বাংলাদেশ সরকারের লোগো © টিডিসি সম্পাদিত
আইসিটি অধিদপ্তরে অফিস সহায়ক পদে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও দীর্ঘদিন ধরে নিয়োগের অপেক্ষায় রয়েছেন প্যানেল প্রত্যাশীরা। তাদের দাবি, নিয়োগপ্রাপ্তদের যোগদানের পরও শতাধিক পদ শূন্য রয়েছে। বারবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও আশ্বাস পেয়েও নিয়োগের অগ্রগতি না হওয়ায় আশাহত হয়েছেন তারা। অপেক্ষমাণ প্যানেল প্রত্যাশীদের প্রশ্ন— ‘আমাদের এই নীরব কান্না শোনার কি কেউ নেই?’
গত বছরের ১৪ আগস্ট তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তরের রাজস্ব খাতভুক্ত শূন্য পদে জনবল নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে অফিস সহায়ক পদে ৪৯৭ জন নিয়োগের কথা জানানো হয়েছিল। লিখিত পরীক্ষা ও মৌখিক পরীক্ষা শেষে চলতি বছর ৪৯৭ জনকে চূড়ান্তভাবে সুপারিশ করা হয়। তাদের মধ্যে ৪৪৩ জন চাকরিতে যোগদান করেন। পরে কয়েকজনের পদত্যাগসহ বিভিন্ন কারণে আরও কিছু পদ শূন্য হয়। প্যানেল প্রত্যাশীদের দাবি, সর্বশেষ পাওয়া তথ্যমতে, অধিদপ্তরে এখনো ১১৫টি পদ শূন্য রয়েছে। এসব পদে প্যানেল থেকে নিয়োগ দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছেন তারা।
প্যানেল প্রত্যাশীরা জানান, নিয়োগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী, সচিব ও মহাপরিচালকের কাছে একাধিকবার লিখিত আবেদন জানিয়েছেন তারা। কেউ কেউ মহাপরিচালকের সঙ্গে সরাসরি কথা বললেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি। দীর্ঘদিন অপেক্ষা করেও নিয়োগের বিষয়ে নিশ্চিত কোনো সিদ্ধান্ত না পাওয়ায় অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে তাদের।
গত ১ অক্টোবর আগারগাঁওয়ের আইসিটি টাওয়ারের সামনে ‘অফিস সহায়ক প্যানেল প্রত্যাশীগণ’ ব্যানারে মানববন্ধন করেন চাকরিপ্রার্থীরা। দ্রুত নিয়োগের আশ্বাস পাওয়ার পর তারা কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন। তবে এরপরও নিয়োগের বিষয়ে কার্যকর অগ্রগতি না হওয়ায় তাদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে।
এ বিষয়ে প্যানেল প্রত্যাশী উমর ফারুক বলেন, ‘প্রায় ৫০০টি পদের নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ হলেও এখনো প্রায় ১৩০টির মতো পদ সম্পূর্ণ শূন্য। ১১ মাস পার হয়ে গেলেও প্যানেল কার্যকরের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।’ তিনি বলেন, চাকরির অপেক্ষায় থাকা প্রার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন।
আরেক প্যানেল প্রত্যাশী শাহ আলম বলেন, দেশের অন্যান্য সরকারি দপ্তরে শূন্য পদ পূরণে প্যানেল থেকে একাধিকবার নিয়োগ দেওয়ার নজির রয়েছে। কোনো কোনো দপ্তরে দুই থেকে তিনবারও প্যানেল ব্যবহার করা হয়েছে। তাহলে আইসিটি অধিদপ্তরের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম কেন?
তিনি বলেন, সরকারি চাকরি তাদের অনেকের পরিবারের আর্থিক নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ অবলম্বন। দীর্ঘ ১১ মাস ধরে নিয়োগের অপেক্ষায় থাকতে থাকতে তারা মানসিক চাপ ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। দ্রুত শূন্য পদগুলোতে প্যানেল থেকে নিয়োগ দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাই।
সরকারের কাছে দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের এই নীরব কান্না শোনার কি কেউ নেই? সরকারের কাছে আমার দাবি অতি দ্রুত যেন আমাদের এই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।’
এদিকে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন মহাপরিচালক মো. আবু সাঈদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমন্বয় সভায় শূন্য পদের তথ্য হালনাগাদ এবং সেসব পদ দ্রুত পূরণের বিষয়টি অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয় বলে জানা গেছে। তবে প্যানেল প্রত্যাশীদের দাবি, ওই আলোচনা অনুযায়ী এখনো নিয়োগের দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তরের উপপরিচালক (প্রশাসন) মো. আরিফুর রহমানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মন্তব্য পাওয়া যায়নি।