শাহজালাল বিমানবন্দরের আগুন নেভাতে ২৬ ঘণ্টা, ৫ কারণ জানাল ফায়ার সার্ভিস

১৯ অক্টোবর ২০২৫, ০৭:৫৪ PM
সংবাদ সম্মেলনে ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তাজুল ইসলাম

সংবাদ সম্মেলনে ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তাজুল ইসলাম © সংগৃহীত

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে লাগা ভয়াবহ আগুন নেভাতে প্রায় সাড়ে ২৬ ঘণ্টা সময় লেগেছে। আগুন নেভাতে এত দীর্ঘ সময় লাগার ৫ কারণ জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স। রবিবার (১৯ অক্টোবর) বিকেলে কার্গো ভিলেজ এলাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে কারণগুলো তুলে ধরেন ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স) লেফটেন্যান্ট কর্নেল তাজুল ইসলাম চৌধুরী। 

তিনি বলেন, প্রথমত উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ দাহ্য বস্তুর (কম্বাস্টিবল ম্যাটেরিয়াল) আধিক্য, দ্বিতীয়ত স্টিল স্ট্রাকচারের তাপ শোষণ, তৃতীয়ত অপরিষ্কার ও গাদাগাদি পরিবেশ, চতুর্থত অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি এবং সর্বশেষ ছোট ছোট স্টিলের স্ট্রাকচার কেটে ভেতরে প্রবেশ করায় আগুন নেভাতে বেগ পেতে হয়।

শনিবার (১৮ অক্টোবর) দুপুর আড়াইটার দিকে লাগা আগুন নিয়ন্ত্রণে নিতে সময় লাগে প্রায় ৭ ঘণ্টা আর পুরোপুরি নেভাতে সময় লাগে সাড়ে ২৬ ঘণ্টা। আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ৩৭টি ইউনিট একযোগে কাজ করেছে।

তাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘কার্গো ভিলেজের কাস্টমস হাউসের অংশ এবং এর সামনের অংশগুলোতে অনেক কম্বাসেবল ম্যাটারিয়াল (দাহ্য পদার্থ) ছিল। অর্থাৎ, সেখানে উচ্চমাত্রার দাহ্য বস্তু মজুত ছিল, যার লোড ছিল অনেক বেশি। এই অতিরিক্ত দাহ্য পদার্থ থাকার কারণেই আগুন নেভাতে দীর্ঘ সময় লেগেছে। স্টিলের স্ট্রাকচারের ইস্যুটা অনেক বেশি, এরা অনেক হিট অ্যাবজর্ব (তাপ শোষণ) করেছে এবং এখনো হিট রিলিজ করছে।’

তিনি বলেন, ‘এই উচ্চ তাপমাত্রার কারণে আগুন পুরোপুরি নিভতে বিলম্ব হয়। কার্গো কমপ্লেক্সের ভেতরের পরিবেশ ছিল অত্যন্ত কনজাস্টেড (গাদাগাদি) ও ন্যারো (সরু)। এছাড়া, ভেতরে ছোট ছোট কম্পার্টমেন্ট বা ঘরের মতো করে ভাগ করা ছিল। এর ফলে ফায়ার ফাইটারদের পক্ষে ভেতরে প্রবেশ করা এবং আগুন নেভানোর কাজ করা কঠিন হয়ে পড়ে। কনফাইনড স্পেস (সীমাবদ্ধ স্থান) ও কম্বাসেবল ম্যাটারিয়াল (দাহ্য পদার্থ) থাকায় বিভিন্ন ফায়ার হুক দিয়ে ধীরে ধীরে এটাকে নির্বাপণ করা হয়েছে। এ জন্য সময় লেগেছে।’

ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, কার্গো ভিলেজে অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি ছিল। অ্যাকটিভ (যেমন- ফায়ার অ্যালার্ম, ডিটেকশন সিস্টেম) অথবা প্যাসিভ (যেমন- স্বয়ংক্রিয় প্রটেকশন সিস্টেম বা স্প্রিংকলার) কোনো ধরনের ডিটেকশন ও প্রটেকশন সিস্টেমই সেখানে ছিল না।

এ বিষয়ে তাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘এ ধরনের কোনো বিষয় আমরা এখানে পাইনি। যার কারণে আমাদেরও বেগ পেতে হচ্ছে।’

অগ্নিকাণ্ডে কোনো হতাহতের খবর আছে কিনা- জানতে চাইলে ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তরের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘এ ঘটনায় ফায়ার সার্ভিসের দুজন সদস্য ও আনসার বাহিনীর কয়েকজন সদস্য আহত হয়েছেন।’

আগুনে অবকাঠামোগত ক্ষতির বিষয়ে জানতে চাইলে তাজুল ইসলাম বলেন, ‘বেশি তাপমাত্রা থাকার কারণে ভবনটি অবশ্যই ঝুঁকিপূর্ণ। বেশ কিছু স্থানে ফাটল ধরেছে। কলামেও ফাটল দেখা গেছে। এ বিষয়ে ভবন কর্তৃপক্ষকে জরিপ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, ভেতরে থাকা ওষুধ ও বিভিন্ন বাই-প্রোডাক্ট থেকে কেমিক্যাল এজেন্ট তৈরি হওয়ায় কিছুটা পরিবেশগত ক্ষতির আশঙ্কা থাকলেও, মিরপুরের কেমিক্যাল গোডাউনের মতো এতটা তেজস্ক্রিয়তা বা বড় ধরনের প্রভাব নেই।’

পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব পিডিবির, ভোক…
  • ২১ মে ২০২৬
দাদা-দাদির কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত হলো রামিসা
  • ২১ মে ২০২৬
নির্মাণ শ্রমিক কর্তৃক নারী শিক্ষার্থী হেনস্তা, নোবিপ্রবিতে …
  • ২১ মে ২০২৬
পশুর হাটের ইজারা নিয়ে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষে বন্ধ ইজারা কার…
  • ২১ মে ২০২৬
আফ্রিকায় ছড়িয়ে পড়া ইবোলা ভাইরাসের বৈশ্বিক ঝুঁকি কতখানি?
  • ২১ মে ২০২৬
সম্পত্তি বুঝিয়ে না দেওয়াতে ভাইয়ের জানাজায় বাধা দিল বোনেরা
  • ২১ মে ২০২৬
×
ADMISSION
GOING ON
SPRING 2026
APPLY ONLINE
UP TO 100% SCHOLARSHIP
UNIVERSITY OF ASIA PACIFIC 🌐 www.uap.ac.bd
Last Date of Application:
21 June, 2026
📞
01789050383
01714088321
01768544208
01731681081