জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল © সংগৃহীত
রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল থেকে ৫২ জন জুলাই যোদ্ধা ইতোমধ্যে হাসপাতাল ছেড়ে গেছেন। তবে বর্তমানে আরও তিনজন প্রতিনিধি হাসপাতালে অবস্থান করছেন এবং তারা ভবনের চতুর্থ তলায় ভেতর থেকে তালা লাগিয়ে অবস্থান নিয়েছেন বলে জানা গেছে। তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও সম্ভব হয়নি।
মঙ্গলবারও (১০ জুন) হাসপাতালে কেবল জরুরি বিভাগ খোলা ছিল, অন্য সব বিভাগ ছিল বন্ধ। এতে রোগী ভর্তি, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও অস্ত্রোপচারসহ সকল নিয়মিত চিকিৎসা কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের অনেকেই চিকিৎসা না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন। যদিও জরুরি বিভাগের মাধ্যমে সীমিত সংখ্যক রোগীকে সেবা দেওয়া হচ্ছে, তবুও প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা মিলছে না।
হাসপাতালের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, গত ২৮ মে থেকে পুরো চিকিৎসা কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। প্রায় এক সপ্তাহ পর জরুরি বিভাগ চালু হলেও অন্য বিভাগগুলো এখনও বন্ধই রয়েছে।
চোখের চিকিৎসা নিতে আসা কুমিল্লার দেবীদ্বারের বাসিন্দা আবদুল মান্নান জানান, তার ডান চোখে টান পড়ার পাশাপাশি তীব্র ব্যথায় মুখ বাঁকা হয়ে আসে। কিন্তু জরুরি বিভাগ থেকেও কোনো চিকিৎসা পাননি।
জরুরি বিভাগের নার্সরা জানিয়েছেন, একান্ত প্রয়োজন ছাড়া অন্য রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না, ফলে অনেক রোগীকেই চিকিৎসা ছাড়াই ফিরে যেতে হচ্ছে। পুরো হাসপাতাল সচল হলে সকল রোগী যথাযথ সেবা পাবেন।
জুলাই যোদ্ধা রোহান মাহমুদ বলেন, ‘ঈদের ছুটিতে বাড়ি এসেছি, দু-একদিনের মধ্যেই আবার হাসপাতালে ফিরব। আমার মতো আরও অনেক আহত ব্যক্তি ফের হাসপাতালে ফিরবেন। উন্নত চিকিৎসার জন্য সাতজনের একটি তালিকা তৈরি হয়েছে, বাকিদেরও বিদেশে পাঠাতে হবে।’
হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. জানে আলম জানান, জরুরি বিভাগ চালু আছে এবং মঙ্গলবার ৬৬ জন রোগীকে সেবা দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে আটটি জরুরি অস্ত্রোপচার অন্তর্ভুক্ত। আমরা চেষ্টা করছি শনিবার থেকে সব ধরনের সেবা আবার চালু করতে।
তিনি আরও জানান, আহত রোগীরা বিশেষায়িত ওয়ার্ডের ফটকে তালা দিয়ে অবস্থান করছেন এবং পাঁচজনের জন্য খাবার নিয়েছেন।