বাবা ও সন্তানের ভালোবাসা © টিডিসি সম্পাদিত
আজ বিশ্ব বাবা দিবস। প্রতি বছর জুন মাসের তৃতীয় রবিবার বিশ্ব বাবা দিবস উদযাপিত হয়। সন্তানের জীবনে বাবার নিঃস্বার্থ ভালোবাসা, ত্যাগ ও দায়িত্ববোধের প্রতি সম্মান জানাতেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশেও অত্যন্ত আনন্দের সাথে এই বিশেষ দিনটি পালন করা হয়।
বাবা শুধু পরিবারের উপার্জনকারী নন; তিনি সন্তানের প্রথম শিক্ষক, পরামর্শদাতা এবং জীবনের কঠিন পথচলার অন্যতম পথপ্রদর্শক। সন্তানের শিক্ষা, নৈতিকতা, আত্মবিশ্বাস ও ব্যক্তিত্ব গঠনে বাবার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জীবনের নানা সংকটে একজন বাবাই হয়ে ওঠেন সন্তানের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য আশ্রয়।
বাবা দিবসের ইতিহাস
বিশ্ব বাবা দিবসের সূচনা যুক্তরাষ্ট্রে। বাবা দিবসকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দিতে অগ্রণী ভূমিকা রয়েছে সনোরা স্মার্ট ডড নামে এক নারীর। ১৯০৯ সালের আগে ওয়াশিংটনে বাবা দিবস বলে কোনো বিশেষ দিন ছিল না। ওই সময় স্থানীয় গির্জায় ডড মা দিবস পালনের কথা শোনেন। মা দিবস পালনের রীতি রয়েছে কিন্তু বাবা দিবস পালনের রীতি নেই জেনে তিনি ভীষণ অবাক হন।
তারপর তিনি বাবা দিবসের স্বীকৃতির জন্য সোচ্চার হয়ে ওঠেন। ডড তার বাবাকে অসম্ভব ভালোবাসতেন। মা ছিল না তার। মায়ের মৃত্যুর পর শত দুঃখ-কষ্টের মধ্যে থেকেও তাদের সাত ভাইবোনকে বড় করে তুলেছিলেন তাদের সিঙ্গেল বাবা। বাবার এই ত্যাগ দেখে ডডের মনে হলো, মা দিবসের এত আয়োজন হলে বাবা দিবস কেন বাদ থাকবে। বাবাকে সম্মান জানানোর জন্যও একটা দিন থাকা দরকার।
তারপর অনেক চেষ্টা করে দীর্ঘ এক বছরের সাধনায় স্থানীয় কমিউনিটিগুলোতে বাবা দিবস পালন করতে পারেন ডড। ১৯১০ সালের ১৯ জুন বিশ্বে প্রথমবারের মতো পালিত হয় বাবা দিবস। এরপর ধীরে ধীরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দিবসটি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। বর্তমানে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বহু দেশে জুন মাসের তৃতীয় রবিবার বাবা দিবস পালিত হয়।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশে ৫ ধরনের ক্যান্সার দ্রুত বাড়ছে, নেপথ্যে যেসব কারণ
বাবার ভালোবাসার গভীরতা সহজে বোঝা যায় না
অনেক সময় বাবার ভালোবাসা চোখে পড়ে না। কারণ, তিনি আবেগের চেয়ে দায়িত্বকে বেশি গুরুত্ব দেন। সংসারের চাপ, সন্তানের পড়াশোনা, পরিবারের নিরাপত্তা সবকিছুর ভার কাঁধে নিয়ে এগিয়ে চলেন তিনি।
সন্তান যখন ঘুমিয়ে থাকে, তখনও বাবা তার ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবেন। নিজের ইচ্ছা-স্বপ্ন অনেক সময় বিসর্জন দেন সন্তানের স্বপ্ন পূরণের জন্য। তাই বাবার ভালোবাসা অনেকটা বিশাল বটগাছের মতো যার ছায়া সব সময় অনুভব করা যায়, কিন্তু যার শিকড়ের গভীরতা সহজে বোঝা যায় না।
কেন গুরুত্বপূর্ণ বাবা দিবস
ব্যস্ত জীবনে আমরা অনেক সময় বাবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে ভুলে যাই। অথচ একটি ছোট্ট ‘ধন্যবাদ’, একটি ফোনকল কিংবা কিছু সময় একসঙ্গে কাটানোও তার মুখে এনে দিতে পারে তৃপ্তির হাসি। বাবা দিবস শুধু উপহার দেয়ার দিন নয়, এটি সম্পর্কের উষ্ণতা ফিরিয়ে আনার একটি উপলক্ষ।
আজকের দিনটি বাবার জন্য কী করতে পারেন
বাবার সঙ্গে কিছু সময় কাটান। তার পছন্দের খাবার বা ছোট কোনো উপহার দিন। পুরনো স্মৃতিগুলো নিয়ে গল্প করুন। দূরে থাকলে ফোন বা ভিডিও কলে কথা বলুন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, তাকে বলুন ‘তোমাকে ভালোবাসি, বাবা।’
বাবা এমন একজন মানুষ, যিনি সন্তানের সফলতায় সবচেয়ে বেশি আনন্দ পান, অথচ নিজের কষ্টের কথা সবচেয়ে কম বলেন। একজন বাবা শুধু পরিবারের অভিভাবক নন, তিনি সন্তানের জীবনের প্রথম নায়ক, প্রথম ভরসা এবং আজীবনের নিরাপদ আশ্রয়।