সুশাসনের জন্য নাগরিক- সুজন © টিডিসি ফটো
বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল 'এখন টিভি'র চারজন সাংবাদিককে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদানের সংবাদে নাগরিক সংগঠন 'সুজন-সুশাসনের জন্য নাগরিক' গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সংগঠনটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বিচারপতি মো. আব্দুল মতিন এবং সম্পাদক ও প্রধান নির্বাহী ড. বদিউল আলম মজুমদার স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
বিবৃতিতে সুজন-এর নেতৃবৃন্দ বলেন, আমরা জানতে পেরেছি, সংস্কার ও গণভোটের পক্ষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্বাধীনভাবে মতামত প্রকাশ করায় এখন টিভি চারজন সাংবাদিককে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করেছে এবং সাতদিনের জন্য কর্মবিরতিতে যেতে বাধ্য করা হয়েছে। এমনকি নিরাপত্তা প্রহরীদেরকে তাদের ছবি দেখিয়ে এখন টিভির কার্যালয়ে তাদের প্রবেশাধিকার ঠেকানোরও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, আমরা আরও জানতে পেরেছি যে, কারণ দর্শানোর চিঠিতে ফেসবুক পোস্টের কথা উল্লেখ রয়েছে। নোটিশে লেখা রয়েছে, 'পোস্ট মুছে ফেলুন, অন্যথায় টিভি এবং সাংবাদিকরা সমস্যায় পড়বেন।' কিন্তু আমাদের প্রশ্ন, কর্মরত কোনো সাংবাদিকের মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর এখন টিভি কর্তৃপক্ষ কোনো সেন্সরশিপ আরোপ করতে পারে কি-না?
‘সুশাসনের জন্য নাগরিক’-এর নেতৃবৃন্দ বিবৃতিতে আরও বলেন, আমরা মনে করি, প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খল্য সংক্রান্ত বিষয়গুলো স্বচ্ছ, লিখিত ও ন্যায্য পদ্ধতির মাধ্যমে পরিচালিত হওয়া দরকার। প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলার নামে ব্যক্তির মতপ্রকাশের অধিকার ক্ষুণ্ন করা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক।
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, আমরা মনে করি, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান্যেত্তর পরবর্তী প্রেক্ষাপটে এভাবে সাংবাদিকদের পেশাগত ঝুঁকি তৈরি করা এবং স্বাধীন মতপ্রকাশে হস্তক্ষেপ কোনোভাবেই কাম্য নয়। এ ধরনের ঘটনা স্পষ্টভাবেই ব্যক্তির মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও মুক্ত গণমাধ্যম গড়ে তোলার চেতনার পরিপন্থি।
এছাড়া বিবৃতির মাধ্যমে ‘সুজন-সুশাসনের জন্য নাগরিক’-এর পক্ষ থেকে এখন টিভির মালিক এবং সম্পাদকদের অবিলম্বে সাংবাদিকদের প্রতি নেওয়া পদক্ষেপের ভিত্তি ও নীতিমালা স্পষ্ট করার অনুরোধ জানানো হয় এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিষয়টির যৌক্তিক সমাধান করে সাংবাদিকদেরকে সংবাদ কক্ষে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার জন্য মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সবার হস্তক্ষেপ প্রত্যাশা করা হয়।