সোহরাওয়ার্দী কলেজ বাসে ছাত্রীদের আসনে ছাত্ররা, নিয়ম ভাঙার অভিযোগ © টিডিসি সম্পাদিত
রাজধানীর সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের জন্য ব্যবহৃত ২টি বাস শহীদ আব্দুল্লাহ ও মুক্তি এর মধ্যে মুক্তি বাসে নির্ধারিত আসন ব্যবস্থার নিয়ম অমান্য করার অভিযোগ উঠেছে কলেজটির একদল শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) অভিযোগ সূত্র থেকে জানা যায়, বাসটির নিচতলা মেয়েদের এবং দ্বিতীয় তলা ছেলেদের জন্য নির্ধারিত থাকলেও নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে নিচতলার মেয়েদের জন্য বরাদ্দ সিটগুলোতে ছেলেরা বসে থাকে।
এছাড়াও তাদের মধ্যে একটি দল আগের মুক্তি বাসের ড্রাইভার নিচ তলায় ছেলেদের বসা নিষেধসহ কোনো অনিয়ম হলে বাধা দিত বলে অধ্যক্ষের কাছে সেই ড্রাইভারের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে তাকে সরিয়ে দিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
শিক্ষার্থীদের দাবি, বাসে নারী-পুরুষের জন্য আসন নির্ধারণ করা হয়ে থাকলে তা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে নিয়ম ভঙ্গকারীদের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয় রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মো. ইয়াছিন বলেন, আমি মুক্তি বাসে নিয়মিত যাতায়াত না করলেও এই বাসের আইনকানুন সম্পর্কে জানি, যেখানে স্পষ্ট বলে দেওয়া হয়েছে মেয়েরা নিচ তলায় এবং ছেলেরা উপরের তলায় বসবে। কিন্তু আজকে বাসে উঠে শুরুতে দেখলাম কয়েকজন ছেলে নিচে বসে মেয়েদের সাথে আলাপচারিতা ব্যস্ত পরে আমি সরাসরি বাসের দ্বিতীয় তলায় চলে যাই।
তিনি আরও বলেন, এই বাসে উপস্থিত কয়েকজন শিক্ষার্থীর সাথে আমি কথা বলি। তাদের ভাষ্য মতে এই ছেলেমেয়েরা প্রায়ই এমন করে তাছাড়া আরও কয়েকটি ছেলে মেয়ের কথা উল্লেখ তারা বলেন এই বাসে আরও কয়েকজন আছে তাদের বাধা দিলে উল্টো তারা আমাদের উপর চড়াও হয়। তাদের কিছু বলাই যায় না।
কলেজের উচ্চমাধ্যমিক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী জান্নাত ইসলাম আনহা বলেন, অনেক সময় দেখি ওপরের দিকে জায়গা খালি থাকা সত্ত্বেও কিছু ছেলে নিচে বসে থাকে। তাদের ওপরের দিকে যেতে বললেও অনেক সময় তারা যায় না এবং চিৎকার-চেঁচামেচি করে।
এ ছাড়া পেছনের গেটের কাছে যারা দাঁড়িয়ে থাকে, তারাও অনেক সময় চিৎকার-চেঁচামেচি করে নিচের অংশে যেন কোনো ছেলে না থাকে এবং পেছনের গেটে যেন দুইজনের বেশি দাঁড়িয়ে না থাকে। এই বিষয়গুলো একটু দেখলে ভালো হয়। এতে সবার জন্য পরিবেশটা আরও স্বস্তিদায়ক ও সুন্দর থাকবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের এক শিক্ষার্থী জানান, একদিন আমি বাসে উঠে দেখি দুইটা আপু আর একটা ছেলে ওরা তিনজন মিলে একসাথে বসেছে। পরে আমি ভাইদের বলেছি ভাইয়া আপনারা উপরে চলে যান নিচে তো মেয়েরা বসবে এটা নিয়ে যখন আমি তাদের সাথে কথা বলি তখন তারা আমাকে জিজ্ঞেস করে তুমি কোন ইয়ারে পড়, কোন ডিপার্টমেন্টে পড়।
তাদের তখন বলি আমি কিসে পড়ি সেটা সমস্যা না, আমি কোন ডিপার্টমেন্টের সেটাও সমস্যা না। সমস্যা হচ্ছে রুলস মানতে হবে এবং তারা বিরক্ত ভাব দেখায় ও আমাকে বারবার বলে যে তুমি কোন ইয়ারে পড় তাই আমি আর কোনো কথা বাড়ায়নি।
এ বিষয়ে গণিত বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও বাস কমিটির আহ্বায়ক কাজী মোহাম্মদ ওয়াহিদুল্লাহ বলেন, আমি নতুন এসেছি, আমাকে নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তাই এই বিষয়টা আমার জানা নেই। যে অভিযোগগুলো এসেছে সেগুলো লিখিত দিতে হবে। অধ্যক্ষ ম্যাডাম বরাবর অভিযোগ পত্রটি লিখে আমাকে দিলে উনার সাথে কথা বলে আমরা ব্যবস্থা নিতে পারব।