ও সৌম্য সরকারের শুরুটা ভালো হয়নি, প্রথম ওভারেই স্বাগতিক শিবিরে ধাক্কা দেয় অস্ট্রেলিয়া। ২ বল মোকাবিলায় কোনো রান না করেই সাজঘরে ফেরেন তানজিদ, তাকে ফেরান জাভিয়ের বার্টলেট।

শুরুর এই ধাক্কা সামলে দলকে এগিয়ে নেন সৌম্য ও তিন নম্বরে নামা নাজমুল শান্ত। দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে ইনিংসকে স্থিতিশীলতা দেন দুজনই। তাদের সামনে ব্যক্তিগত ফিফটির সম্ভাবনা তৈরি হলেও, শেষ পর্যন্ত কেউই সেই মাইলফলক ছুঁতে পারেননি।

দলীয় ৮৬ রানে ৪৭ বলে ৪২ রান করে আউট হন সৌম্য। তার কিছুক্ষণ পরেই বিদায় নেন শান্ত, ৫৩ বলে ৪২ রান করেন তিনি। এরপর চার নম্বরে নেমে লিটন দাস কিছুটা আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের ইঙ্গিত দিলেও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। ১৮ বলে ২১ রান করে দলীয় ১২২ রানে দলের লিটন ফিরলে আবারও চাপে পড়ে বাংলাদেশ।

একপ্রান্তে স্থির থেকে দায়িত্বশীল ইনিংস খেলেছেন তাওহীদ হৃদয়। অন্যদিকে ছয় নম্বরে নেমে মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতও দ্রুত রান তোলার চেষ্টা করেন। তবে সেই ইনিংস বড় করতে পারেননি মোসাদ্দেক। ১৪ বলে ১৫ রান করে ফিরলে ফের চাপে পড়ে যায় বাংলাদেশ। তবে ঠান্ডা মাথায় বাকি পথটা পাড়ি দেন হৃদয়-মিরাজ। এতে ৬ ওভার ও ৫ উইকেট বাকি থাকতেই সিরিজ নিশ্চিত হয় বাংলাদেশের। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে একটি করে উইকেট শিকার করেন রিলে মেরেডিথ, জাভিয়ের বার্টলেট, ক্যামেরন গ্রিন, অ্যাডাম জাম্পা এবং ম্যাট রেনশ।

এর আগে, ব্যাটিংয়ে নেমে ইনিংসের শুরুতেই একের পর এক ধাক্কা খায় অস্ট্রেলিয়া। শুরুতেই প্রথম আঘাত হানেন তাসকিন আহমেদ। আগের ম্যাচের ধারাবাহিকতা ধরে রেখে এবারও ম্যাথু শর্টকে শূন্য রানে বোল্ড করেন তিনি। মাত্র চতুর্থ বলেই ভেঙে যায় অস্ট্রেলিয়ার ওপেনিং জুটি।

দ্বিতীয় ওভারের প্রথম বলেই কুপার কনোলিকে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিতে বাধ্য করেন মোস্তাফিজুর রহমান। ফলে কোনো রান যোগ হওয়ার আগেই দ্বিতীয় উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া। চাপ আরও বাড়ান মুস্তাফিজই। পরের ওভারের প্রথম বলেই আউট হন ম্যাট রেনশ। শুরুতে আম্পায়ার আউট না দিলেও বাংলাদেশ রিভিউ নিলে সিদ্ধান্ত বদলে যায় এবং রেনশ শূন্য রানে ফেরেন।

সবচেয়ে বড় ধাক্কাটি আসে কেরির বিদায়ে সপ্তম ওভারে। মুস্তাফিজের করা একটি বল অফ স্ট্যাম্পের বাইরে শর্ট ও ওয়াইড লেংথে পড়ে বাড়তি বাউন্স নেয়। কেরি সোজা ব্যাট চালিয়ে গ্যাপ খুঁজতে গিয়ে পয়েন্টে থাকা নাজমুল শান্তর হাতে ক্যাচ তুলে দেন। ফেরার আগে ১৭ বলে ১৩ রানের মন্থর এক ইনিংস সাজান।

