আহত মো. আরাফাত © টিডিসি ফটো
চট্টগ্রাম সরকারি হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজে ফেসবুকে কমেন্ট করাকে কেন্দ্র করে মো. আরাফাত নামে এক ছাত্রদলকর্মীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিবিরকর্মী দাবি করে চারজনের বিরুদ্ধে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী।
আরাফাত কলেজের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী। তাঁর অভিযোগ, গত ৫ আগস্ট দুপুর ১২টার দিকে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে কলেজে আয়োজিত একটি কর্মসূচি চলাকালে বিজ্ঞান ভবন-১-এর সামনে তাঁকে মারধর করা হয়।
আরাফাত জানান, কর্মসূচির মাঝখানে সাদিক আব্দুল্লাহ তাঁকে ইশারায় ডাকেন। পরে বিজ্ঞান ভবনের সামনে গেলে সাদিক আব্দুল্লাহ, আরমান মজুমদার, তাওসিফ রেজা ও আব্দুল্লাহ তামিম তাঁকে মারধর করেন। একপর্যায়ে মারধর করতে করতে তাঁকে কলেজ গেট পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় এক পথচারী ঘটনার ভিডিও ধারণ করলে অভিযুক্তরা তাকে দিয়ে ভিডিওটি মুছে ফেলতে বাধ্য করেন। পরে তাঁকে জোর করে একটি লিখিত স্ক্রিপ্ট পড়িয়ে বক্তব্য দেওয়ানো হয় এবং সেটি ভিডিও করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
মারধরের কারণ সম্পর্কে আরাফাত বলেন, শিবির-সংশ্লিষ্ট একটি ফেসবুক পোস্টে মন্তব্য করে তিনি নিজেকে ছাত্রদলকর্মী হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন। ওই মন্তব্যের জেরেই তাঁকে মারধর করা হয়েছে বলে তাঁর অভিযোগ। এ ছাড়া চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনকে নিয়ে কলেজের একটি গ্রুপে পোস্ট দেওয়াকেও মারধরের আরেকটি কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
জিডি সূত্রে জানা যায়, গত ০৪ আগস্ট ফেসবুকের একটি পোস্টে কমেন্ট করেন আরাফাত। ওই কমেন্টের জের ধরে ০৫ আগস্ট দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে মহসিন কলেজের বিজ্ঞান ভবন-২-এর সামনে তাঁর ওপর হামলা চালানো হয়। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন উক্ত কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী সাদিক আব্দুল্লাহ (২৪), পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের আরমান মজুমদার (২৩) ও তাওসিফ রেজা (২৪) এবং ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ তামিম (২৩)।
এ বিষয়ে মহসিন কলেজ ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘মারধরের পর আমরা আরাফাতকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাই। চিকিৎসক বলেছেন, তাঁর পায়ের অবস্থা খারাপ।’
তবে অভিযুক্তদের শিবিরের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মহসিন কলেজ শিবিরের নেতা ইয়াসিন পারভেজ। তিনি বলেন, মারামারির বিষয়টি শুনেছেন। তবে অভিযুক্ত চারজনের কেউ শিবিরের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন।
অভিযুক্ত আরমান মজুমদার বলেন, ‘ঘটনার বিষয়ে আমি কিছু জানি না।’ শিবিরের সঙ্গে সম্পৃক্ততার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি নিজেকে ‘ক্ষুদ্র সমর্থক’ বলে পরিচয় দেন।
ঘটনার বিষয়ে জানতে মহসিন কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক বেনুয়ারা বেগমের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি এখন ব্যস্ত আছি। এই মুহূর্তে এ বিষয়ে বক্তব্য দেওয়া সম্ভব নয়। প্রয়োজন হলে সরাসরি আসতে পারেন।