লিটন দাস © সংগৃহীত
বিপিএলের দ্বাদশ আসরের এলিমিনেটর ম্যাচে নাটকীয় এক জয়ে শেষ হাসি হেসেছে সিলেট টাইটান্স। লো স্কোরিং ম্যাচ হলেও উত্তেজনার কোনো ঘাটতি ছিল না। মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে ইনিংসের একেবারে শেষ বলে ছক্কা হাঁকিয়ে সিলেটের জয় নিশ্চিত করেন ক্রিস ওকস, আর সেই সঙ্গে টুর্নামেন্ট শেষ হয়ে যায় রংপুর রাইডার্সের।
এমন হৃদয়ভাঙা হারের পর রংপুর শিবিরে হতাশা যে ভর করবে, সেটাই স্বাভাবিক। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে রংপুরের অধিনায়ক লিটন দাসও সেটিই অকপটে স্বীকার করলেন। শেষ বল পর্যন্ত লড়াই করে হার মানার কষ্ট যে কতটা গভীর, তার কথায়ও তা স্পষ্ট ছিল।
সেই মুহূর্তে টাইগারদের টি-টোয়েন্টি দলপতির মনে পুরোনো এক তিক্ত স্মৃতিও উঁকি দেওয়াই স্বাভাবিক। নিদাহাস ট্রফিতে বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচে শেষ বলে ৫ রান ডিফেন্ড করতে না পারার সেই রাতের কথা আবারও মনে পড়েছে ক্ল্যাসিক এই ব্যাটারের। সেবার দিনেশ কার্তিকের এক ছক্কায় স্বপ্নভঙ্গ হয়েছিল টাইগারদের। ইতিহাসের সঙ্গে যেন আবারও সেই মিলই খুঁজে পেলেন লিটন; শেষ বলে ছক্কা, আর এর বিপরীতে অসহায় পরাজয়।
সেই দুঃস্মৃতি টেনে লিটনের ভাষ্য, শেষ বলে ছক্কা দেখে আমার নিদাহাস ট্রফির কথাটা মনে পড়ে গেছে। সেইম কাভারের ওপর দিয়ে ছয়। ঠিক আছে... এটাই ক্রিকেট, এভাবেই জীবন চলে। আপস অ্যান্ড ডাউনস থাকবে। জিততে পারলে তো ভালো হতো। এখন পারি নাই, কিছু করার নাই।
এদিকে চলমান বিপিএলে কাগজে-কলমে হট ফেভারিট ছিল তিস্তার পাড়ের দলটি। আসরের শুরুর দিকে নিজেদের শক্তিমত্তার বার্তা দিলেও মাঝপথে হোঁচট খায় তারা। সেই ধাক্কা সামলে প্লে-অফে জায়গা করলেও গত বেশক'টি আসরের মতোই ফাইনালে উঠার স্বপ্নভঙ্গ হয় রংপুরের।
এ নিয়ে লিটন বলেন, দুই দিন আগে একজন মনে হয় প্রশ্ন করছিলেন কাগজে-কলমে আমরা অনেক ভালো দল। ক্রিকেট কাগজ-কলমের থেকে বেশি ২২ গজে আপনি কতটা দিতে পারছেন।
রংপুর দলপতি এ-ও স্পষ্ট করলেন, কাগজে-কলমে আমাদের ব্যাটিং-বোলিং ভালো, ফিল্ডিং খারাপ। ম্যাক্সিমাম ম্যাচেই ফিল্ডিং অনেকটা আমাদের ভুগিয়েছে। আজকের দিনেও দেখবেন আমরা অনেকগুলা এক্সট্রা রান দিয়েছি, আমাদের হাত থেকে রান নিয়ে নিয়েছে। তাই যখন লো স্কোর করবেন তখন আপনার ফিল্ডিং ইউনিটটা অনেক জরুরি।