মাঝে জস ইংলিস ও ক্যামেরন গ্রিন মিলে একটি সম্ভাবনাময় জুটিতে ম্যাচে ফেরার ইঙ্গিত দিচ্ছিলেন। কিন্তু ঠিক সেই সময়ই আক্রমণে এসে ব্রেকথ্রু এনে দেন তানভীর আহমেদ। সেট হয়ে ওঠা ইংলিসকে আউট করে ম্যাচের গতি আবারও বাংলাদেশের দিকে ফিরিয়ে আনেন। ৩৮ বলে ৩৪ রানের ইনিংস খেলেই ফেরেন অজিদের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক। পরের উইকেট নিতেও বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি তানভিরের, আগের ম্যাচে ফিফটি করা ক্যামেরন গ্রিনকেও ফিরিয়ে দেন এই স্পিনার। ২ ছক্কা ও এক বাউন্ডারিতে ৫০ বলে ২৫ রান করেন এই ব্যাটার।

গ্রিনের বিদায়ের পর অস্ট্রেলিয়া যেন দিশাহারা হয়ে পড়েছিল। সে সময়ে সফরকারীদের দুইশো রান করাও নিয়েও শঙ্কা জেগেছিল। তবে সেই চাপের মুহূর্তে দায়িত্ব তুলে নেন বার্টলেট ও মার্নাস লাবুশেন। দেখেশুনে খেলে দুজনেই ফিফটিতে তুলে নেন। এই জুটির একশোও পেরিয়ে যায় একপর্যায়ে।

তবে সেই জুটি আর বড় হতে দেননি তাসকিন আহমেদ। ৪৮ বলে ৫২ রান করা বার্টলেটকে বোল্ড করে ভাঙেন জুটি। এরপর নতুন ব্যাটার অ্যাডাম জাম্পাও এক বলের বেশি টিকতে পারেননি, তাসকিনের পরের বলে তিনিও বোল্ড হয়ে ফেরেন। এর কিছুক্ষণ পর হঠাৎ করেই বৃষ্টি নেমে আসে। এতে দ্রুতই পিচ ঢেকে ফেলা হয় কাভারে। বৃষ্টি খুব বেশি জোরে না হলেও খেলা চালিয়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি ছিল না। মাঝে কিছু সময় বৃষ্টি থাকলে মাঠে প্রস্তুতির কাজে নেমেছিলেন মাঠকর্মীরা। তবে আবারও হঠাৎ করে নেমে আসে প্রাকৃতিক এই নিয়ামকের বাধা। 

এবার অবশ্য বৃষ্টির বেগ অনেক বেশি ছিল। প্রায় এক ঘণ্টার বেশি সময় ধরে চলা বৃষ্টি একপর্যায়ে থামলেও আর মাঠে নামা হয়ে উঠেনি সফরকারীদের। ৪২ ওভার শেষে অজিদের সংগ্রহ ছিল ৮ উইকেটে ১৮৭ রান। পরে বৃষ্টি-আইনে বাংলাদেশের লক্ষ্য দাঁড়ায় ৪১ ওভারে ১৯২ রান। বাংলাদেশের হয়ে তাসকিন আহমেদ ও মোস্তাফিজুর রহমান তিনটি করে উইকেট নেন, তানভীর ইসলাম নেন দুই উইকেট।

গাইবান্ধায় বিএনপি-জামায়াতের ধাওয়া পাল্টাধাওয়া, ককটেল বিস্ফ…
  • ১১ জুন ২০২৬
সীমান্তে পুশ-ইন ঠেকাতে রাত জেগে বিজিবি-গ্রামবাসীর যৌথ পাহারা
  • ১১ জুন ২০২৬
কারিগরি শিক্ষকদের মে মাসের বেতনের চেক ছাড়
  • ১১ জুন ২০২৬
কাফনের কাপড় বেঁধে আ.লীগ-ছাত্রলীগের মিছিল
  • ১১ জুন ২০২৬
ট্রান্সফরমারের জন্য ৬৭ হাজার টাকা দাবি বিদ্যুৎ বিভাগের, দি…
  • ১১ জুন ২০২৬
অস্ট্রেলিয়াকে সিরিজ হারিয়ে ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ
  • ১১ জুন ২০২৬
×